সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : মতামত

১ নং খাঁটি হিরো আলম এবং...


রাজু আহমেদ মামুন
DhakaReport24.com || 2023-02-10 20:36:45
১ নং খাঁটি হিরো আলম এবং...

হিরো আলম, নামটা শুনলেই আপনি একটু ফিক করে হেসে ওঠেন। আপনার চোখে ভেসে ওঠে কালো লিকলিকে একটি মুখ। যে- হিরোর অভিনয় করতে মরিয়া কিন্তু তার না আছে শারীরিক সৌন্দর্য, না আছে ঠিকঠাক  উচ্চারণের যোগ্যতা, না আছে অভিনয় জ্ঞান। 

তবু সে হতে চায়; হিরো! গান গাওয়ার মতো কন্ঠ এবং অনুশীলন কোনটাই তার নেই কিন্তু সে গায় এবং গায়ক হতে চায়।

 সে প্রচেষ্টা চালায়, তার মতো এবং সেগুলো তুলে দেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ।  মানুষ দেখে হাহা রিয়েক্ট দেয় এবং পৌঁছে যায় অগণন মানুষের কাছে। 

 এভাবেই ফেসবুক এবং ইউটিউবের কল্যাণে অযোগ্য হিরো আলমের ব্যার্থ প্রচেষ্টা থেকে কোটি কোটি লোক বিনোদন নিতে শুরু করে,  সে হয়ে ওঠে কোটি মানুষের পরিচিত মুখ।  এসব প্লাটফর্ম থেকে আয় আসে হিরো আলমের। সে এখন সাবলম্বী।

 কিছুদিন আগে হঠাৎ তার ইচ্ছে হলো- কবি হবে।  সে মতো পাঞ্জাবি এবং চাদর পড়ে সোশাল মিডিয়ায় ছবি ছেড়ে দিলো- কবিদের মধ্যে রে রে ছি ছি পড়ে গেলো; কেনো? এ প্রশ্নের উত্তরে আসবো পরে। 

তার মনে হলো সে জননেতা হবে, নির্বাচনে দাঁড়ালো - চারদিকে হিহি হাহা ছিছি পড়ে গেল।  নির্বাচন শেষে হিরো আলমের বক্তব্য,  সে বিপুল ভোটে জিতে ছিলো কিন্তু সরকারি দল এবং আমলারা তাকে হতে দেয় নি। কারণ অশিক্ষিত উদ্ভট  হিরো আলমকে তখন এমপি হিসেবে স্যার বলতে হবে ডিসি এসপিকে। সংসদের সব এলিট ব্যাবসায়ী সংসদ সদস্যদের পাশে বসতে দিতে হবে সেই হিরো আলমকে! 

কিছুদিন আগে হিরো আলম রবীন্দ্র সংগীত গাইতে শুরু করেছিলো, (যেহেতু রবীন্দ্রনাথ ১৯৪১ সালে মারা গেছেন, কাজেই রিক্স ছিলো না) গাইতেই পারতো কিন্তু সহ্য হলো না প্রশাসনের।  পুলিশের বড় কর্তারা ডেকে মুসলেকা নিলো, ভাবখানা এমন যে- শালা নাপাক ছুঁচো, হেরে গলায় তুই গাইবি রবীন্দ্র সংগীতের মতো আসমানী আয়াত! কত্তবড় ব্লাসফেমি!

ব্যাস, আর পায় কে!  সারা দুনিয়ার মিডিয়ায় শুরু হয়ে যায় হিরোর কের্দানী। ইনিয়েবিনিয়ে তার মানবাধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। মাথামোটা প্রশাসন তখন আহম্মক হয়ে কচু চাবাতে শুরু করে।  

যাইহোক, এতক্ষণের আলোচনায় আমরা অন্তত এটুকু স্পষ্ট হলাম যে- হিরো আলম কাকে বলে অথবা হিরো আলম বলতে আমরা কি বুঝি। 

হিরো আলম এখন কোন নাম নয়, একটি প্যারামিটার, যোগ্যতমের স্থানে অযোগ্য তমের অবস্থান এবং  এক্টিং। 

