নেত্রকোনার মদনে ১১ বছরের মাদ্রাসার শিশু শিক্ষকের ধর্ষণে ৬ মাসের অন্ত:সত্ত্বা হয়ে জীবন নিয়ে শঙ্খায় ভোগছে। এদিকে মেয়েটির মা গত ২৩ এপ্রিল মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মাদ্রাসার শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ১২ দিন অতিবাহিত হলেও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এ নিয়ে ৪ মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থনীয় এমপি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর তাঁর ব্যাক্তিগত ফেসবুক পেইজে এ বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন এবং আসামীকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহবান জানিয়েছেন। শিশু অন্ত:সত্ত্বার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন সর্বস্তরের জনগণ । শিশুটির মায়ের করা মামলায় ১২ দিন অতিবাহিত হলেও গ্রেফতার না হওয়ায় আইন শৃঙ্খলা নিয়ে সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহাড় বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। আমান উল্লাহ ওই গ্রামের হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক ছিলেন।
শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচাহাড় গ্রামে ২০২২ সালে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মাদ্রাসাতে তার স্ত্রীও শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। এই মাদ্রাসায় আশেপাশে এলাকার মেয়েরা লেখা পড়া করত।
একই এলাকার বাসিন্দা বিধবা মহিলার একমাত্র মেয়ে ওই কিশোরী। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে কিশোরীর মা সিলেটে গৃহ পরিচালিকার কাজ করেন। ভুক্তভোগী কিশোরী নানীর কাছে থেকে ওই মহিলা কওমি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতেন। এর মধ্যে গত বছর নভেম্বর মাসে আমান উল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন।
ঘটনা কাউকে না জানাতে প্রাণনাশে ভয় দেখায় শিক্ষক সাগর। পরে তার আরেক শিক্ষককের মাধ্যমে ধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে মাদ্রাসা থেকে বিতারিত করা হয়। পাচঁ মাস পার হওয়ার পর কিশোরী মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন আসে। সন্দেহ হলে মেয়েটির মা সিলেট থেকে মায়ের বাড়িতে আসে এবং কিভাবে সে অন্ত:সসত্ত্বা হলো তা জানতে তার মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে মেয়েটি মাদ্রাসার শিক্ষক সাগরের দ্বারায় ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে বলে তার মাকে জানায়।
ঘটনাটি জেনে শিশুটির মা এলাকায় আসেন বিচার চাইতে। আমান উল্লাহ সাগরের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় বিচার না পেয়ে উল্টো তাদের হুমকি দেয় এবং এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করে। ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার মেয়েটির মা মদন থানায় শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে মেয়েটি জানান, মাদ্রাসা ছুটি হলে হুজুর আমাকে মসজিদের বারান্দা ঝাড়– দিতে বলে। এ পর্যায়ে মসজিদের কক্ষে আমাকে নিয়ে যায় এবং সেখানেই আমাকে ধর্ষণ করে। আমি এর বিচার চাই।
তিনি আরো বলেন কষ্টকর বিষয় হচ্ছে, মামলার ১২ দিন চলে গেলেও এখন শিক্ষক গ্রেফতার হচ্ছে না।
এ বিষয়ে মদন থানার ওসি মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময়ে আমরা জানিনি। পরে বিষয়টি জেনেছি। মা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি পুলিশ সুপার স্যার দেখছেন। আমাদেরকেও নির্দেশনা দিয়েছেন আসামী দ্রুত গ্রেফতার করা জন্য। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি দ্রুত তাকে গ্রেফতার করা হবে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম