বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬

২১ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬

২১ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88
**সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ**

>> নতুন প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

>> ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০৮৮ মামলা

>> ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ

>> রাজধানী থেকে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার

>> ৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিন পেলেন পরীমনি

>> আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

>> বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও বাড়ল

>> ক্ষমতাচ্যুতরা সীমান্তের ওপার থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী

>> শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাশ দেওয়া হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

>> আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আপনি পড়ছেন : মতামত

শিক্ষক প্রশিক্ষণ: শিক্ষার মান উন্নয়নে ভিন্নধারা


মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন
DhakaReport24.com || 2024-10-16
শিক্ষক প্রশিক্ষণ: শিক্ষার মান উন্নয়নে ভিন্নধারা

শিক্ষক প্রশিক্ষণ শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের অন্যতম উপায় বলে স্বীকৃত। গুণগত শিক্ষক ব্যাতিত গুণগত শিক্ষা অলীক কল্পনা। তাই একটা দেশের শিক্ষক প্রশিক্ষণকে যত কার্যকর করা যায় শিক্ষার গুণগতমান ততই সমৃদ্ধ হওয়ার সম্ভবনা দেখা দেয়। 

আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য নানান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু রয়েছে যা খুব-ই উদ্ভাবনীমূলক। সাম্প্রতিক ইন্টারনেট ব্যাবস্থার বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের ফলে ভার্চুয়াল ট্রেনিংএর প্রসার ঘটেছে। আমাদের দেশেও অনলাইনভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও কনটেন্ট নির্মাণের উপর জোর দেয়া হয়েছে। শিক্ষক বাতায়ন এমন একটা প্রচেষ্টা। তবে এই উদ্যোগ কতটুকু ফল দিচ্ছে? দীর্ঘদিন প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণের সাথে জড়িত থাকার সুবাদে এবং শিখন-শিক্ষনের উপর একাডেমিক প্রশিক্ষণের উপর ভরসা করে শিক্ষক বাতায়নের মতো প্লাটফর্মকে আরো কিভাবে ফলপ্রসূ করা যায় তা নিয়ে এই প্রবন্ধটা লেখার সাহস করছি।

এই লেখায় আমি ভার্চুয়াল ও সামনা সামনি প্রশিক্ষণের সাথে সাথে শিক্ষকদের মধ্যে সহযোগিতামূলক পেশাগত উন্নয়নের বিষয়ে আলোকপাত করবো।

যেকোন প্রশিক্ষণ আপামর সকল শিক্ষকের কাছে পৌঁছানো যেমন ব্যায়বহুল ও সময় সাপেক্ষ্য, তেমনি প্রশিক্ষিত শিক্ষকের প্রাপ্ত প্রশিক্ষণ মাঠ পর্যায়ে প্রকৃত পক্ষে কতটুকু প্রয়োগ হচ্ছে তার ব্যাপক ভাবে মনিটরিংও কষ্টসাধ্য । তাই প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষকদের নিজ নিজ জ্ঞানের মিথস্ক্রিয়ার জন্য শিক্ষণ-শিখন কমুনিটি (Teaching Learning Community) তৈরি করলে শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের পাশাপাশি  প্রশিক্ষিত শিক্ষকের প্রাপ্ত প্রশিক্ষণ মাঠ পর্যায়ে প্রকৃত প্রয়োগ অধিক কার্যকরি হবে বলে আমার বিশ্বাস।

শিক্ষণ-শিখন কমুনিটি (Teaching Learning Community) কি এবং এটি তৈরি কেন  প্রয়োজন?

যেহেতু শিক্ষক বাতায়নের মত একটি বৃহৎ প্লাটফর্ম রয়েছে ডিজিটাল কন্টেন্ট শেয়ারিং এর জন্য, সেহেতু আমাদের এটা মনেকরা অযৌক্তিক নয় যে Teaching Learning Community আবার কেন প্রয়োজন?

এবার আসি সেই আলোচনায়। একটি সাধারণ মাটির চুলা এবং বন্ধু চুলার মধ্যে একটি বিশেষ পার্থক্য আছে। তা হল সাধারণ মাটির চুলাতে যে তাপ উৎপন্ন হয় তার ৪০% রান্নার কাজে লাগে, বাকি ৬০% অপচয় হয়। অপরদিকে বন্ধু চুলাতে যে তাপ উৎপন্ন হয় তার ৭০-৮০% রান্নার কাজে লাগে।

শিক্ষা বিজ্ঞান বলে থাকে, একজন মানুষ “পড়ার মাধ্যমে শিখে মনে রাখতে পারে  - ১০%, শুনে শিখে মনে রাখতে পারে – ২০%, দেখে শিখে মনে রাখতে পারে – ৩০%, দেখে ও শুনে শিখে মনে রাখতে পারে -৫০% এবং হাতে কলমে করে শিখে মনে রাখতে পারে – ৯০%”।

 আমাদের দেশে আজ পর্যন্ত যত বড় বড় প্রজেক্ট চলমান এবং শিক্ষক – প্রশিক্ষক অঙ্গনে অধিক জনপ্রিয় তার বেশিরভাগই ডিজিটাল কনটেন্ট বেইজড। কিন্তু ডিজিটাল কন্টেন্টের সাহায্যে মানুষ কেবল দেখে এবং শুনে শিখতে পারে। তাই ডিজিটাল কন্টেন্টের সাহায্যে শিখে মানুষ কেবল ৫০% মনে রাখতে পারে।

