বাংলাদেশের শিল্প সংস্কৃতির জগত দীর্ঘদিন ধরে একটি জোকার এন্ড ব্রোকার চরিত্র নিয়ে এগিয়ে চলছে। তাদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠবার জন্য অনেক শিল্পীর(!) 'চোক্ষের ভিত্রে ভিক্ষার থইলা' (একটি তেনুয়া প্রবাদ) অথবা 'দে রে দে দেহ খুইলা' (বাংলা সিনামার গান, ডায়লগ ও দৃশ্যের সারাংশ মূলক একটি কথা) অথবা 'ফাইট্ট্যা যায়' প্রকারের উদ্বেগ আবেগ, বিকৃতি ও দূর্নীতির চিত্র সকলের কাছেই স্পষ্ট।
বিভিন্ন টেলিভিশন টকশো, পত্র পত্রিকার রিপোর্টের ভিতরে গানের নাটকের সিনামার অসংখ্য স্টার দেখি। গুরু দেখি! এরা আসলে কতটুকু স্টার! কি মাপের গুরু! তাদের সৃষ্টি কি? কি তাদের নিজস্বতা? জাতির মধ্যে তারা কি প্রকার দর্শন বা অস্তিত্ব বা ব্যক্তিত্বের অনুসরণ সংযোজন করেছেন?
মেগাস্টার ভেগাস্টার ইত্যাদি শব্দ দিয়ে আমরা যাদেরকে নিয়ে হৈচৈ করি, তারা কি সত্যি সত্যিই তাই! না কি শুধুমাত্র বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে এদেরকে সং সাজানো হয়েছে?
প্রশ্ন অনেক। উত্তর শূন্য।
এরকম একটি শূন্যতার মধ্যে হিরো আলম একমাত্র হিরো, যিনি তার নিজস্ব প্রকৃতি এবং ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে শারীরিক, সামাজিক ও আর্থিক, সকল প্রকার অবহেলা, প্রতিকূল, প্রতিক্রিয়া ছিন্ন করে নিজেকে দেশের সকল মানুষের সাথে যুক্ত করেছেন। দেশের খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষের মনে জীবনের ক্ষেত্রে ইচ্ছাশক্তির প্রভাব দেখিয়ে দিয়েছেন।
বিশ্বাস করি, সাম্প্রতিক ঘটনার জন্য তিনি বিব্রত না থেকে সকল বিকৃতি ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে জীবনশক্তিপূর্ণ একজন নায়কের নিজস্বতা এবং অনুস্মরণযোগ্য অবদান রাখবেন। জনপ্রিয় ইতিহাস হয়ে বাঁচবেন।
*
নাভেদ আফ্রিদী, কবি