শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

৮ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

৮ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : নওগাঁ

নওগাঁ-১ আসনে বিএনপির ঘাঁটি উদ্ধারে বাধা বিদ্রোহী, ত্রিমুখী ভোটযুদ্ধ


নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
DhakaReport24.com || 2026-01-26
নওগাঁ-১ আসনে বিএনপির ঘাঁটি উদ্ধারে বাধা বিদ্রোহী, ত্রিমুখী ভোটযুদ্ধ

খাদ্য শস্য খ্যাত দেশের উত্তরের জেলা নওগাঁ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৬,নওগাঁ-১ ( নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার) আসন একসময় ছিল ধানের শীষের দুর্গ। কিন্তু অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, অনৈক্য আর মনোনয়নপ্রত্যাশীর ভিড়ে সেই ঘাঁটি উদ্ধার এখন অনিশ্চয়তার মুখে। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে একক প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপির সেই ঘাঁটিতে হানা দিতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ভোটের মাঠে সবাই এখন নির্বাচনী অঙ্কের হিসাব-নিকাশের খাতা খুলে বসেছেন। শীতের সকালে গ্রামের সংসদ চা-দোকানে গরম চায়ের কাপ সামনে নিয়ে আড্ডা-আলাপ চলছে। এসব আড্ডায় একে অপরকে প্রশ্ন করছে কোন প্রার্থীকে ভোটে যেতালে নওগাঁ-১ আসনের উন্নয়ন হবে। বিএনপি যদি বিভক্ত থাকে, তাহলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এখানে বড় চমক দেখাতে পারে।

জানা যায়, ১৯৯১ সালে বিএনপির প্রার্থীকে হারিয়ে এই আসনে জয় পায় আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ডা. ছালেক চৌধুরী আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তিনি। এরপর ২০০৮ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের কাছে পরাজিত হলে আসনটি হাতছাড়া হয় বিএনপির। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে পুনরায় আওয়ামী লীগ থেকে সাধন চন্দ্র মজুমদার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৮ ও ২০২৪ সালের একাদশ ও দ্বাদশ সংসদের দুটি বিতর্কিত নির্বাচনে নির্বাচিত হন সাধন চন্দ্র মজুমদার।

নওগাঁ জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ -১ আসন (নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার) ভোটকেন্দ্রের সংখ্যার -১৬৬ টি।  মোট ভোটার সংখ্যা ৪৭৪০৬৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২৩৫৩৭৭ জন ও মহিলা ভোটার সংখ্যা ২৩৮৬৮৪জন এবং হিজড়া ভোটার সংখ্যা ৪ জন।

তরুণ ভোটার মাসুদ রানা বলেন, নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার যেহেতু ধান ও আম উৎপাদনে সেরা উপজেলা। এ উপজেলায় যে প্রার্থী বোরোতে সেচের খরচ, ডিজেল ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ, মানসম্মত বীজ-সারের প্রাপ্যতা দিতে পারবে। সরকারি দামে প্রান্তিক কৃষককেরা সার পায় না। বোরো মৌসুমে সেচ পাম্প মালিকরা সেচে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে। সেচে খরচ কমাতে হবে, বিদ্যুৎ ঠিক রাখতে হবে, কৃষিঋণ নিতে গেলে হয়রানি বন্ধ করতে হবে আমরা এমন প্রার্থীকেই ভোটে নির্বাচিত করতে চায়।

বয়স্ক ভোটার মোজাম্মেল হক বলেন, বয়স্ক, বিধবা, ভিজিএফ-ভিজিডি কার্ড বণ্টনে দলীয় তালিকা না হয়ে ন্যায্যতা হতে হবে। যে প্রার্থী ভোটের পর আমাদের পাশে থাকবে আমরা তাকেই ভোট দিব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, বিএনপি যদি শেষ মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্ত প্রার্থী দাঁড় করাতে ব্যর্থ হয়। তবে জামায়াত এই পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে ভোট মেরুকরণে এগিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ধর্মভিত্তিক ভোটার এবং অতীতে জামায়াত সমর্থিত ভোটারদের সক্রিয় করতে অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম ব্যক্তিগত উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে। বিএনপি যদি বিভক্ত থাকে, তাহলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এখানে বড় চমক দেখাতে পারে।

নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত পদপ্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নওগাঁ -১ আসন থেকে বিএনপি দল থেকে আমাকে অনেক বড় দায়িত্ব দিয়েছে। আমি ২০১৮ সালে নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলাম। কিন্তু ফ্যাসিবাদীরা আমাকে সংসদে যাওয়ার সুযোগ দেয় নি, দিয়েছে ওদের গুপ্তচর বাহিনী সাধন কে। এবারও আমি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জনগণের মাঝে ফিরেছি। আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে আগেও যে ভাবে জনগণের পাশে ছিলাম ভোটের পরও সেই ভাবে জনগণের পাশে থাকব। সবাইকে নিয়ে মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ। 

সাবেক সংসদ সদস্য ও নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ডাঃ ছালেক চৌধুরী বলেন, আমি আমার এলাকার মানুষের জন্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। দলের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। এখন শুধু নির্বাচনের ওপর মনোযোগ দিচ্ছি। আমি আশা করছি আমার এলাকার সাধারণ ভোটারগণ আমাকে মোটরসাইকেল প্রতীক মার্কায় ভোট দিয়ে সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দিবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নওগাঁ জেলা শাখার সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম বলেন, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় এ আসনে জামায়াতে ইসলামী দল বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। বিএনপি দলে আছে গ্রুপিং, চাঁদাবাজির সমস্যা। এলাকার মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এই এলাকার মানুষের সমস্যা অনেক। এ এলাকায় দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও বেশি। তাই মানুষের ভাগ্য পরিবতন করতে হলে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে হবে। আমি সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি।