নওগাঁর আত্রাইয়ে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে এক ভয়াবহ গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় ২টা পর্যন্ত উপজেলার থাঐপাড়ার দক্ষিণ ভাঙাব্রিজ নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
ডাকাতদল সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে প্রবাসীদের মাইক্রোবাসসহ অন্তত ১৫ থেকে ২০টি (মতান্তরে ৩০-৪০টি) যানবাহনে একযোগে তাণ্ডব চালায়। এ সময় অস্ত্রের মুখে চালক ও যাত্রীদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার, মোবাইল ও নগদ অর্থ লুটে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১৫-২০ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাতদল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে মহাসড়কের ওই স্থানে রাস্তার ওপর একটি নৌকা এবং ভাজা বিক্রেতাদের পরিত্যক্ত টেবিল ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। এতে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী এবং স্থানীয় বেশ কিছু যানবাহন আটকা পড়ে। গাড়িগুলো থামামাত্রই ডাকাতরা ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চালক ও যাত্রীদের জিম্মি করে মারধর শুরু করে এবং সর্বস্ব লুটে নেয়।
ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, ডাকাতদলের মূল টার্গেট ছিল বিদেশফেরত প্রবাসীদের গাড়িগুলো। একই সাথে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে আসা সৌদি আরবফেরত দুটি এবং সিঙ্গাপুরফেরত একটি মাইক্রোবাস ডাকাতের কবলে পড়ে।
রাণীনগর উপজেলার ধনপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী আকিল উদ্দীনের (২৬) মামা ওমর ফারুক জানান, প্রায় পাঁচ বছর পর ভাগ্নে আকিল দেশে ফিরেছেন। তাকে ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ করে মাইক্রোবাসযোগে তাঁরা বাড়ী ফিরছিলেন। রাত অনুমান পৌনে ১টার দিকে ভাঙাব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ডাকাতরা তাঁদের গাড়ি থামিয়ে মারধর করে। ওমর ফারুক বলেন, ডাকাতদল মাইক্রোর সামনে এসে মারপিট ও চাকু ধরে সৌদি থেকে নিয়ে আসা প্রায় দুই ভরি স্বর্ণের গহনা, চারটি মোবাইল ফোন, নগদ ১২ হাজার টাকা এবং আকিলের স্ত্রী ও বোনের নাক ও গলা থেকে স্বর্ণের গহনা ছিঁড়ে নেয়।
তিনি আরও জানান, প্রবাসীদের ৩টি গাড়ি ছাড়াও সড়কে আটকে থাকা ধানের গাড়ি, মাছের গাড়ি ও বেশ কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ও চালকদের মারপিট করে নগদ টাকা ও মালামাল লুট করা হয়েছে।
একই স্থানে ডাকাতের কবলে পড়েন জয়নাথপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আশরাফুল ইসলাম। তাঁর পিতা সাইদুর রহমান বলেন, আমার ছেলে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে নাটোর থেকে সিএনজি যোগে বাড়ি আসছিল। ওই স্থানে আসার পর ডাকাতরা তাদেরকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি আইফোন ও একটি মোবাইল ফোনসহ নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়।
বিহারীপুর গ্রামের মাইক্রোবাস চালক হাবিবুর রহমান বলেন, আমি ঢাকা থেকে মাইক্রোবাস নিয়ে আসছিলাম। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন যানবাহনের লম্বা সারি দেখতে পেয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি। একপর্যায়ে ডাকাতরা আমার গাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমার কাছে থাকা প্রায় ৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এদিকে, আক্রান্ত হওয়া এক মাইক্রোবাস চালকের অভিযোগ ঘটনার পরপরই তিনি ‘৯৯৯’ নম্বরের মাধ্যমে আত্রাই থানায় ফোন দিলে পুলিশ তাঁকে জানায় এটি তাদের এরিয়া না। তবে এ বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন আত্রাই থানার ওসির দায়িত্বে নিয়োজিত এসআই ইফতেখার। তিনি বলেন, আমাদের থানায় ওই সময় ৯৯৯ নম্বর থেকে কোনো ফোন আসেনি। বরং ঘটনার পরপরই বিষয়টি আমরা জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়েছি।
গণডাকাতির এই চাঞ্চল্যকর খবরের পর সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল এবং জেলা ডিবি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম গণডাকাতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে সৌদি প্রবাসী আকিলের বাবা লবির উদ্দীন বাদী হয়ে থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেছেন। ডাকাতদলকে গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম