শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88
**সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ**

>> যুদ্ধাপরাধীদের জায়গা আদালতে, জাতিসংঘের মঞ্চে নয়: এরদোয়ান

>> স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে পুলিশের গাফিলতি প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা

>> থানা থেকে কৃষক লীগ নেতাকে ছাড়াতে এসে জামায়াত নেতাসহ আটক ৮

>> প্রাথমিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা

>> গুলিস্তান থেকে আ.লীগের শতাধিক নেতাকর্মী আটক

>> মধ্যরাতে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ৪ জন গ্রেপ্তার

>> রাজধানীতে আ.লীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ৪

>> পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ বললেন এস জয়শঙ্কর

>> সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর

>> আ.লীগের দোসরদের গ্রেপ্তার করলে পুলিশদের পুরস্কৃত করা হবে

আপনি পড়ছেন : নেত্রকোনা

 নেত্রকোণা জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে তৃণমূলের আগ্রহে প্রশান্ত কুমার 


DhakaReport24.com || 2022-11-03 16:31:30
 নেত্রকোণা জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে তৃণমূলের আগ্রহে প্রশান্ত কুমার 

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারের নেত্রকোণা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে যোগ্য ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ উদ্দীপনা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তৃণমূল আওয়ামী লীগের কর্মীরা বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমাণে দলের জন্য কাজ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তারা। আগামী ১ ডিসেম্বর নেত্রকোণা জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কেন বিশেষ আলোচিত সাবেক ছাত্রনেতা প্রশান্ত কুমার রায়কে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দেখতে চায়, বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। 

প্রশান্ত কুমার রায়। সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা হিসেবে যার পরিচিতি এখনো সারাদেশে। তিনি ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির জালাল-জাহাঙ্গীরের একজন শ্রেষ্ঠ ছাত্রলীগ কর্মী। বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক পথ চলার মধ্য দিয়ে ১৯৮৫-১৯৮৯ সালে নেত্রকোণা জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৮৯ সালে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের জন্যে জীবনের প্রথম কারাবরণ করেন। ত্যাগ, লড়াই ও সংগ্রামই ১৯৮৯-১৯৯১ সাল পর্যন্ত নেত্রকোণা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। খালেদা সরকার বিএনপি বিরোধী আন্দোলনের জন্যে ১৯৯১ সালে আবারো কারাবরণ করেন। সময়ের শ্রেষ্ট এ পরীক্ষিত মুজিব সেনা ১৯৯৫-২০০২ সাল পর্যন্ত নেত্রকোণা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তৃতীয়বার কারাবরণ করেন ২০০১ সালে তত্ত্ববধায়ক সরকারের শাসনামলে। চতুর্থবার কারাবরণ করেন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ময়মনসিংহ সিনেমা হলে বোমা হামলার মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রের মামলায় এক বছর ফাঁসির আসামীদের সাথে কনডেম সেলে অন্ধকারে থাকতে হয়েছে প্রশান্ত কুমার রায়কে। সেসময় অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। এভাবে একের পর এক মামলার আসামি হন প্রশান্ত কুমার রায়। বিএনপি-জামাত কর্তৃক যৌবনের বৃহৎ একটি সময় নির্যাতন, অন্যায় ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন তিনি। প্রশান্ত কুমার রায়কে কারাগারে মেরে ফেলারও ষড়যন্ত্র করা হয়ছিল শুধুমাত্র তাঁর নেতৃত্বকে ধ্বংস করার জন্য। মৃত্যু মুখে থেকেও তিনি কখনো আপোষ করেননি। পিছপা হননি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, চেতনা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব থেকে। গণতন্ত্রের মানসকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে নিজ দল আওয়ামীলীগের জন্য লড়ে যাচ্ছেন রাজপথে আজীবন। রাজনৈতিক অপশক্তির কাছেও কখনো মাথানত করেননি তিনি। জামাত-শিবির ও বিএনপির অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনার বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করে তাদের কাছে হয়েছেন আতংক। দলীয় প্রোগ্রাম আর কার্যক্রমে প্রশান্ত কুমার রায়ের মতো ত্যাগী নেতাকেই চোখে পড়ে। নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা দিতে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম কোনো কিছু থেকে দূরে থাকেননি তিনি। প্রশান্ত কুমার রায় যখন নেত্রকোণা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন, তখন একটি স্লোগান ছিল এমন- বাবু আসছে, রাজপথ কাপছে। সেসময় বিএনপি জামাত কখনো মাঠে নামতে সাহস দেখাতো না। প্রশান্ত কুমার রায়ের হাত ধরে হাজার হাজার ছাত্রলীগের কর্মী ছাত্রলীগ করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। তাঁর হাত ধরেই অনেক ছাত্রলীগের কর্মী ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নেতৃত্বে আসতে পেরেছে। নেত্রকোণা জেলা ছাত্রলীগের ইতিহাসে প্রশান্ত কুমার রায়ের পর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে নতুন কোনো নেতৃত্ব আসেনি বলে সাবেক অনেক ছাত্রনেতা অবলীলায় বলে থাকেন। ওয়ান ইলাভেনে ফখরুদ্দিন-মঈন উদ্দিন কর্তৃক তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার গ্রেফতারের পর তাঁর মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করেছেন। দুঃসময়ের এ ত্যাগী সাবেক এ ছাত্রনেতা ছাত্র রাজনীতি শেষে প্রশান্ত কুমার রায় নেত্রকোণা সদর পৌরসভার মেয়র মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন ২০১১ সালের ১৭ই জানুয়ারি জনগণের অগাধ বিশ্বাসও ভালোবাসায় প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে। একজন সফল মেয়র প্রশান্ত কুমার রায়কেই বলা চলে। কেননা, মেয়র থাকাকালীন উনার দায়িত্বে যেমন কোনো অবহেলা ছিল না, তেমনি মেয়র থাকাকালীন সময় ২৪ জনকে চাকরী প্রদান করেছিলেন। নেত্রকোণা পৌরসভার উন্নয়নকল্পে তিনি বৃহৎ অঙ্কের একটি প্রজেক্টও পেয়েছিলেন। যা নেত্রকোণা পৌরসভার ইতিহাসে বিরল। পরবর্তী নির্বাচিত মেয়র বাকী কাজ সম্পন্ন করেন। যার সুফল ভোগ করছেন পৌরবাসী।
প্রশান্ত কুমার রায় দীর্ঘদিন নেত্রকোণা জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে নেত্রকোণা জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।  জনগণের প্রাণের নেতা, গণমানুষের নেতা, জননেতা প্রশান্ত কুমার রায় জেলা পরিষদের সফল চেয়ারম্যান হিসেবে ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। তারপর নেত্রকোণা জেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। 
অতীত ভুলে যায় মানুষ অতীতের চর্চা হয় না বলে, তৃণমূল ধ্বংস হয়ে যায় তৃণমূলকে উজ্জীবিত করা হয় না বলে, সঠিকভাবে লালন হয় না বলে। তবে জনগণ চায় নির্ভরযোগ্য হোক রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বটি। সুস্থ একটি রাজনৈতিক পরিবেশ এবং চর্চা হোক গণতন্ত্র।

