রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : মতামত

 জাতিবিদ্বেষী, বর্ণবাদী ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে দরকার সর্ববঙ্গীয় সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ


অতনু সিংহ,পশ্চিম বঙ্গ
DhakaReport24.com || 2022-12-03 17:21:00
 জাতিবিদ্বেষী, বর্ণবাদী ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে দরকার সর্ববঙ্গীয় সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ

বলিউডের অভিনেতা তথা বিজেপি সাংসদ পরেশ রাওয়াল বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের গুরত্বপূর্ণ উপাদান মাছের প্রসঙ্গ টেনে যেভাবে বাঙালিবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন, সেই জাতিবিদ্বেষী মন্তব্যকে তীব্র ধিক্কার জানালেই দায়িত্ব ক্ষান্ত হয় না। তাই এই ব্যাপারে আরও কিছু বক্তব্য পেশ করতে চাই। 

পরেশ রাওয়াল যা বলেছেন সেটা তাঁর দল বিজেপির মতাদর্শের অংশ। গোটা অহিন্দি জাতিসত্তার ওপর হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার পাশাপাশি নানাসময়ে যেভাবে বিজেপির পক্ষ থেকে ইসলামবিদ্বেষের পাশাপাশি বাংলাবিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে তা আসলে বৈদিক ব্রাহ্মণ্যবাদী, প্যান-ইন্ডিয়ান রাজনীতিরই অংশ।

ভারতের ইউনিয়ন সরকারের শাসক দল বিজেপি তাদের ধাত্রীসংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানকে ভারত প্রজাতন্ত্রে কায়েম করতে চায়। ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সম্পূর্ণ নির্মূল করে তারা চায় এক ভাষা, এক সংস্কৃতি ও একটিমাত্র ধর্মের একটি সম্পূর্ণ জাতিরাষ্ট্র ব্যবস্থা নির্মাণ করতে। জাতিবাদী ভারত নির্মাণ করার জন্যেই তারা এমন একটি বিদ্বেষের রাজনীতির আশ্রয় নিয়েছে, যে বিদ্বেষী রাজনীতির মধ্যে কখনো উঠে আসছে ইসলামবিদ্বেষ, কখনো নমঃশূদ্র বিদ্বেষ, কখনও-বা আদিবাসী বিদ্বেষ, কখনও-বা বাংলা ও বাঙালি বিদ্বেষের বয়ান। 

এর পাশাপাশি আরও যে কথাটা বলার, তা হলো পরেশ রাওয়াল বাঙালিবিদ্বেষের কথা ঢাকতে গিয়ে পরে যেভাবে বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গ তোলা হয়েছে, তারও বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা দরকার। প্রথমত, বিজেপি নানা সুময় ‘অবৈধ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী’ কিংবা ‘রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশিকারী’ এইসব প্রসঙ্গ টেনে ভারতের অন্তর্গত বাংলা অঞ্চলগুলোর বিরুদ্ধেই বিদ্বেষ ছড়াতে চায় বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গ, ঈশানবঙ্গ তথা অসমের কাছাড়-শিলচর এবং ত্রিপুরা বা ত্রিপুরবঙ্গের বাংলাভাষাভাষী মানুষকে বা বাঙালিদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসাবে চিহ্নিত করে এনআরসির মতো ঘৃণ্য হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানি জাতিবাদী রাষ্ট্রীয় ততপরতাকে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত করতে চায় বিজেপি। তাছাড়া প্রতিবেশী বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙলি জাতিসত্তার মানুষ-সুহ সেখানকার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মূল ঐক্যের সুরটাও বৃহৎ বঙ্গের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মূলগত সুরের অবিচ্ছেদ্য অংশ।  তাই বাংলাদেশীদের খ্যাদ্যাভাস-সহ তাঁদের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্টগুলো নিয়েও বিজেপি যদি বিদ্বেষ ছড়ায়, আসলে তা সামগ্রীকভাবেই ভারত-সহ গোটা বিশ্বের বাঙালি জাতিসত্তা-সহ সামগ্রিক বঙ্গীয় জাতিসত্তাসমূহের প্রতি ব্রাহ্মণ্যবাদী রাজনৈতিক অপশক্তি আরএসএস-বিজেপির চরম বিদ্বেষ ছাড়া কিছুই নয়। 
তাই বিজেপির এই জাতিবিদ্বেষী, বর্ণবাদী ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে দরকার সর্ববঙ্গীয় পরিসরের মানুষের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ। এ লড়াই শুধুই পশ্চিমবঙ্গের নয়, এমনকি এ লড়াই শুধুই বাঙালির নয়। এ লড়াই অবৈদিক সর্ববঙ্গীয় সাংস্কৃতিক পরিসরের লড়াই। বিজেপির বিরুদ্ধে, হিন্দি আধিপত্যের বিরুদ্ধে ও ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা এখন হকের লড়াই, জীবন-জীবিকা-ভাষা-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য ও মাটি রক্ষার লড়াই।