নেত্রকোনার মদন উপজেলার ৬ নং তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাগজান গ্রামে গত ১২ নভেম্বর রোজ শনিবার আনুমানিক সকাল নয়টার দিকে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে স্বামী সোহেল মিয়া।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্ত্রী রাবেয়া আক্তার জুঁইকে প্রতিবেশীরা মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ভর্তি করে।
এখন সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে বাগজান গ্রামের সাজু মিয়ার (৫৫) ছেলে সোহেল মিয়া।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাবেয়া আক্তার জুঁইয়ের বড় ভাই রাসেল মিয়া (২৮) বাদী হয়ে, স্বামী সোহেল মিয়াসহ তিন জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ১৩ নভেম্বর রোজ রবিবার নির্যাতিতা নারীর ভাইয়ের করা মামলায় স্বামী সোহেল মিয়াকে মদন থানা পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন।
মামলায় অভিযোগের আলোকে জানা যায়, ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পারিবারিকভাবে গত ২০১৮ সালে বাগজান গ্রামের সাজু মিয়ার ছেলে সোহেল এর সাথে উপজেলা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী হারুন মিয়ার মেয়েকে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আসবাবপত্র দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ দেন। কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বামী সোহেল মিয়া শুরু করে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন। এ ধরনের অত্যাচার সহ্য করে পিতা-মাতার সম্মান রক্ষার্থে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করে তার সংসার করে যাচ্ছে স্ত্রী রাবেয়া আক্তার জুঁই।
গত ১২ নভেম্বর রোজ শনিবার সোহেল মিয়া তার স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে ২ লক্ষ টাকা এনে দেওয়ার জন্য বলে। এতে স্ত্রী রাজি না হওয়ায়, স্বামী সোহেল মিয়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীকে মাথায় এলো পাতাড়ি আঘাত করে, এতে স্ত্রী গুরুতর আহত হলে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভর্তি করেন। মাথায় গুরুতর জখম নিয়ে স্ত্রী রাবেয়া আক্তার জুঁই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে মদন থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ তাওহীদুর রহমান তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, নির্যাতিতা নারীর ভাইয়ের করা মামলায়, অভিযুক্ত স্বামী সোহেল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে, আগামীকালকে আসামিকে নেত্রকোনা জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।