নওগাঁর সদর উপজেলার বিল পারের দুই গ্রাম কালীপুর-ভীমপুরে কোন সংযোগ সড়ক ছিল না। যোগাযোগের ব্যবস্থা না থাকায় জমির ফসল সংগ্রহে ভোগান্তি পোহাতে গ্রামের কৃষকরা। ধান সংগ্রহে খরচ করতে হয়েছে অতিরিক্ত অর্থ। এছাড়া শহরে যাতায়াতের জন্য প্রায় ২৫-৩০ কি মি পাড়ি দেওয়া লাগত।
এবার দুঃখ গুচল এই দুই গ্রামের মানুষগুলোর, প্রথম বারের মত তৈরি হল কালীপুর-ভীমপুর সংযোগ সড়ক। উপজেলার হাসাইগাড়ি ইউনিয়নের কালীপুর-ভীমপুর রাস্তার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪১০০ মিটার, প্রস্থ প্রায় ১৬ ফিট এবং ফসলি ভূমি থেকে উচ্চতা স্থানভেদে প্রায় ১৭ ফিট। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে ১৫৯ মেট্রিকটন চাল, ১৫৯ মেট্রিকটন গম এবং নগদ অর্থ ৭৫ লক্ষ ৫৮ হাজার ৯২৫ টাকা ব্যায়ে নির্মিত এই মাটির রাস্তার কাজ প্রায় শেষের দিকে।
হাসাইগাড়ি ইউনিয়নে বারোমাসি বিল এলাকায় প্রায় ১ হাজার পরিবার বসবাস করে থাকেন যাদের বাৎসরিক প্রধান আয়ের উৎস হচ্ছে কৃষিকাজ। ঐ বিলে প্রায় ১০-১২ হাজার বিঘার ধান প্রতি বছর উৎপাদন হয়ে থাকে। এছাড়া অন্যান্য সবজি জাতীয় ফসলও উৎপাদন করে থাকেন স্থানীয় চাষীরা। পূর্বে যেখানে ইরি বোরো মৌসুমে জমি থেকে ফসল ঘরে তুলতে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হত সেখানে এ বছর এই রাস্তা হওয়ার পর ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা খরচ হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।
এছাড়া শহরে জরুরী প্রয়োজনে যেখানে ২৫-৩০ কি মি রাস্তা ঘুরে যেতে হত এখন ১২-১৫ কিমি মধ্যেই শহরে প্রবেশ করতে পারবেন স্থানীয়রা। এছাড়া নিচু ভূমি হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে যেখানে থৈ থৈ পানি থাকার কারণে নৌকা নিয়ে যাতায়াত করতে হত এখন এই রাস্তা হওয়ার কারণে সব মৌসুমেই প্রচলিত গাড়ি ব্যবহার করে খুব অল্প সময়ের মধ্যে যাতায়ত করতে পারবেন এমটাই জানাচ্ছিলেন এলাকাবাসী।

এ রাস্তা নির্মাণে নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদার মেকের আলী জানান, ৪১০০ মিটার তথা ৪কি মি ১০০ মিটার এই রাস্তার কাজ প্রায় শেষের দিকে। রাস্তাটিতে তাঁরা অন্যত্র থেকে মাটি নিয়ে এসে রাস্তার নির্মানের কাজ খুব দ্রুততার সাথে করে যাচ্ছেন। কাজ শেষ হওয়ার পর রাস্তাটি দিয়ে হাজার হাজার মানুষ ও শত শত যানবাহন চলাচল করতে পারবে।
বর্তমানে মোটরসাইকেল, টমটম, ভ্যানগাড়ি, সাইকেল ইত্যাদি যানবাহন চলাচল করছে রাস্তাটিতে। নির্মান কাজ শেষে এটিতে ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মক্ত করে দেওয়া হবে। তবে সরকার রাস্তাটি যদি দ্রুত পাকা করার ব্যবস্থা নেওয়া হলে চলাচলের আরও সুবিধা এবং পর্যটনের দাড়ও উন্মক্ত হবে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে নওগাঁ সদর উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কর্মকর্তা (পি আই ও) মাহাবুবুর রহমান জানান, বাংলাদেশ সৃষ্টি হওয়ার পর এই প্রথম ঐ এলাকার মানুষ রাস্তা পেল। এতে করে ওই অঞ্চলের মানুষের কৃষিখাতে ব্যপক উন্নয়ন হবে বলে তিনি আশা করেন। তিনি বলেন, যেখানে পূর্বে ফসল পরিবহনে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ লাগত সেখানে এখন থেকে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা খরচ হবে। পূর্বে সহজে ফসল পরিবহণের জন্য কৃষকরা যানবাহন পেত না । কিন্তু রাস্তাটি হওয়ার পর এখন খুব সহজে তা পাবে। জরুরি কোন রোগি অথবা শহরে যাতায়তের জন্য যেখানে প্রায় ৩০ কি মি রাস্তা পাড়ি দিতে হত এখন তা কমে ১৫ কি মি তে চলে আসবে বলে জানান তিনি।
এই একটি রাস্তা বর্তমানে পাল্টে দিয়েছে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাংলাদেশ সৃষ্টি হওয়ার পর প্রথম রাস্তা পেয়ে আনন্দিত এলাকাবাসী।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এসএ/আরএএম