শুক্রবার, নভেম্বর ৬, ২০২৬

২২ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শুক্রবার, নভেম্বর ৬, ২০২৬

২২ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88
**সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ**

>> ৪ দেশের জন্য হরমুজের দরজা খুলে দিল ইরান

>> গোপালগঞ্জে সাবেক ৩ ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে

>> অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি শ্রমমন্ত্রী

>> যুক্তরাষ্ট্রে ৫৪৮ জনের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করলেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর

>> আন্দোলনে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ উদ্দেশ্য সফল হবে না: রিজভী

>> তুরস্কের পার্লামেন্টে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদন

>> পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা

>> দেশের সব কারাগারের জন্য ৭ দফা নির্দেশনা

>> দিল্লিতে অবস্থানরত হাসিনা আর রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

>> রিপাবলিকানদের ভরাডুবিতে বড় ক্ষতি হলো ইলন মাস্কের

আপনি পড়ছেন : মতামত

চোরের হাতে চুরির বিচার, বড় নিদারুণ কৌতুক!!! 


রাজু আহমেদ মামুন 
DhakaReport24.com || 2022-03-17 17:48:45
 চোরের হাতে চুরির বিচার, বড় নিদারুণ কৌতুক!!! 

কবি, একজন দোষেগুনের মানুষ। তাকে নিয়ে মিথ তৈরি করে তার ভক্তরা। তার অনেক দোষ থাকতে পারে, যৌন দোষ থেকে নানা কিছু। তবে তার চরিত্রের একটা সৌন্দর্য হলো শিশুর মতো সে সব কিছু প্রকাশ করতে পারে, শিশুরাও কিন্তু সবসময় নির্দোষ হয় না । 

কবি'রা  নিজেদের নবী দাবি করে না। নবী, অবতার বা ধর্মপুরুষরা নিজেদের মহা পবিত্র প্রমাণ করার চেষ্টা করে। ভক্তরা তা বিশ্বাস করে। কবি'র এসব দায় নেই।  

ইদানিং দেখলাম জনৈক আমীর হামজা নামক কবি স্বাধীনতা পদক পাওয়ায় শহুরে কিছু টাউট তার মৃত কৃমির জীবাশ্ম আবিষ্কারে ব্যাস্ত। 

অচেনা আমীর হামজার লেখাজোখা কোন দিন পড়িনি, সে আমার সীমাবদ্ধতা।  শুনলাম তিনি গ্রাম-প্রান্তরের  মানুষ,  রাষ্ট্র তাকে মরণোত্তর এই পদক দিয়েছে।  দিতেই পারে। কারন রাষ্ট্র এতদিন শহুরে বাটপার, সাহিত্য ব্যাবসায়ী, মোসাহেব ধরে অনেক ভুল পুরস্কার দিয়ে এসেছে। 

রীতিমত এই রাষ্ট্রীয় অকামটি আমার কাছে অত্যান্ত গুরুত্বহীন খবর। কিন্তু এবারের অকামের প্রতিক্রিয়াটি বেশ উপভোগ্য। শহুরে টাউটগুলো সমানে পাছা চুলকাচ্ছে। কারন,  গেঁও একটা লোক কেন এটা পেলো!  অতপর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবার তারা হামজার চরিত্র উদ্ঘাটনে ঝাঁপিয়ে পড়লো। 

এরা কবির চরিত্র মসজিদের ইমাম সাহেবের মতো দাবি করছে। যদিও মসজিদের ইমাম সাহেবেরাও এখন আর আগের মতো নির্ভরযোগ্য আদর্শবান মানুষ নেই। তারাও এখন সমকামীতা, ধর্ষণ, হত্যা, মাদক পাচারের মতো ঘৃণ্য অপরাধে জড়িয়ে যায়। তবুও আমাদের শহুরে সাহিত্য ব্যাপারীরা কবির চরিত্র প্রাচীন ইমাম সাহেবদের মতো দাবি করছে।  

দেশের গণমাধ্যমের এখন প্রধান খবর হামজা খুনের আসামি ছিলো।  সমস্যা কোথায়?  কবিতো দোষ-গুনের মানুষ।  খুনও করতে পারে। কিন্তু তাতে তার কবিতার মূল্যায়নে সমস্যা কোথায়? 

একটা ছোট্ট উদাহরণ দেই, প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের একজন বিখ্যাত কবি ছিলেন শানফারা। নবী নিজেও তার কবিতা পছন্দ করতেন। তো, এই শানফারা যে কোন এক সামাজিক অবিচারে ক্ষুদ্ধ হয়ে প্রতিজ্ঞা করেন সংশ্লিষ্ট গোত্রের একশো জনকে হত্যা করবেন।  প্রতিজ্ঞা মতো কাজ শুরু করলেন এবং যখন তিনি ৯৯ জনকে হত্যা করতে সক্ষম হলেন তখন শত্রুদের হাতে বন্দী হলেন। বাকি রইলো একজন কিন্তু ধরা পরার পর তার মুন্ড বিচ্ছিন্ন করা হলো। শত্রু গোত্রের একজন সেই কাটা মুন্ডে লাথি দিলেন এবং পায়ে ক্ষত হলো, কিছু দিন পরে লোকটি মারা গেলেন। এভাবেই শানফারা তার ১০০ হত্যার প্রতিজ্ঞা পুরন করেন।  কিন্তু এতে কি কবি শানফারার গুরুত্ব আরবি সাহিত্য থেকে মুছে গেছে! 


গত ৩/৪ দশক ধরে আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গনে কিছু মোসাহেব সংস্কৃতি মামার জন্ম হয়েছে।  এরা ইউনিভার্সিটির কেন্টিনবয়, চা-ওয়ালা, দারোয়ান মামাদের মতো- সাহিত্য মামা, সংস্কৃতি মামা। ইদানিং এরা সুবিধা মতো সব কিছুর মরাল স্টান্ডার নির্ধারণ করে দেন। অথচ এই মামাদের নিজস্ব  মরাল স্টান্ডার, আমল নামা নিয়ে কোন বোধ কাজ করে না। 


চোরের হাতে চুরির বিচার- বড় নিদারুণ কৌতুক!! 


রাজু আহমেদ মামুন, কবি,সম্পাদক - ঢাকারিপোর্ট২৪.কম, সাপ্তাহিক ধাবমান।