বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২৬

২০ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২৬

২০ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88
**সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ**

>> প্রমাণ মিলেছে যৌন হয়রানির, রিপোর্ট কখনই প্রকাশ করবে না বিসিবি

>> মার্কিন ভোটাররা বিরক্ত হলে ইসরাইলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবো: ট্রাম্প

>> নিজের পিস্তলের গুলিতে এসআইয়ের আত্মহত্যা

>> সাভারে পুলিশের গাড়িতে আগুন, ওসিসহ আহত ৫০

>> ডিসেম্বরের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ: মজুরি বোর্ড

>> প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা, পদ হারালেন সেই কর্মকর্তা

>> পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে ৩ শ্রমিক নেতা আটক

>> নতুন দায়িত্ব পেলেন ইশরাক

>> যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হলেন কেইশা ল্যান্স বোটমস

>> আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব: তেহরানে বিশাল বিলবোর্ডে নতুন হুমকি

আপনি পড়ছেন : মতামত

কাগাবগা লেখক, আমলা এবং জাতির কাছে বিবিধ প্রশ্ন


ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ
DhakaReport24.com || 2022-08-28 19:58:00
কাগাবগা লেখক, আমলা এবং জাতির কাছে বিবিধ প্রশ্ন

'একশটা চোর, ডাকাত, ইতর বদমাশকে টাইট দিলে একটা দারোগা হয়, একশটা দারোগাকে টাইট দিলে নাকি একটা উকিল হয়, একশটা উকিলকে টাইট দিয়ে নাকি একটা সাংবাদিক হয়, একশটা সাংবাদিক টাইট দিলে নাকি নেতা হয়।'
প্রচলিত প্রাবাদিক বয়ান এটা। অশালীন বিবেচনায় এখানে অন্য একটি শব্দের স্থলে 'টাইট' শব্দটা বসানো হলো। এখন জাতির কাছে প্রশ্ন হচ্ছে ওই শব্দটি কী?
এই প্রবচনে একটি পেশার লোক বাদ পড়ে গেছে। জাতির কাছে প্রশ্ন হচ্ছে, যে পেশার লোকদের বাদ দেওয়া হয়েছে তারা কি আমলা কি না? যদি তাই হয় তবে জাতির কাছে তৃতীয় প্রশ্ন, তাদের স্থান কি নেতাদের ওপরে নাকি নিচে হবে?
আমলারা বরাবরই লেখক হিসেবে বাংলাসাহিত্যে ভালো করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র, নবীনচন্দ্র, অন্নদাশঙ্কর, ওয়ালীউল্লাহ, এমন অনেক নাম আপনারা নিশ্চয়ই ভুলে যান নাই? তবে এই নামগুলোর সাথে কি নবীরুল ইসলাম বুলবুলকে রোল করবেন? জানি করবেন না?
নবীরুলের উনত্রিশ বই সরকারের ক্রয়তালিকায় ঢোকানো মানে ক্ষমতার অপব্যাবহারের একটা উদাহরণ। সেটি নবীরুল বা যেই করে থাকুন না কেন। সরাসরি এভাবে কিন্তু অনেক আমলাই কাজটি করেন না। নবীরুলও নিশ্চয়ই করেননি, করেছেন তার পক্ষের অন্য কেউ, অন্তত আমার তাই ধারণা। 
আমলা লেখক-কবিরা নানা সময়ে নানাভাবে প্রভাব খাটান। প্রভাবের বলয়ে থাকেন বলেই তা করেন। লেখালেখির এই প্রভাব কাজে লাগে বলেই তারা কেউ কেউ হাজার খানেক বইও লিখে ফেলেন, এমন গিনেচ মার্কা রেকর্ডও নাকি আছে।
