গনতন্ত্র একটা আদর্শ । যা মানুষের মধ্যে ,পরিবারের মধ্যে , সংগঠনের মধ্যে , রাজনৈতিক দল ও দেশের মধ্যে ধীরে ধীরে বিকশিত হয় । হঠাৎ করে কোন কিছু পরিবর্তন করা যায় না , করা উচিতও নয়, সম্ভবও নয়। মানুষ আস্তে আস্তে পরিণত হয় । ঠিক একই ভাবে পরিবার , সমাজ , দেশ ও অন্যান্য সংগঠনও পরিবর্তীত হতে থাকে ।
আমরা যদি ভারত, পাকিস্থান ও বাংলাদেশের মধ্যে তুলনা করি তবে দেখা যাবে একাক দেশে একাক ভাবে শাসন প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে গনতন্ত্রের নাম দিয়ে এবং যে দেশের মানুষ যত সহিষ্ণু , সে দেশে তত তাড়াতাড়ী গনতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে । এমন কি ভারতের রাজ্যগুলো দেখুন , সেখানেও একাক রাজ্যে একাক ভাবে শাসন প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে, যেখানে নীতিগুলো কাজ করছেনা আবার জাতীয় ভাবে কেউ কেউ ঐক্য করছে যা একপ্রকার প্রায় অবাস্তব , রাজ্যগুলো তা মানছেনা । আবার বলছে , আমরা জাতীয় স্বার্থে , গনতন্ত্রের জন্য , সুশাশনের জন্য এই ধরনের ঐক্য করছি ইত্যাদি ইত্যাদি । আবার পাকিস্থানে - আচ্ছা থাক - ওখানকার গনতন্ত্র সম্পর্কেতো আমাদের বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের অনেক ভালো ধারনা আছে ।
এখন বাংলাদেশের কি অবস্থা ? আমি যদি ১৯৯১ থেকে বর্তমান পর্য্যন্ত ধরি তবে- একটা ধারা চলছে কিন্তু ধীর প্রক্রিয়ায় । জনগন সকল ক্ষমতার উৎস এ কথা মেনে নিতে এখনও আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো অত শক্ত ভাবে শিখে নাই । তারা মুখে বলছে জনগনই সব কিন্তু বাস্তবে করেছে বা করছে ভিন্ন ভাবে। জবাবদীহিতার জায়গাতে তারা সবাই মোটামুটি এড়িয়ে যেতে পারলেই বেঁচে যায় ।
তারপরেও প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল একটা কথা মানছে, আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার বদল করব বা আমি আসব বা ও আসবে ইত্যাদি ইত্যাদি । বাঁকা পথের চিন্তা কেউ করছেনা ।
যদি তৃতীয় কোন শক্তি এধরনের চিন্তা না করে থাকে তবে সেটা হবে গনতন্ত্রের জন্য একটা টার্ণিং পয়েন্ট । দুইটি বড় বড় রাজনৈতিক দল যেভাবে সমাবেশকেই গুরুত্ব দিতে চাইছে এটা খুব ভালো দিক । তারা জনগনের কাছে যেতে চাচ্ছে , সেখানে কিছু ভালো কথা , কিছু মন্দ কথা , কিছু অন্যদলের প্রতি ঘৃনার কথা বলতে চায় - আর এটাই হলো গনতন্ত্র । এটা থামাতে গেলে গনতন্ত্র ব্যহত হবে। রাজপথ থেকে যদি কোন কিছুর সমাধান হয় তবে সেটাই হবে আসল সমাধান । কিন্তু যদি এটাকে কোন ভাবে ব্যহত করে তৃতীয় শক্তির উত্থান ঘটানো হয় বা কোন বিদেশী শক্তি তাদের নিজস্ব স্বার্থ সংরক্ষন করার জন্য প্রভাব বিস্তার করে , আর আমরা যদি সেটাকে প্রশ্রয় দেই তবে সব চেয়ে বেশী ক্ষতি হবে গনতন্ত্রের ।
মানুষ হিসাবে আমাদের দল মতের চিন্তা চেতনা ভিন্নতা থাকতেই পারে , তারপরেও এখনও আমাদের পারিবারিক সামাজিক অবস্থান দৃঢ় । আমরা একথা বলতেই পারি দেশের একটা পরিবর্তন ঘটেছে , হ্যাঁ দ্রব্য মুল্যের দামও বেড়েছে , আবার এটাও সত্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতাও বেড়েছে । তবে মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে একটা এলার্জী আছে , বিতর্ক আছে ।
কিন্তু আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশে জনগনের রায় নেওয়া ছাড়া শাসন কার্য্য পরিচালনা করা কঠিন । চালাতে গেলে ক্ষমতা রাজনৈতিক নেতাদের হাতে থাকেনা , সেটা চলে যায় অন্যদের কাছে । যা এক সময় নিজের কাছে নিজেরই বিরক্ত লাগবে বা বিরক্তির কারন হয়ে দাঁড়াবে । তাই জনগনের কাছে সবাইকে ফিরে যেতে হবে। মানুষকে ভোটমুখি করতে হবে। তা ছাড়া গনতন্ত্র বিকশিত হবেনা ।