একটি কুইজ দিয়ে শুরু করি! সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে প্রতি বছরই পবিত্র ঈদ এর উৎসবের আমেজে কারা সামিল হতে পারে না? জানি, সবাই উত্তর দিবেন গরীব প্রান্তিক মানুষের কথা ভেবে। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে সঠিক উত্তর টা কিন্তু গরীব মানুষ কেন্দ্রিক না। সামর্থ্য অনুযায়ী ধনী-গরীব সবাই উৎসবে সামিল হয়, আমার বিবেচনায় সামিল হয় না শুধু রাজনৈতিক কর্মীর পরিবারের লোকেরা! কেননা পরিবারের আনন্দ ম্লান হয়ে যায় রাজনৈতিক কর্মীর অনিশ্চিত জীবন যাপনে। আমি কিন্তু দল মত নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক মতাদর্শের কর্মীর কথা বলছি। সরকারে যেই থাকুন না কেন কোন না কোন রাজনৈতিক আদর্শের কর্মীর কিন্তু রাজপথে থাকা হয় ই। আপনাদের কি মনে হয় বিগত আট মাসে পালিয়ে বেড়ানো আওয়ামী লীগ কর্মীদের বাড়িতে কি এ বছর ঈদের আনন্দ এসেছে? অথবা ইতিপূর্বে অন্যদের বাড়িতে?
না এদেশে রাজনৈতিক কর্মীর ত্যাগ কে মূল্যায়ন করতে চাওয়ার দৃষ্টিভঙ্গিই নাই। রাজনীতিকে কোন পেশা হিসাবে না দেখে দেখা হয় সমাজসেবামূলক কর্মকান্ড বা চ্যারিটি হিসাবে। অথচ রাজনৈতিক কর্মীর পেশা না থাকায় তার পরিবারের ঈদ কিভাবে হবে সেটা কারো ধর্তব্যে আসে না। আসে না বলেই তাদের জীবনের অনিশ্চয়তাকে আমরা অনুভব করি না। তাই ক্ষমতায় আসা রাজনীতিবিদকে জ্বী হুজুর বলে সালাম করলেও ক্ষমতাচ্যুত রাজনীতিবিদেরকে আমরা দূর্বৃত্তায়িত ব্যবস্থার অংশ হিসাবে চিহ্নিত করি সহজেই!
এই যে মানসিক দৈন্যতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া আমাদের রাজনৈতিক কর্মীর জীবন তার সংস্কার কোথায়? অন্য পেশার মানুষ যদি স্বাধীনভাবে আয় করে জীবন যাপন করতে পারে তবে রাজনৈতিক কর্মী কেন পারবে না? এই ব্যবস্থা না করতে পারলে সামাজিক এবং রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আমি মনে করি না। এনজিও সরকার প্রণীত প্রস্তাবিত সংস্কার কার্যক্রম তাই বাস্তবে কখনই আলোর মুখ দেখবে বলে মনে করি না। কারন অনির্বাচিত সরকারের এই সংস্কার কার্যক্রম বহাল রাখার গুরু দায়িত্ব কালক্রমে ঐ রাজনৈতিক সরকারের উপরই থাকবে। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক কর্মীর জীবনের সেই পূর্বতন ধারা বহাল রেখে কতটা আগানো যাবে? ইতোমধ্যেই নতুন কিংস পার্টির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও তদ্বীর বানিজ্যের ব্যাপক অভিযোগ এসেছে এবং আগামীতে আরো বাড়বে বলেই আমি মনে করি। সেক্ষেত্রে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তিই ঘটবে বলে স্থির বিশ্বাস আমার। সংস্কার কি হবে, হলে কি অর্থবহ হবে? আমার উত্তর না।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এক অদ্ভূত প্যারাডক্স হচ্ছে এদেশে সংস্কারের যাবতীয় ঢোল বাজানো হয় অনির্বাচিত সরকারের আমলে। ব্যাপারটা এমন ভাবে প্রচার করা হয় যে, মনে হবে রাজনৈতিক সরকারের আমলে কোন সংস্কার হয় না। অথচ, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও দেশটা টিকে আছে, পারফর্ম করছে সকল রাজনৈতিক হানাহানিকে পাশাপাশি রেখেই! তার মানে সংস্কার হয়েছে সময়ের সাথে তাল মিলিয়েই, কিছু ভালো ফল দিয়েছে, কিছু হয়তো খারাপ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অনির্বাচিত কিছু সুযোগ সন্ধানী সুশীল (যাদের বেশিরভাগই আবার এনজিও পরিচালক) এবং ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় বিরোধীতাকারী রাজনৈতিক গোষ্ঠী এক হয়ে শোরগোল তুলছে গত ৫০ বছরে কিছু হয় নি বলে। যদিও ওদের পশ্চিমা গুরুদের ভাষায় বাংলাদেশ বিগত কোন সময়েই অকার্যকর কোন রাষ্ট্র ছিল না। তাহলে বাংলাদেশের অর্জন রয়েছে ঐ তথাকথিত সংস্কার ছাড়াই। যে পেশাজীবীরা জীবনে কোন ঝুঁকি না নিয়ে নিরাপদ পেশাজীবন বেছে নিয়েছে তার পরিবারের জন্য তারা এখন রাজনৈতিক কর্মীকে গণতন্ত্রের ছবক দেয়! সাধারণ মানুষের জন্য এদের অবদান কি? আর যদি অবদান আছে বলেই আত্নবিশ্বাস থাকে তাহলে নির্বাচন দিয়ে জয়ী হয়ে ইচ্ছেমত সংস্কার করুক!
তাই যত দ্রুত সম্ভব ক্ষমতা ছাড়তে হবে ঐ রাজনৈতিক সরকারের হাতেই। কেননা, এদেশের জনগণ কখনই কোন অনির্বাচিত শাসন পছন্দ করে না। ইতিহাসে তার অজস্র প্রমান রয়েছে এবং আমি এটা বিশ্বাস করি-উৎকৃষ্টতম সুশীলের অনির্বাচিত শাসনের চেয়ে নির্বাচিত রাজনীতিবিদ এর নিকৃষ্টতম শাসন ভালো।
নাম পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পাঠক এবং অরাজনৈতিক কর্মীর ঈদ পরবর্তী ভাবনা!
০১-এপ্রিল’২০২৫ খ্রি.