বেশ ক'বছর আগে একটি ছোটকাগজকে 'প্রশাসনে মগ্নচৈতন্য' বা এ রকম কোনো নামে আমলা লেখক-কবিদের নিয়ে একটি বিশেষ সংখ্যা করার ব্যাপারে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়েছিলাম। তখন লেখাজোকা যোগাড় করতে গিয়ে অনেক আমলার দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছি, আবার অনেকের আন্তরিকতাও পেয়েছি। তখন একটা গড় করে দেখেছিলাম, যে আমলারা লেখক ভালো তাদের ব্যবহারও ছিল ভালো। যাদের লেখার ক্ষমতা নেই, কিন্তু লিখে ফাটিয়ে ফেলেন তাদের ব্যবহারও ছিল খারাপ। এটা নিতান্তই একটা গড় করা ব্যাপার। তারপরও এই গড় ধারণা দিনে দিনে আরও জোরদার হয়েছে। 
এক্ষেত্রে দুটি উদাহরণ দিই। ২০০০ সালের দিকে মফস্বল থেকে শহীদুল জহিরকে দোকানের মোবাইল থেকে সাত টাকা মিনিট হিসেবে কল দিয়ে কথা বলতাম। সন্ধ্যার পর ফোন দিতাম সপ্তাহে অন্তত একদিন। মিনিট দশেক কথা হতো। তাঁকে কোনোদিন বিরক্ত হতে দেখিনি। আরেকজন আমলা লেখকের সাথে আন্তরিকতা হয়েছিল বছর কয়েক আগে। তিনি আমাকে অনূজতুল্য স্নেহ দেখাতেন। অবসরে যাওয়ার পর তিনিই আমাকে ভাই ডাকা শুরু করলেন। তার এই অমায়িক ব্যবহারে এখনও স্তম্ভিত হয়ে আছি।
একটা সময়ে দৈনিকের সাহিত্য পাতার খুব গুরুত্ব ছিল। তখন সাহিত্য সাময়িকীকে সাম্প্রতিক সাহিত্যের জানালা মানতাম। সেখানে অনেক কবি-লেখককে লিখতে দেখতাম, মনে হতো, এরাই বাংলাসাহিত্যের সাম্প্রতিক বিধাতা। অবসরে যাওয়ার পর তারা পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকী থেকে তো বিদায় হয়েছেই, এমনকি 'পৃথিবীর প্রগাঢ় প্রস্রাবের ফেনায়' একেবারে ভেসে গেছে। 
বিএনপির আমলে ময়মনসিংহের এক ডিসি ছিলেন। ওই পাগলের সাহিত্যে ময়মনসিংহ শহর তখন পাগল পাড়া ছিল। একদিন রাতে তার দরবারে গিয়ে দেখি প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মাহফুজ উল্লাহও বসে বসে হু হু করছেন। ওই আমলা কবির লেখা কিন্তু প্রথম আলোর তখনকার সুবিবেচক সাহিত্য সম্পাদককেও ছাপতে হয়েছিল। সাহিত্যের সমঝদাররা এই ধরনের কিছু আমলা লেখকের দাপট আশপাশে এখনও দেখে থাকেন। এটিও অক্ষমদের একধরনের আস্ফালনই।
শেষ কথা বা জাতির কাছে শেষ প্রশ্ন হলো, আপনারা কী ধরনের আমলা লেখক দেখতে চান? নবীরুল মার্কা, নাকি বঙ্কিম, ওয়ালীউল্লাহদের মতো? 
নবীরুলের মতো লেখক না চাইলেও কিন্তু থাকবে। তারা কিন্তু তাদের লেখাটাও লিখবে? সেটা কাগাবগা যাই হোক। কিন্তু তারা নিশ্চয়ই ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের অপসাহিত্যের বোঝা রাষ্ট্র ও জনতার ওপর চাপিয়ে দেবে না। তারা নিশ্চয়ই লেখার ব্যাপারে অপচয়ী না বরং সংযমী হবে, এবং তাতে নিজের প্রতিও সুবিচার করা হবে। কেননা, কে না জানে, 'সে কহে বিস্তর মিছা, যে কহে বিস্তর।'

ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ- লেখক,সাংবাদিক এবং প্রকাশক