নেত্রকোনার মদন উপজেলায় আগাম জাতের রোপা আমন ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। আগাম জাতের ধানের সোনালী শীষে ভরে গেছে কৃষকের খেত । বাতাসে ঢেউ তুলছে সোনালী ধানের শীষ। ধান কাটা-মাড়াই কাজে কৃষকের পাশাপাশি ব্যস্ততা বেড়েছে দিন মজুরদেরও।
মদন উপজেলা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও ধান উদ্বৃত্ত থানার মধ্যে অন্যতম একটি উপজেলা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমের শুরুতে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে আমন চারা লাগাতে দেরি হলেও পরবর্তী সময়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। এছাড়াও সংসারের খোরাকী, গরুর খাদ্য হিসেবে খড়ের চাহিদা বৃদ্ধি ও ধানের দাম ভালো থাকায় লাভের স্বপ্ন দেখছেন চাষীরা।
মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের কৃষক মোঃ কিরন মিয়া জানান, আগাম জাতের হাইব্রীড ধান কাটা শুরু করে দিয়েছে কৃষক। এসব ধানের ফলনও ভালো পাচ্ছেন। উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের কৃষক ওহাব মিয়া জানান, আগাম ধান প্রতি কাঠায় ৪ থেকে ৫ মন করে ফলন পাচ্ছি। প্রতি মন ধান ১১০০ থেকে ১১৫০ টাকায় বিক্রি করতে পারছি। এতে আমরা খুশি।
তবে কৃষকদের দাবি, নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম যেভাবে বেড়েই চলছে, সেই অনুপাতে ধানের দাম আরেকটু বাড়ালে পরিবার পরিজন নিয়ে কোন রকমে জীবন ধারণ করতে পারবে।
মদন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আগাম জাতের আমন ধান কেটে ওই জমিতে বাড়তি ফসল হিসাবে সরিষা চাষ, আলু, বেগুনসহ শীতকালীন সবজি আবাদ করতে পারবে কৃষকরা। যা পরবর্তী সময়ে বোরো ধান চাষের অর্থের জোগান হয় কৃষকের। তাই প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে আগাম জাতের রোপা আমন ধানের চাষ।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমজার/আরএএম