শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

৮ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

৮ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : কুমিল্লা

অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত শেষ, চার্জশিটে যা আছে


DhakaReport24.com || 2026-10-23
অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত শেষ, চার্জশিটে যা আছে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। এতে দুই কিশোরসহ চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ৩১ দিন পর গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এখন বিচার শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে নিহতের পরিবার।

জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বৃহস্পতিবার রাতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ২০ অক্টোবর দুই কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

মামলার বাদী ও অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে তদন্ত কর্মকর্তা ফোন করে তাঁকে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি জানান।

ছেলেকে হারানোর বেদনা প্রকাশ করে ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, অপ্রতিমকে ঘিরে তাঁদের অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন ভেঙে গেছে। তিনি দ্রুত বিচার শেষ করে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।


 দুই কিশোরসহ চারজন অভিযুক্ত

মামলাটির দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন। এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), সিয়াম (১৯) এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরকে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশু আইন অনুযায়ী, ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুজনকে অভিযোগপত্রে শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় তুহিনের প্রধান ভূমিকা ছিল। পরিকল্পনার সঙ্গে সিয়ামের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তিনজনের বিরুদ্ধে। সিয়ামের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা ও সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, তুহিন এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।


দুই কিশোরের বয়স নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ

অভিযোগপত্র দাখিলের পরও দুই কিশোরের প্রকৃত বয়স নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে অপ্রতিমের পরিবারের। বয়স নির্ধারণে প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার দাবিও আগে জানিয়েছিল পরিবার। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছিল।

পরিবার জানিয়েছে, অভিযোগপত্রের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমানের দাবি, পুলিশ সুপারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয় এবং গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শেষ করা হয়েছে।

শারদীয় দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির কারণে অভিযোগপত্র দাখিলের পরপরই আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছুটি শেষে রবিবার থেকে আদালতের কার্যক্রম চালু হওয়ার কথা ছিল।


যেভাবে নিখোঁজ হয়েছিল অপ্রতিম

গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরের কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। সে কোটবাড়ির বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে পরিকল্পিতভাবে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয়।


তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্যদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে পুলিশের দাবি। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল বলেও জানায় পুলিশ।


এ ঘটনায় প্রথমে তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তদন্তে সিয়ামের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে তাকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।


অভিযোগপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হয়েছে। এখন দ্রুত বিচার শুরুর অপেক্ষায় অপ্রতিমের পরিবার। তাদের প্রত্যাশা, আদালতের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হবে এবং দোষীরা আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম