শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬

২৩ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬

২৩ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88
**সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ**

>> পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি এখনো চূড়ান্ত হয়নি: বাণিজ্যমন্ত্রী

>> তাহসিফের মৃত্যু: রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন বান্ধবী দিশা

>> ৪ দেশের জন্য হরমুজের দরজা খুলে দিল ইরান

>> গোপালগঞ্জে সাবেক ৩ ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে

>> অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি শ্রমমন্ত্রী

>> যুক্তরাষ্ট্রে ৫৪৮ জনের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করলেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর

>> আন্দোলনে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ উদ্দেশ্য সফল হবে না: রিজভী

>> তুরস্কের পার্লামেন্টে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদন

>> পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা

>> দেশের সব কারাগারের জন্য ৭ দফা নির্দেশনা

আপনি পড়ছেন : কুমিল্লা

পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা


DhakaReport24.com || 2026-11-06
পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা

ভুয়া মনে করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় কর্মরত দুই পুলিশ সদস্যকে মারতে মারতে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। এসময় পুলিশের এক সোর্সকেও মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে কুমিল্লা পুলিশ লাইন ও সরকারি মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের তুলে নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যরা হলেন- কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা, কনস্টেবল মো. হানিফ এবং পুলিশের সোর্স জাহিদ।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টিউশনি শেষ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম ও অর্প রাস্তা ধরে হাঁটছিলেন বাস ধরার জন্য। এসময় পুলিশ পরিচয়ে তিনজন তাদের পথরোধ করে তল্লাশি চালান। ওই শিক্ষার্থীরা পুলিশের পরিচয়পত্র দেখাতে বলায় তারা পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে তাদের ভুয়া পুলিশ মনে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বাস থেকে নেমে তাদের মারধর করে টেনে-হিঁচড়ে বাসে তুলে ফেলেন। দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজনকে মারতে মারতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয় দুজন পুলিশ এবং একজন তাদের সোর্স। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়।


মারধরের শিকার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা বলেন, আমরা দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় জানতে চেয়েছিলাম। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করা হয়। আমাদের সঙ্গে পরিচয়পত্র না থাকায় ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখানো হয়। পাশাপাশি ডিউটিতে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেটি না শুনেই মব সৃষ্টি করে আমাদের তুলে নিয়ে যান।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোতোয়ালি থানার একজন এএসআই, একজন কনস্টেবল ও পুলিশের একজন সোর্স ছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের তল্লাশি করার চেষ্টা করেছিলেন। শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে।


তিনি বলেন, এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের জোর করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। এভাবে কাউকে তুলে না এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো উচিত ছিল। একইভাবে পুলিশ সদস্যদেরও পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উচিত ছিল। উভয় পক্ষেরই কিছু ঘাটতি ছিল। পরে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে।



জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তায়িন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, ঘটনাস্থল থেকেই থানায় বা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি সমাধান করা যেত। বাসে করে পুলিশ সদস্যদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ৫ আগস্টের পর থেকে একটা মব কালচারের রেশ ছিল। সেখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম