নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার জগৎনগর গ্রামে ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে বাঁধা দেওয়ায় জমির মালিককে পুলিশ ও জেলের ভয় দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আলপনা ইয়াসমিন তাঁকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে এই স্বাক্ষর নিয়েছেন। এঘটনায় নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
গত ২ জুন ইউএনও আলপনা ইয়াসমিন আমাকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে পাঠালে। ওইদিন বেলা ১১টায় জমির কাগজপত্র নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে গেলে জমির নথিপত্র না দেখে আমাকে পুলিশ ও জেলের ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজে জোড় করে স্বাক্ষর নেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৪ জুন ইং তারিখে সরেজমিন গেলে প্রধান শিক্ষক মোছাঃ পিয়ারা বেগম দুটি দলিল দেখায়ে বলেন, জগৎনগর কলকুটি ৯০ নং বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষে , মহাপরিচালক ,প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর , বাংলাদেশ ঢাকার দুটি দলিলে ২৪ শতক জমি রয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, জগৎনগর মৌজার ২৫ ও ২৬ নম্বর হাল দাগে ৩ তিন একর ০৭ শতক জমির মধ্যে ১৪ শতক জমিতে জগৎনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
২৬ নম্বর দাগের অবশিষ্ট জমির মালিক আমি। আমাদের জমিতে স্কুলের নতুন একটি ভবন নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে আমরা বাধা দিয়েছিলাম। এরপর নওগাঁ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আমার বিরুদ্ধে বদলগাছী ইউএনওর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করে।
প্রধান শিক্ষক পিয়ারা বেগম বলেন, মোজাহার আলী সরদারের দেওয়া দানপত্র দলিলের ২য় পাতায় জগৎনগর মাদ্রাসার নামে দানপত্র করে দেওয়ার কথা লিপিবদ্ধ করা আছে,যাহা ভুল হয়েছে। মোজাহার আলী সরদার বা তার ওয়ারিশগনের নিকট থেকে ভুল সংশোধনী কেন করে নেওয়া হয়নি।
পরে প্রধান শিক্ষক পিয়ারা বেগম আমার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আলপনা ইয়াসমিন ৩১/৫/২০২২ ইং তারিখে আমাকে নোটিশ প্রদান করে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র, দলিল পত্র ও সাক্ষীসহ গত ২/০৬/২০২২ ইং তারিখে তার কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার জন্য বলেন। আমার জমির দলিল পত্র ও আদালতে চলমান মামলার নথিপত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দেখালে। তিনি কোন কিছু না দেখে আমাকে পুলিশ ও জেল হাজতে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভবন নির্মাণের কাজে বাধা দিবে না মর্মে সাদা কাগজে জোর পুর্বক স্বাক্ষর নেন। এই কর্মকান্ডে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আলপনা ইয়াসমিনের উপরোক্ত কার্যকলাপের বিচার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আলপনা ইয়াসমিনের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, অভিযোগকারী বায়েজিদকে পুলিশ ও জেলের ভয়ভীতি দেখায়ে জোরপুর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। তিনি নিজের ইচ্ছায় স্বাক্ষর করেছেন। প্রধান শিক্ষক পিয়ারা বেগমের সরবরাহকৃত মোজাহার আলী সরদারের দানপত্র দলিলের ২য় পাতায় জগৎনগর মাদ্রাসার নামে দানপত্র করে দেওয়ার কথা মোঃ মোজাহার আলীর স্বীকারোক্তিতে লিপিবদ্ধ করা আছে এবং মোছাঃ দেলোয়ারা বেগম তাঁর পিতা ইব্রাহিম আলী সরদারের সম্পতি প্রাপ্তির অধিকারী নন বলে প্রশ্ন করলে বিষয়গুলো দেখবেন বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ খলিদ মেহেদী হাসান পিএ ফোনে বললে, অভিযোগটি এখনো আমি দেখিনি। অভিযোগটি দেখে আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো ।
এলাকাবাসীরা বলেন, জসৎনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে কোন জমি মোজাহার আলী সরদার দেননি। দিয়েছেন মাদ্রাসার নামে প্রথম দলিলের কোন জমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে নাই। তারা আরো বলেন, স্কুলের সামনের জমিটি ব্যক্তি মালিকানাধীন এই জমির মালিক বায়েজিদ ।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমএম/আরএএম