রবিবার, নভেম্বর ৮, ২০২৬

২৪ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

রবিবার, নভেম্বর ৮, ২০২৬

২৪ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : মতামত

‘খ্যাতি এবং পুরস্কার’ যখন নিকৃষ্টতার মানদণ্ডে 


রাজু আহমেদ মামুন  
DhakaReport24.com || 2022-10-31 12:14:15
‘খ্যাতি এবং পুরস্কার’ যখন নিকৃষ্টতার মানদণ্ডে 

মুহূর্ত কাল ভালোমন্দের বিবেচনা না করে সমস্বরে হইহই রইরই করার যুগ এখন। মানুষের চিন্তা শক্তি এবং সময়কে খেয়ে ফেলছে ভার্চুয়াল বিনোদন, স্মার্ট ফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার নানা এপস্। আফিম খাওয়া বাঁদরের মতো তরতাজা মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা দিনের পর দিন বসে থাকে কোন বদ্ধ ঘরে। শুধু ইন্টারনেট যুক্ত স্মার্ট ফোন থাকলেই হলো। 

আর ভার্চুয়াল বিনোদন! সেতো মহা বিনোদন! যতো রকম ভাঁড়ামো, ফালতু, ব্যক্তিত্বহীন আচরণে দেখা মেলে লক্ষ কোটি কমেন্টস, ভিউ, লাইক। সংস্কৃতি মানে জোঁকারির রমরমা বাজার। সেখানে জনপ্রিয় এইসব! ফলে জন্ম হচ্ছে ধানের চিটার মতো অন্তঃসার শূন্য গভীরতাহীন চিটা প্রজন্ম। সমাজ এবং জীবনের জন্য গভীর প্রয়োজনীয় বিষয় আসায় এখন প্রায় উপেক্ষিত জনমানসে। অনুভ‚তি প্রকাশ পায় এখন ইমুজি দিয়ে।

ফলে সমাজে দ্রুতই খ্যাতিমান হয়ে ওঠে ব্যক্তিত্বহীন জোঁকার হিরো আলম, গায়ক পরিচিতি পায় এটিএন মাহফুজ বা বুড়ি ভিক্ষুক রানু মন্ডল অথবা বাদাম বাদামের সেই ভাঙ্গারীওয়ালা। এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে পায়খানায় বসে লাইভ দিয়ে লক্ষ কোটি দর্শকের দেখা পায় কোন ছ্যাপলা।

ইদানিং বাংলাদেশে ঘটে গেছে আরও একটি মজার ঘটনা। উত্তর বঙ্গের জনৈক ছিঁচকে চোর সিদ্দিক, টাকা চুরি করে দৌড়ে একবাড়ির চকির তলে লুকায়, জনগন তাকে সেখান থেকে ধরে আনে এবং ধোলাই দিতে চায় কিন্তু ইউটিউবারের কল্যানে- 'ভুল হচে, ক্ষমা করে দেন' বলে ভাইরাল হয়ে যায়। এখন সিদ্দিক চোরা সোশ্যাল মিডিয়ার লক্ষ কোটি দর্শকের হিরো, সে এখন সোশ্যাল মিডিয়ার স্টার। তাকে নিয়ে প্রতিদিন বিচিত্র সব ভিডিও হচ্ছে। এই সেলিব্রিটি চোরা যেদিকে যায় তার সাথে প্রচুর লোক হাটে। সে সেলিব্রিটি হিসেবে বডিগার্ডদের নিয়ে নাকি এলাকার অনুষ্ঠানও উদ্বোধন করে।

ফলে আপনি যত ভালোকাজ, গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন না কেন পাবলিক না 'খাইলে' আপনি কেউ না। 'পাবলিক' মানে বুঝলেন তো! উপরে যা বললাম। কাজেই এখন খ্যাতিমান হলে, সমাজে দু’চারজন যে সব ব্যাক্তিত্ববান মানুষ আছেন তারা সন্দেহ করে- 'খ্যাতিমান লোকটি আসলে সিদ্দিক চোরা কিনা'! যেহেতু নিকৃষ্টতাই এখন হয়ে উঠছে খ্যাতির মানদণ্ড। 

এমন সংকট চলছে রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক নানা পুরস্কার প্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও। আগেকার দিনে কেউ কোন পুরস্কার পেলে তিনি হতেন পরিবার, এলাকা এবং দেশের গর্ব। কিন্তু এখন! মানুষ সন্দেহ করে, ভাবে, 'লোকটিকেতো ভালো মনে করেছিলাম, এটিও তবে চিটার, টাউট, দালাল'!
কারণ? কারণ, মানুষ জানে বেসরকারি সব পুরস্কারের অধিকাংশই ক্রয়বিক্রয়ের পণ্য। ধরাযাক, থার্ডক্লাস কোন সাহিত্যিক ছলিমুদ্দিন, তার টাকা আছে অথবা যোগাড় করেছে। উদ্দেশ্য 'অমুক-তমুক' কোম্পানির সাহিত্য পুরস্কারটি কিনবে। শুরুতেই ক্রয়বিক্রয়ের চ্যানেলটি খুঁজে বের করতে হবে, ব্যাস, এক লাখ টাকার পুরস্কারটি এবার তিন থেকে চার লাখে কেনা শেষ। লাভের লাভÑ মিডিয়ায় লেখক বলে প্রচারণা, ফালতু বাণী ঝাড়া, পাঞ্জাবি পরে গলায় চাদর ঝুলিয়ে লেখক হওয়ার গর্বিত অনুভূতি। 

এবার আসা যাক রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে প্রসঙ্গে, এসব পুরস্কার যে-সব প্রতিষ্ঠান থেকে দেয়া হয় মূলত সে সব প্রতিষ্ঠানের ভিসি বা ডিজিদের অধিকাংশ সময়ই জিহবা থাকে না। বলতে পারেন- কেন থাকে না? বঙ্গবন্ধুর ভাষায় বলা যেতে পারে- এগুলোও চাটার দল। ওই পোস্ট টুকু পেতে, তাদের আমলা কামলা নেতা মন্ত্রীদের এতো বিচিত্র পা চাটতে হয় যে শেষমেশ জিহবাই থাকে না। তো, এমন জিহবা ছাড়া চাটার দল যখন পোস্ট পায়, তারা পুরস্কারের জন্য খোঁজে তাদের মতোই চাটার দল। ফলে, সরকারি পুরস্কার মানে? মানেতো জানেনই! অবশ্য এই সমস্যা এখন আন্তর্জাতিকও। নোবেল পুরষ্কারের বেলায়ও নাকি ঘটে, বিশেষ করে শান্তি নোবেলতো এই বাংলদেশী মডেল অনুকরণ করে বিখ্যাত। 


কাজেই, যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছেন, তারা খ্যাতি এবং পুরস্কার থেকে আশা করি সাবধানে আছেন, সাবধানে থাকুন। সময় এখন সিদ্দিক চোরাদের...

# রাজু আহমেদ মামুন, কবি, সম্পাদক- ঢাকারিপোর্ট২৪ এবং সাপ্তাহিক ধাবমান।