তাই অধিক কার্যকরি উপায় হাতেকলমে শিখনের মাধ্যমেই কেবল শিক্ষার্থীর সর্বচ্চো শিখন নিশ্চিৎ করা সম্ভব।  আর ব্যাপক পরিসরে হাতে কলমে শিখনের জন্য সবার আগে প্রয়োজন প্রত্যেক বিষয়ের প্রতিটি পাঠের জন্য আলদা আলাদা এবং অবশ্যই পাঠ সংশ্লিষ্ট উপকরণ তৈরি এবং তার ব্যাপক ব্যাবহার। এই ধারায় ফলপ্রসূ এবং ধারাবাহিকভাবে হাতে কলমে শিখন নিশ্চিৎ করতে হলে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এর একটা প্রস্তাবনা নিচে দিচ্ছি-  

-         পাঠ সংশ্লিষ্ট উপকরণ তৈরির কৌশল সম্বলিত বিভিন্ন বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা করা।

-         পাঠের উপর ভিত্তি করে যতটা সম্ভব সল্পমূল্যের উপকরণ তৈরির কৌশল উদ্ভাবন।

-         শিক্ষক বাতায়নের মত একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা যেতেপারে (যার নাম হতে পাড়ে Teaching Learning Community সংক্ষেপে TLC), যার মাধ্যমে শিক্ষকেরা নিজেদের ভালো ক্লাসগুলো ভিডিও করে শেয়ার করবে। এই ক্লাস অবশ্যই হবে স্বল্প মুল্যের স্থানীয়ভাবে তৈরি উপকরণ নির্ভর। অন্য শিক্ষকেরা সেই ক্লাস দেখে নিজের পাঠ আরো উন্নত করার সুযোগ পাবে। এখানে বিষয় ভিত্তিক আলাদা রুম থাকবে। যার নাম হবে TLC Room. এই রুমর ভিতরে আবার জেলা এবং উপজেলা ভিত্তিক সাব রুম থাকবে। রুমগুলোতে ঢুকলে শিক্ষকদের সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মত অডিও-ভিডিও কল এবং চ্যাটিং এর সুযোগ থাকবে।

-         ১০ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা ভিত্তিক মনিটরিং কমিটি থাকবে। এই কমিটির সদস্য সচিব ইউএনও হবেন।  একজন পিটিআই ইন্সট্রাক্টর হবেন বিষয় বিষেশজ্ঞ । ইউইও এবং ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর হবেন সমন্বয়ক। ২ জন এইউইও হবেন ক্লাস্টার ভিত্তিক পরামর্শ দাতা। ৪ জন প্রধান শিক্ষক হবেন বিশেষ সদস্য ।

-         প্রতি বছর  ৩ জন করে উপজেলা ভিত্তিক সেরা শিখন সহায়ক শিক্ষক নির্বাচন করতে হবে। এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ থাকবে  TLC Room এ বছর ব্যাপি যে শিক্ষক সক্রিয় ভাবে  অডিও-ভিডিও কল, চ্যাটিং এবং ক্লাস আপ্লোডের উপরে ভিত্তি করে। এই প্রথম ধাপে মনিটরিং কমিটির সদশ্য ২ জন এইউইও এবং ৪ জন প্রধান শিক্ষক মিলে সারা উপজেলা থেকে ১০ জন শিক্ষক প্রাথমিক ভাবে নির্বাচন করে দিবেন। সেই ১০ জন হতে ইউএনও, পিটিআই ইন্সট্রাক্টর, ইউইও এবং ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর মিলে ৩ জন সেরা শিখন সহায়ক শিক্ষক নির্বাচন করবেন। এই শিক্ষকদের অবশ্যই পরবর্তি বছর ব্যাপি বিশেষ আর্থিক প্রনোদনার ব্যাবস্থা থাকতে হবে।

উন্নত দেশগুলোর শিক্ষা ব্যাবস্থায় বহু বছর আগে থেকেই এই Teaching Learning Community ব্যাবস্থা চালু আছে। যখন ইন্টারনেট ব্যাবস্থা এতটা উন্নত ছিলনা, তখনো ঐ দেশগুলোতে অঞ্চল ভিত্তিক এই Teaching Learning Community সিস্টেম চালু ছিল। এই সিস্টেমের আওতায় শিক্ষকেরা নিজ নিজ ক্লাশের সমস্যা কেন্দ্রিক আলোচনায় অংশ নিত। ফলে শিক্ষকদের মেধার বিনিময়ের মাধ্যমে পুরা অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সমভাবে উপকৃত হত।

বর্তমানে ইন্টারনেটের এই স্বর্ণযুগে যোগাযোগ যেহেতু খুবই সহজ, তাই উপরে প্রস্তাবিত এই ভিন্ন ধারার পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারলে তুলনামুলক সল্প খরচে এবং সহজে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক পরিসরে ৯০% শিখন নিশ্চিত হবে। একই সাথে প্রতি বছর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উপজেলা ভিত্তিক ৩ জন করে শিক্ষকের আর্থিক প্রনোদনা থাকলে শিক্ষকদের মাঝে যেমন মেধার বিনিময় হবার সুযোগ বেড়ে যাবে, তেমনি তাদের ধারাবাহিক ভাবে উন্নত পাঠ প্রস্তুতির এবং শ্রেনীকক্ষে তার বাস্তব প্রয়োগের প্রতিও স্থায়ী মানুষিকতা সৃষ্টি হবে।


মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইন্সট্রাক্টর (সাধারণ) পিটিআই, লালমনিরহাট