গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা নিলারমাঠ এলাকায় পরকীয়া প্রেমের জেরে নিজের তিন বছরের শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ট্রাংকে লুকিয়ে রেখে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে ১৬ দিন পর পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মা সেতু বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা নিলারমাঠ এলাকার রুবেল শেখের সঙ্গে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গজালিয়া গ্রামের হাসান মোল্লার মেয়ে সেতু বেগমের (২৫) বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র সন্তান ছিল তিন বছর বয়সী ফারিয়া। জীবিকার তাগিদে প্রায় এক বছর আগে রুবেল শেখ সৌদি আরবে পাড়ি জমায়।
স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে প্রায় ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে ফরিদপুর সদরপুর উপজেলার মাঝকান্দি এলাকার জাফর মুন্সির ছেলে মিরাজ মুন্সির (২৩) সঙ্গে সেতু বেগমের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে সেই পরিচয় পরকীয়া সম্পর্কে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ এই সম্পর্কের পথে ‘বাধা’ সরাতে গত ২২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সেতু বেগম শ্বশুরবাড়িতেই নিজের সন্তান ফারিয়াকে ওড়না প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে মরদেহটি বাড়ির একটি ট্রাংকের ভেতরে লুকিয়ে রেখে প্রেমিক মিরাজের সঙ্গে পালিয়ে যান।
তবে প্রেমিকের সঙ্গেও শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেননি সেতু বেগম। ঘটনার ১৩ দিন পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি মিরাজ মুন্সী তাকে ফরিদপুরে তার মামার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সেতু বেগম স্বীকার করেন যে, তিনি নিজের সন্তানকে হত্যা করে ট্রাংকে লুকিয়ে রেখেছেন।
শনিবার সেতু বেগমের মা ও মামা তাকে ফরিদপুর থেকে গোপালগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ট্রাংক থেকে পচে-গলে যাওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু বলেন, মায়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আমরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত মা সেতু বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরকীয়া প্রেমিক মিরাজ মুনশিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম