বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২৬

২০ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২৬

২০ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88
**সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ**

>> প্রমাণ মিলেছে যৌন হয়রানির, রিপোর্ট কখনই প্রকাশ করবে না বিসিবি

>> মার্কিন ভোটাররা বিরক্ত হলে ইসরাইলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবো: ট্রাম্প

>> নিজের পিস্তলের গুলিতে এসআইয়ের আত্মহত্যা

>> সাভারে পুলিশের গাড়িতে আগুন, ওসিসহ আহত ৫০

>> ডিসেম্বরের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ: মজুরি বোর্ড

>> প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা, পদ হারালেন সেই কর্মকর্তা

>> পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে ৩ শ্রমিক নেতা আটক

>> নতুন দায়িত্ব পেলেন ইশরাক

>> যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হলেন কেইশা ল্যান্স বোটমস

>> আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব: তেহরানে বিশাল বিলবোর্ডে নতুন হুমকি

আপনি পড়ছেন : মতামত

কালের আয়নায়- বেংগল প্যাক্ট ও কোটাবিরোধী আন্দোলন


আশফাক আনুপ
DhakaReport24.com || 2023-06-21 19:37:00
কালের আয়নায়- বেংগল প্যাক্ট ও কোটাবিরোধী আন্দোলন

আন্দোলনোম্মুখ জাতি হিসেবে বাঙালির ইতিহাসে স্বার্থপর ও অসত আন্দোলন বা আন্দোলন-প্রচেষ্টার উদাহরণ প্রায় নেই বললেই চলে। খুঁজতে গেলে দীর্ঘকাল যাবত কেবল একটাই ইতিহাস চোখে পড়তো। যা সংগঠিত হয়েছিলো প্রায় এক শতাব্দি পূর্বে যখন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ততকালীন আধুনিক মানব ইতিহাসের মানবিকতম নীতিমালা গ্রহণ করেছিলেন বাঙালি সমাজের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসাম্য দূরীকরণের উদ্দেশ্যে! "বেংগল প্যাক্ট" নামক এই নীতিমালায় দেশবন্ধু ততকালীন সময়ে পিছিয়ে পড়া মুসলমান বাঙালিকে কোটাভিত্তিক সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় তুলে আনার প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন। আমি মোটামুটি নিশ্চিত আধুনিক সমাজবিজ্ঞানে "পজিটিভ ডিস্ক্রিমিনেশন/ ইতিবাচক বৈষম্যের" ধারণা আসার বহু বহু আগেই এই বাঙালি মহামানব সেই ধারণার বাস্তবায়নে ব্রতী হয়েছিলেন। কিন্তু এই "বেঙ্গল প্যাক্ট" বংগীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসে সর্বসম্মতিতে গৃহীত হওয়া সত্ত্বেও একশ্রেণীর হিন্দু রাজনীতিক "মেধার অবমূল্যায়ন" জাতীয় ফাতরা যুক্তি দিয়ে এর বিরুদ্ধে সংগঠিত হতে থাকে। দেশবন্ধুর মত দেবতুল্য মানুষকে নিয়ে খিস্তি-খেউরের মেলা বসে তাদের পরিচালিত নানান গণমাধ্যমে। তবে "বেঙ্গল প্যাক্ট" বিরোধী এই আন্দোলনপ্রচেষ্টার সবথেকে বাজে দিক এটা নয়। সবথেকে বাজে দিক আমি মনে করি এই স্বার্থপর ও জঘণ্য আন্দোলনটিতে নানান কারণে এমন কিছু মানুষকে আমরা সমর্থন দিতে দেখি যারা নিজেদের সাম্যবাদী চরিত্রের জন্য খ্যাতিমান। খুব বেশী নাম নেবো না, কয়েকটা নাম বলি- সুরেন ব্যানার্জি, বিপিন পাল আর প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শরতচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়! শেষোক্তো