নেত্রকোনার মদন উপজেলায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর রোজ শুক্রবার ৩ নং মদন ইউনিয়নের কাবাশাটিয়া গ্রামে দশ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ার কারণে, অবৈধভাবে হতদরিদ্র নূর মোহাম্মদ মিয়ার ঘরের পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগটি প্রতিহিংসার জেরে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে বাঁশের মই দিয়ে উঠে বিদ্যুৎ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায়, দ্বীন ইসলাম (৫০) এর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত এক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত দ্বীন ইসলাম কাবাশাটিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। অভিযোগের আলোকে জানা যায়, নূর মোহাম্মদ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একজন গ্রাহক হিসাবে বিদ্যুৎ সংযোগটি পেয়েছিলেন।
হতদরিদ্র নূর মোহাম্মদ পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগটি পাওয়ার পর অভিযুক্ত দ্বীন ইসলাম, নূর মোহাম্মদ মিয়ার কাছে দশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে, চাঁদা না দিলে তার বিদ্যুৎ সংযোগটি কেটে দিবে।
পরবর্তীতে নূর মোহাম্মদ মিয়া সাবেক ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান মিয়ার কাছে বিষয়টা জানান। পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি যেহেতু অভিযুক্ত দ্বীন ইসলাম মিয়ার বাড়িতে, সেহেতু সাবেক ইউপি সদস্য মজিবর রহমান মিয়া, নুর মোহাম্মদকে বলেন, দুই হাজার টাকা, দ্বীন ইসলামকে দিয়ে দেওয়ার জন্য। নূর মোহাম্মদ দুই হাজার টাকা দেওয়ার পরও দশ হাজার টাকা চাঁদা না দেয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগটি সরকারি পল্লী বিদ্যুৎ খুঁটি থেকে বাঁশের মইয়ে উঠে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অভিযুক্ত দ্বীন ইসলাম।
অভিযোগের আলোকে সরেজমিনে গেলে, অভিযুক্ত দ্বীন ইসলামের স্ত্রী বলেন, আমরা বিদ্যুতের খুঁটি ক্রয় করে এনেছি বিশ হাজার টাকা খরচ করে, নূর মোহাম্মদকে কেন লাইন দিব । এখান থেকে বিদ্যুৎ লাইন নিতে হলে দশ হাজার টাকা দিতে হবে। টাকা না দেওয়ার কারণে আমার স্বামী বাঁশের মই দিয়ে উঠে বিদ্যুতের লাইনটি কেটে দিয়েছে।
দশ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ার কারণে অবৈধভাবে সরকারি পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি থেকে গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে, উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম ফিরোজ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে বিদ্যুতের লাইন মেন সহ লোক পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমজার/আরএএম