তবে এই হিরো আলমকে আমরা ধরে নেবো ১ নং খাটি হিরো আলম হিসেবে।  কেনো ধরে নেবো?  কারণ - এই হিরো আলম জানে এবং স্বীকার করে তার কোন যোগ্যতা নাই, শিক্ষা নাই, অনুশীলন নাই,চেহারা নাই, সুললীত কণ্ঠ নাই, সুযোগ নাই কিন্তু আছে তার আকাঙ্খা, প্রদর্শনের প্রচেষ্টা। মানুষ হিসেবে এই আকাঙ্ক্ষা থাকার অধিকার তার রয়েছে। সে অযোগ্য হলেও সৎ এবং  এ কারণেই সে ১ নং খাটি হিরো আলম। 

কিন্তু যে সব হিরো আলমরা তাদের অযোগ্যতাকে চাদরের তলে ঢেকে শিল্প- সাহিত্য- শিক্ষা- সংস্কৃতি- প্রশাসন- রাজনীতি- অর্থনীতির তাবত স্থানগুলো দখল করে আছে?  তাদের কে কি বলা যায়! এই প্রতারকদের বেলায়? এরা সব নকল হিরো আলম। 

তাইতো রাজনীতির মাঠে তারেক জিয়া, মীর্জা ফকরুল থেকে ওবায়দুল কাদের পর্যন্ত যতো নকল হিরো আলমরা ১নং হিরো আলমকে নিয়ে শঙ্কিত হয়ে ওঠে।  ডান আর বাম রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জেগে আছে অসংখ্য নকল হিরো আলমের মুখ। শুধু বাংলাদেশই নয়, ভুটান বাদে দক্ষিণ এশিয়ার সবগুলো দেশের রাজনৈতিক নেতারাই প্রায় নকল হিরো আলম। ভারতের মোদি তার মধ্যে অন্যতম। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ছিলেন একজন বিশিষ্ট নকল হিরো আলম। 

হিরো আলম যখন কবিতা লেখার কথা ঘোষণা দিলো ভাবলাম- আহা! এইবার ব্রাত্যরাইসুর কি হবে! সাজ্জাদ শরিফ- আনিসুল হকদের কি হবে! এমন অসংখ্য নকল হিরো আলম বাংলা কবিতা এবং কথাসাহিত্যের অঙ্গনে ল্যাজ নাড়ছে। তাদের অনেকেই ত্যাল মেরে পুরস্কার বাগানোর ১০১টি কৌশল হয়তো লিখে যেতে পারবে শেষ বয়সে। ঢাকা এবং কলকাতা জুড়ে এখন নকল হিরো আলমদের জয়জয়কার।

১ নং হিরো আলম যদি কখনও শিল্পপতি হওয়ার চেষ্টা করে তবে পারটেক্সের হাসেম থেকে আকবর সোবহান, সালমান, মোস্তাফা কাামলরাও চিৎকার করবে, সন্দেহ নেই। প্রশাসনে গিজগিজ করছে নকল হিরো আলম। শিক্ষা এবং চিকিৎসা ব্যাবস্থাপনায় গিজগিজ করছে নকল হিরো আলম।
 
তথাকথিত অসাম্প্রদায়িক এবং সাম্প্রদায়িক বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে গিজগিজ করছে নকল হিরো আলম।  এদের পাঠ অসম্পূর্ণ। এরা বিভ্রান্ত।  এরা নিজ জাতির ইতিহাস ঠিকঠাক জানেনা।  এদের নিজস্ব বিশ্ববীক্ষা নেই, গবেষণা নেই  তবু এরা প্রফেটের মতো বাণী ঝাড়ে। আবোল তাবোল লেখা ছাপা হয় প্রতিদিন। এরা নির্লজ্জ তেলবাজ এবং নকল হিরো আলম। তাই ১ নং আসল খাঁটি হিরো আলমকে নিয়ে এদের দুশ্চিন্তা হয়।

-- রাজু আহমেদ মামুন।  ঢাক।