এই লোকটি এমনকি দেশবন্ধুর মৃত্যুর দীর্ঘদিন পরেও নিজের লেখা প্রবন্ধে বেঙ্গল প্যাক্ট করবার জন্য দেশবন্ধুকে নিয়ে টিপ্পনি কেটেছেন ক্রমাগত! এদের সন্মিলিত বিরোধীতার কারণে, সুভাষ বসুদের মত তরুণদের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও দেশবন্ধুর মৃত্যুর সাথে সাথেই রহিত হয় বেংগল প্যাক্ট'এর মত প্রগতিশীল ও সময়োত্তীর্ণ ধারণাটি! এরই ফলশ্রুতিতে বাংলা ভুখন্ডের অখন্ডতা রক্ষার সর্বশেষ বাস্তব প্রচেষ্টাটি ব্যর্থ হয় যার মূল্য দিতে হয় ৪৬-৪৭ এর দাঙ্গা আর ৭১ এর ৩০ লক্ষ প্রাণ দিয়ে!
কিন্তু আজ হঠাত এই কথা পাড়লাম কেনো? পাড়লাম কারণ, স্বাধীন বাঙালির রাষ্ট্রে সাম্প্রতিক অতীতে আমরা যতগুলো সফল আন্দোলন সংগঠিত হতে দেখেছি, তারমধ্যে সবথেকে স্বার্থপর, গোষ্ঠীবদ্ধ, মিথ্যাভিত্তিক ও অসত আন্দোলনটির সমর্থক-সংগঠকরা হঠাত ইদানিং প্রাসংগিক হয়ে উঠছে দেখছি! এই আন্দোলনটির নাম "কোটাবিরোধী আন্দোলন!" বেংগল প্যাক্ট বিরোধী আন্দোলনের সাথে একেবারেই সমচরিত্রের আন্দোলন এটি। এরও সবথেকে দুঃখজনক দিকটি হচ্ছে এর সংগঠক ও সমর্থক ছিলো/আছে একদল শিক্ষার্থী! জ্ঞানার্জন, সাম্যের দিকে যাত্রা আর ন্যায়ের পথ যাদের পাথেয় হবার কথা ছিলো সেই ছাত্রদের একটি আন্দোলন কতটা বাস্তবতাবিবর্জিত, অমানবিক, অসভ্য, অসাম্যমূখী ও কুউদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে তার প্রমাণ পাওয়া যায় এই আন্দোলনটি থেকে। আজকের দিনে এসে দেখতে পাচ্ছি এইসব আবর্জনারা নাশকতা করে গ্রেফতার হলেও "এনিমি'স এনিমি" সূত্রে একদল শিক্ষিত, জ্ঞানার্থী মানুষও এদের খুব একচোট সমর্থন যোগাচ্ছেন। এরা এমনকি এই নীতিরহিত, চরম স্বার্থপর আন্দোলনের সময়ও এদের তালে বগল বাজিয়েছেন! কোটাবিরোধী আন্দোলনের কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির দিকটি তাই যতটাই হোক, স্বাধীন বাঙালির পরিশীলিত মননে এর নীতিগত ক্ষয়ক্ষতির দিকটি তাই আমার কাছে সবথেকে বেশী দুঃখজনক ও ঘৃণার্হ। এই আন্দোলনের কুশিলবগণ ও উদ্দেশ্য সমর্থনকারীদের তাই আমি ক্ষণিকের ভুলে পা হড়কানো নাদান বলে মনে করিনা। মনে করি স্বাধীন বাঙালির অনাগত ভবিষ্যতের অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে।
কোটাবিরোধী আন্দোলন বাঙালি তরুণের একাংশের মধ্যে যে ধরণের ছদ্ম ন্যায়বোধ তৈরি করেছে, সেটা হেফাজতি ভাইরাসের থেকে ভয়ানক ভাইরাস। হেফাজতের পদাতিক হিসেবে যারা খাটতে বাধ্য হয়, তাদের সামনে একটা সুস্থ ভবিষ্যতের সম্ভবনা তৈরি করতে পারলে তাদের মূল অংশটাই মানবিক মানুষ হয়ে উঠতে পারে বলে আমার বিশ্বাস। কিন্তু কোটাবিরোধী তারুণ্য একবার যখন অন্যায় ও স্বার্থপর দাবী আদায়ের স্বাদ পেয়েছে- তারা এক পাহাড় অসাম্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া বাদে আর কিছুই অর্জনের চিন্তা করবেনা কখোনো। এরা স্বার্থোদ্ধারের জন্য আক্ষরিক অর্থেই মা'কেও বেচে দিতে পারে। এই আন্দোলনটা এবং তা থেকে উৎসারিত ও উৎসাহিত তারুণ্য, স্বাধীন বাংলাদেশের সবথেকে সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক ও নোংরা ঘটনা। এদের মোটামুটি সবগুলোই ব্যক্তিমানুষ হিসেবে চূড়ান্ত নীচ, স্বার্থপর এবং নীতিস্খলিত। এদেরকে যারা বিশ্বাস করে, প্রশ্রয় দেয়- তারা হয় মূর্খ, নয়তো সুযোগ সন্ধানী।