নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার কৃষ্ণগোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, অফিস সহায়ক, নৈশ প্রহরী ও আয়া পদে নিয়োগে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক। বিষয়টি জানতে পেরে এই অবৈধ্য নিয়োগ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অন্যান্য সদস্যরা। পরে সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন।
অভিবাবক সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণগোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির যোগসাজসে ব্যপক দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে শ্রী প্রদীপ কুমারকে অফিস সহায়ক, জোবায়েরকে নৈশ প্রহরী ও লাবনীকে আয়া পদে নিয়োগ প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। যার কিছুই জানতেননা ম্যানেজিং কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
ম্যানেজিং কমিটির দাতা সদস্য মো: সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক সীমা রানী মজুমদার নিজের ইচ্ছে মতো কর্যক্রম পরিচালনা করেন। নিয়োগের জন্য কোন প্রকার ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এবং পত্রিকাতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে তাও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরাসহা স্থানীয়রা জানতে পারেন নি। হঠাৎ করেই উক্ত ব্যক্তিদেরকে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করলে তা জানতে পানি। এবং এই অবৈধ্য নিয়োগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করি আদালতে।
ম্যানেজিং কমিটির অভিবাবক সদস্য প্রদীপ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘আমাকে কোন কথাই জানানো হয়নি, প্রধান শিক্ষক সীমা রানী ও তার মামা বিদ্যালয়ের সভাপতি সুশীল চন্দ্র মন্ডল যা ইচ্ছে করেন হয়। অন্য কাউকে কিছু বলার বা মতামতের প্রয়োজন মনে করেন না। আমরা নিয়োগের আগ মুহুর্তে জানতে পারি ওই তিন ব্যাক্তির কাছ থেকে ১০ লাখ করে মোট ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করছেন প্রধান শিক্ষক সীমা রানী।
ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রধান শিক্ষক সীমা রানী প্রতিষ্ঠনটিকে তার পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করেন। এই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তার মামা সুশীল চন্দ্র। আর শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রেখেছেন প্রশেন চন্দ্র কবিরাজ ও টুটুল চন্দ্রকে এবং বিদ্যুৎসাহী সদস্য হিসাবে রেখেছেন কমল চন্দ্র হালদারকে। এই কয়জনকে নিয়ে বাড়িতে বসে যা ইচ্ছে তাই করেন। অন্যন্য সদস্যদের মতামতের প্রয়োজন হয় না সীমা রানীর।
প্রধান শিক্ষক সীমা রানীর কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন প্রকার কথা না বলে ব্যস্ততা দেখিয়ে চলে যান।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সুশীল চন্দ্র মন্ডল বলেন, নিয়োগ হচ্ছেকি হচ্ছে না তা নিয়ে আপনাদের এতো মাথা ব্যাথা কেনো। আর টাকা নেয়া হয়েছে কি হয়নি তা আমি বোঝবো আর প্রধান শিক্ষক বুঝবেন। আপনাদের কাছে কৈফিয়ৎ দিবো নাকি।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এএন/আরএএম