নেত্রকোণা জেলা আওয়ামী রাজনীতির সুস্থ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায়ে এবং তৃণমূলে আওয়ামী রাজনীতির ভিত্তি মজবুত করে গড়ে তুলতে প্রশান্ত কুমার রায়ের মতো নেতার নেতৃত্বই পারে নেতাকর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধ করতে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করে প্রশান্ত কুমার রায় সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, রাজাকার, আলবদর যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সামনে এগিয়ে নিতে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমাণে, বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে সরকারের সকল গৃহীত উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করেছেন গতিশীল নেতৃত্বে। নেত্রকোণা জেলা আওয়ামী লীগের আগামী ১ ডিসেম্বর সম্মেলনে প্রশান্ত কুমার রায়কে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দেখতে চায় বলে তৃণমূল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা জানান। তারা মনে করেন তিন যুগের ত্যাগী, পরিশ্রমী ও পরিচ্ছন্ন এই নেতাকে নেত্রকোণা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচিত করলে আওয়ামীলীগ সহ সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠন গুলো তৃণমূল পর্যায়ে প্রাণ ফিরে পাবে এবং আওয়ামীলীগ আরো সুসংগঠিত হবে বলেও তারা মনে করছেন। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে বিজয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে দাবিয়ে বেড়িয়েছেন শেখ হাসিনার পরীক্ষিত এ নেতা। নেত্রকোণার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন করতে নেতাকর্মীদের মাঝে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উৎসাহ উদ্দীপনা দিয়েছেন। প্রতিটি সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছেন। গত ইউপি নির্বাচনে নৌকার মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রামেগঞ্জে নৌকার পক্ষে ভোটের জনমত সৃষ্টি করতে কাজ করেছেন এবং সর্বশেষ গত জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে জেলার সবক'টি উপজেলার সকল জনপ্রতিনিধি ভোটারদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন প্রশান্ত কুমার রায়। 

করোনাকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অসহায় ছিন্নমূল শ্রমিকদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ত্রাণ ও করোনা সামগ্রী বিতরণ করেছেন। গত কয়েক মাস আগে আকর্ষিক বন্যা প্লাবিত হয় জেলার বেশিরভাগ উপজেলায়। এইসব বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেছেন প্রশান্ত কুমার রায়। দেশের যেকোনো পরিস্থিতিতে আন্দোলন, সংগ্রাম ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গণমানুষের অধিকার বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। তৃণমূল আওয়ামী লীগ সহ জেলা, উপজেলা আওয়ামী লীগের অনেক নেতৃবৃন্দ বলছেন, যোগ্য নেতাকে যোগ্যস্থানে দায়িত্ব দিয়ে জেলার আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে গতি সঞ্চার করতে হবে। জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে নেত্রকোণা জেলা আওয়ামী লীগের আগামী সম্মেলনে প্রশান্ত কুমার রায়কে সাধারণ সম্পাদক পদে চান তৃণমূল আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দরা।


ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমজে/আরএম