ইসরাইল হামাস যুদ্ধ একমাসের বেশি সময় অতিক্রম করলো, অনেক মানুষের মৃত্যু হলো এবং আগামীকাল অনেকে ফিলিস্তিনি মারা যাবে যারা এখন গাজায় বেঁচে আছেন।
শুরুতে হামাসের হামলায় অনেক ইসরাইলি নাগরিকের মৃত্যু আমি মেনে নিতে পারিনি। হয়তো হামাস বা ফিলিস্তিনি মানুষের কাছে তারা শত্রু ছিলো যারা প্রতিদিন তাদের পাখির মতো মারে অথবা যারা তাদের বাড়ি ঘর ফসলের মাঠ দখল করে নিচ্ছে এবং উদ্বাস্তু বানাচ্ছে। ইহুদি হোক আর যাই হোক এইপৃথিবীর একজন জীবিত মানুষ হিসেবে তারা আমার কাছে মানুষ ছিলো , কোন অপ-মৃত্যুই কাম্য নয়।মানুষ বাঁচুক মানুষের পাশে, ভালবাসায়, নিশ্চয়ই ঘাতকের মতো নয়। ফিলিস্তিনিদের কাছে আশ্রয় ভিক্ষা করে একসময় হাইফা বন্দরে যেমন ইউরোপ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে আসা ইহুদিরা জড়ো হয়েছিলো এবং আশ্রয় পেয়েছিলো তেমন। কিন্তু সেই করুণার পরিনাম কেন এতো করুণ হয়ে যাবে আশ্রয়দাতাদের জন্য?
এ প্রশ্নের উত্তর পৃথিবী জুড়ে হয়তো অনেক আছে কিন্তু আমার কাছে কবরের কালো পাথরের মতো এক প্রস্তু নিরবতা! গাজার অনেক স্কুল হয়তো অনেকদিন খুলবে না ,কারণ যে শিশুরা পড়তে যাবে তারা বেঁচে নেই। ইসরাইলি বাহিনীর হাতে এতো শিশু এবং নারী হত্যার পরও পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্রশক্তি নির্বিকার। কিছু আরব রাষ্ট্র এই হত্যাযজ্ঞ থেকে দূরে দাড়িঁয়ে যেন ঘেউ ঘেউ করছে।আর সারা পৃথিবীতে মানবাধিকার এবং গনতন্ত্রের কথা বলে শাসায় যে আমেরিকা- তারা ইসরাইলকে সরবরাহ করছে বোমা, তাদের রক্ষার জন্য মোতায়েন করেছে রনতরী। এতো এতো নারী-শিশু যদি ইসরাইলি,আমেরিকান বা ব্রিটিশ হতো তাহলে পশ্চিমা মিডিয়ায় মানবতার টর্নেডো দেখতাম নিশ্চয়ই! কিন্তু ওরা ফিলিস্তনি ওদের সাথে কি মানবাধিকার যায়! তাও আবার পশ্চিমা মানবাধিকার? এ নিয়ে সোসাল মিডিয়ায় পর্যন্ত লেখা যায় না। আমার একটা ফেসবুক পোস্ট মাত্র ৩জন পড়তে পেরেছিলো।
চোখ যখন একটি-- তখন অন্য অন্ধচোখের অন্ধকার থেকে বিস্ফোরণ অবধি ইতিহাসকে অপেক্ষা করতে হবে। রোম এবং পারসিয়ান সম্রাজ্যের গৌরবের সময় কে জানতো দূর আরবীয় মরুভূমি থেকে ঝড় আসবে! অথবা মঙ্গলিয়ার নগন্য এক ট্রাইব থেকে উত্থান হবে বিশ্ব বিজেতা তেমজিন তথা চেঙ্গিস খানের ! তবে এটা নিশ্চিত যে সেনাবাহিনী শিশু এবং অসহায় মানুষদের হত্যা করে তাদের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল, পরাজয় তাদের ছোবেই। ইসরাইল এক অনন্ত যুদ্ধে জড়িয়ে যাচ্ছে। বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার সব যোগ্যতা হারিয়ে ফেলছে যুক্তরাষ্ট্র।
করুণা হয় ইসরাইলী ইহুদিবাদীদের জন্য - যারা প্রতিমূহূর্তে প্রমাণ করে দিচ্ছে হিটলারের চেয়ে তারা কোন অংশেই কম নয় এবং তাদের সাথে যা করেছিলো তা ঠিকই ছিলো। এক সময় আনাফ্রাঙ্কের ডাইরি পড়ে লক্ষ-কোটি মুসলমান কিশোর তরুণ চোখের পানি ঝরাতো এবং নাতসিজমকে ঘৃণা করতো। আর আজ সেই ইহুদিদের বর্বরতায় রচিত হচ্ছে লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনি আনাফ্রঙ্কের গল্প, যখন নাতসিজম এবং জায়েনিজম একই বিন্দুতে উপনিত। সেই ডাইরিটা ভেসে যাচ্ছে ঘৃণার থুথুতে।
ইহুদিরা কি আসলেই বুদ্ধিমান জনগোষ্ঠী! ইহুদিদের নানা বিষয়ে নোবেল পুরষ্কার পাওয়া নিয়ে বেশ খ্যাতি রয়েছে । ( যদিও আজ তারা নানা নৃগোষ্ঠির এক ধর্মীয় সম্প্রদায়) কিন্তু তাদের রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তা আসলেই কি প্রসংশা পাওয়ার মতো? পরিষ্কার উত্তর - না। বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ইহুদিদের হত্যা করেছে সাদা খ্রিস্টান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপের ইহুদি নিধন নিয়ে যে বর্বরতার ইতিহাস সারা পৃথিবীর মানুষ সহানুভূতি আর সমবেদনায় মনে করতো এবং সাদাদের নৃশংসতাকে সভ্যতার কলঙ্ক হিসেবে দেখতো- সেই সহানুভূতি আজ ঘৃণার আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ হয়ে গেছে।
পৃথিবী ভুলে গেছে সাদাদের বর্বরতার ইতিহাস এবং সেই খল চরিত্রে পৃথিবীর কাছে নিজেদের পরিচিত করছে ইহুদিরা। এই সাদা চালাকির জুতার তলে যেন পৌনে এক শতাব্দী ধরে দলাই মলাই হচ্ছে ইহুদিদের তাবত বুদ্ধিমত্তা। হায় কী করুণ!
রাজু আহমেদ মামুন, কবি ও সম্পাদক- সাপ্তাহিক ধাবমান এবং ঢাকারিপোর্ট২৪.কম