নেত্রকোনার মদন উপজেলার ৪নং গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নে চাঁদা না দেওয়ার কারণে গুচ্ছগ্রামের ১১টি পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ায় মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছে, অভিযুক্ত মাসুদ মিয়া (৪০) নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মাসুদ গোবিন্দশ্রী গ্রামের মৃত ফেরদৌস মিয়ার ছেলে।
অভিযোগের আলোকে জানা যায়, গত ১০ নভেম্বর গোবিন্দশ্রী গুচ্ছগ্রামবাসীকে ডেকে বলে মাসুদ, প্রতিটি পরিবারের কাছে থেকে ১৫ শত করে টাকা চাঁদা উঠিয়ে তাকে মোট ৭৫ হাজার টাকা দিতে হবে। ৭৫ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ার কারণে ১১টি পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ নিজেই কেটে দিয়েছে প্রভাবশালী মাসুদ নামের এই ব্যক্তি ।
অভিযোগের আলোকে বুধবার (২৩ নভেম্বর) সরজমিনে গেলে গুচ্ছগ্রাম মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ মৌলা মিয়া (৫০) তিনি বলেন, আমার কাছে মাসুদ ১৫শত টাকা চাঁদা চেয়েছে, আমি বলি গরিব মানুষ ১৫শত টাকা চাঁদা আমি কি করে দিব, এই চাঁদার টাকা না দেওয়ার কারণে ১১টি পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়েছে মাসুদ।
অসহায় গরীব মানুষ বলেই গুচ্ছগ্রামে বসবাস করি আমরা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে এই বাসস্থান করে দিয়েছেন।
আর এখানে এসেও চাঁদা দিতে হবে প্রভাবশালীদের। কোথায় গিয়ে বিচার পাব বলে দুঃখ প্রকাশ করেন, মসজিদ কমিটির সভাপতি।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাসুদ মিয়া ১১টি পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, আমি তাদের কাছে টাকা পাই, তাই বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়েছি।
এ বিষয়ে গোবিন্দশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাইদুল ইসলাম (মামুন) তিনি বলেন, মাসুদ আমার কাছে এসেছিল, গুচ্ছগ্রামের কাজের বাবদ কিছু টাকা পায় আমাকে জানিয়েছে। তাই বলে ১১টি পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা তার ঠিক হয়নি।
চাঁদা না দেওয়ায় ১১টি পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে মদন পল্লী বিদ্যুৎ ডিজিএম মোঃ ফিরোজ হোসেন বলেন, মাসুদ নামের কোন ব্যক্তিকে আমরা চিনি না, সে যদি এ ধরনের অপরাধ করে থাকে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিনা শাহরীন তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। গুচ্ছগ্রামে বিদ্যুতের লোক পাঠানো হয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমজার/আরএএম