শিক্ষা মানুষের মধ্যে তুলনামূলক কিছু মানবিক মূল্যবোধ তৈরি করে দেয়। যা দ্বারা তৈরি হয় সামাজিক সংস্কৃতির স্তম্ভ। কিন্তু সেই শিক্ষা যখন হয় কেবলই বিক্রির, সার্টিফিকেট সর্বস্ব, বানায় বিক্রেতা- তখন সামাজিক শূন্যতা পূরণ করে ধর্ম, তা পারলৌকিক ভয় আর লোভ দিয়ে পুরো কালের নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখার চেষ্টা করে।
কিন্তু সমাজতো পার করে এসেছে হাজার হাজার বছর। ইতারামো এবং স্খলনের অভিজ্ঞতা এর ভাঁড়ারে বিপুল আর সমকালীন পুঁজিবাদী টানাপোড়েনের মধ্যে মানুষ ধর্মের লোভ আর ভয়ের নৈতিকতা ভুলে যায় মুহূর্মুহু। ফলে ধর্মও ব্যার্থ হয় অথবা সমকালীনতার সাথে সংঘাতে সে গোঙ্গায় তার অন্ধ ভক্তের দেহ-মনে।
একদল লড়াই করে আধুনিকতার নামে তৈরি হওয়া অসংলগ্ন কিছু মূল্যবোধ নিয়ে। তারাও এসব মূল্যবোধকে অন্ধের মতো, অন্ধ ধার্মিকের মতো আশ্রয় করে। এরা তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ মনে করে ধর্ম এবং ধর্মের অন্ধ ভক্তদের। সমস্যাটা এখানেই তৈরি হয়। কারন, সামাজিক শূন্যতায় যে তুলনামূলক মানবিক মূলবোধ সৃষ্টি করা প্রয়োজন সেটা না করে সব খালি করলে বেশিক্ষণ খালি থাকেনা। সমাজ-মানসে পুরানো সংস্কার ফিরে আসে, হোক তা লোকাচার বা ধর্ম, কোন কিছুকে আশ্রয় করেই ফেরে।
প্রতিটা নরগোষ্ঠীর যেমন ভিন্নতা আছে তেমনি তার সমাজ বিবর্তনেরও একটা ধারাবাহিকতা আছে। এটা মাথায় নিয়েই নির্দিষ্ট সমাজের জন্য উন্নত সামাজিক সংস্কৃতি বিনির্মাণ করতে হয়। তাও একজনের কম্ম নয়, বহুজনের সামাজিক সৃষ্টির কাজ। হঠাৎ করেই সবকিছু বাদ দিয়ে ভিন দেশের ভিন্ন সংস্কৃতি রাতারাতি প্রতিস্থাপন করা যায় না। যেমনটা আকাশ-সংস্কৃতি, বিশ্বায়নের নামে চালানোর চেষ্টা হচ্ছে। এর ফলে তাৎক্ষণিক একটা চমক আমরা দেখি কিন্তু তা কেবল সমাজের উপরি তলায় আলোড়ন তুলে যায়, ভেতরে পৌঁছায় না, তবে পরিবর্তন কিছু না করলেও তা এলোমেলো করে যায়। আর সামাজিক অসংলগ্নতা, অস্থিরতা বাড়ে প্রতিদিন।