রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ও তাঁর পত্নী সারদা দেবীর কাছে,— রহিম, কামাল, রাম, লক্ষণ এক হলেও নিন্দুকদের কাছে প্রমাণ দিতে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব সে সময় অসাধ্য কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। যা একজন নিষ্কাম যোগী সাধক ব্যতিরেকে ছিল অসম্ভব।
ইসলামী সাধনার অংশ হিসেবে তিন দিন ধরে নামাজ পড়েছিলেন, যা তাঁর সর্বধর্ম সমন্বয়ের সাধনার একটি অংশ ছিল। তিনি মুসলিমদের সাথে মসজিদে নামাজ পড়তে চেয়েছিলেন এবং এই সাধনার সময় 'আল্লাহ' মন্ত্র জপ করতেন এবং মুসলিমদের পোশাক পরে নিজের সাধনা চালিয়ে যান।
অন্যান্য ধর্মীয় সাধনাও তিনি করেছেন। শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মেই নয়, শ্রীরামকৃষ্ণ খ্রিস্ট ধর্মও একই রূপে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। তিনি বিভিন্ন ধর্মের সাধনা করার মাধ্যমে "যত মত, তত পথ" এই পরীক্ষিত ঐশী মুক্তি দার্শনিক যুক্তি বাণীর প্রতিফলন ঘটিয়েছিলেন।
শ্রীরামকৃষ্ণের অসাম্প্রদায়িক ও সমন্বয়মূলক ধর্মচেতনার কারণে তিনি সকল ধর্মকে শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন। তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে গিয়ে সেখানে উপস্থিত থেকে আরাধনা করতেন এবং প্রতিটি ধর্মের মূল সত্যকে উপলব্ধি করতেন।
" অ্যাবসার্ডিজম " বা অযৌক্তিকতা হল একটি দার্শনিক তত্ত্ব যা বিশ্বাস করে যে, মহাবিশ্ব অযৌক্তিক এবং অর্থহীন। যেখানে মানুষ অর্থ খোঁজার চেষ্টা করে এবং এই অর্থহীনতার সাথে তাদের সংঘাত বা "অ্যাবসার্ড" দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এটি মানুষের যুক্তিবাদী সত্তা এবং একটি উদ্দেশ্যহীন, অযৌক্তিক মহাবিশ্বের মধ্যেকার বিরোধকে নির্দেশ করে, যার ফলে মানুষের কাজ ও অস্তিত্বের উদ্দেশ্যহীনতা দেখা দেয়।
অ্যাবসার্ডিজমের মূল ধারণাঃ
√√ অযৌক্তিক মহাবিশ্ব:
অ্যাবসার্ডিজম অনুযায়ী, মহাবিশ্ব inherently অযৌক্তিক বা অর্থহীন। এর কোনো বৃহত্তর উদ্দেশ্য, লক্ষ্য বা অর্থ নেই।
√√ অর্থের সন্ধান:
মানুষ স্বাভাবিকভাবেই তাদের জীবনে এবং মহাবিশ্বের অর্থ এবং উদ্দেশ্য খুঁজে পেতে চান।
√√ অ্যাবসার্ড দ্বন্দ্ব:
যখন মানুষ তাদের নিজেদের জিজ্ঞাসু মনের নানান প্রশ্নের লুকোনো দার্শনিক অর্থ অনুসন্ধানের এই আকাঙ্খাটিকে একটি অর্থহীনভাবে মহাবিশ্বের সাথে সাংঘর্ষিক প্রকারে মুখোমুখি হন,উত্তর না পেয়ে জড়িয়ে পড়েন —শূণ্য সত্য দৈন্য দ্বৈতসত্তা শাসিত মনে, তখনই ঘটে চলে আসল বিপত্তি। এই সংঘাত বা "অ্যাবসার্ড" মানুষের মনে নানা দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।
√√ অর্থহীনতা:
এই প্রকার মানসিক দ্বন্দ্বের ফলে, মানুষের সকল কাজ এবং অস্তিত্বই শেষ পর্যন্ত অর্থহীন হয়ে পড়ে।
√√ অ্যাবসার্ডিজম ও নিহিলিজমঃ
অ্যাবসার্ডিজম নিহিলিজম বা অস্তিত্বহীন নিহিলিজমের সাথে সম্পর্কিত, কারণ উভয়ই জীবনের কোনো বৃহত্তর অর্থ বা উদ্দেশ্যকে অস্বীকার করে। তবে অ্যাবসার্ডিজম এই অর্থহীনতা বা "অ্যাবসার্ডিটি" কে আরও নির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করে।
উদাহরণঃ
প্রত্যেক মানুষের মনে একটি অ্যাবসার্ড নাটক থাকে। উদাহরণ হিসেবে বক্তারা অর্থহীন ও অযৌক্তিক কথা বলতে পারে, অথবা সময় ও ঘটনার মধ্যে কোনো যৌক্তিক সম্পর্ক নাও থাকতে পারে।
সংক্ষেপে, অ্যাবসার্ডিজম একটি বিশ্বকে তুলে ধরে যেখানে মানুষের অর্থ খুঁজে পাওয়ার আকাঙ্খা অর্থহীন করে তোলে। মানব মন তখন মহাবিশ্বের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, সৃষ্টির বিরুদ্ধে বিরুদ্ধাচার করে, যার ফলে একটি অযৌক্তিক এবং দ্বন্দ্বপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
— অ্যাবসার্ডিজম হল, দার্শনিক তত্ত্ব যে মহাবিশ্ব অযৌক্তিক এবং অর্থহীন। এটি বলে যে, অর্থ খোঁজার চেষ্টা মানুষকে একটি আপাত অর্থহীন বিশ্বের সাথে দ্বন্দ্বে নিয়ে যায়। এই দ্বন্দ্ব যুক্তিবাদী মানবতা এবং একটি অযৌক্তিক মহাবিশ্বের মধ্যে, উদ্দেশ্য এবং ফলাফলের মধ্যে দ্বান্দ্বিক প্রহসনে কাজ করে।
"যত মত তত পথ" এই উক্তিটির মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, যে একই লক্ষ্যের দিকে পৌঁছানোর জন্য নানা রকম পথ বা মত থাকতে পারে, কিন্তু নিষ্ঠার সাথে সাধনা করলে সব পথেই ঈশ্বর লাভ করা সম্ভব। উক্তিটির যথাযথ ব্যাখ্যাঃ
√√ সর্বধর্ম সমন্বয়:
শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর নিজের সাধনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে উপলব্ধি করেছিলেন যে, বিভিন্ন ধর্মীয় মত বা পথ থাকলেও তাদের মূল লক্ষ্য একই – ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করা।
√√উদারতা ও সহিষ্ণুতাঃ
এই বাণীর মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় গোঁড়ামি দূর করে বিভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার বার্তা দিয়েছেন।
√√অনুশীলন ও উপলব্ধিঃ
তিনি বিশ্বাস করতেন যে, নিষ্ঠার সাথে যে কোনো পথে সাধনা করলে ঈশ্বরের দর্শন পাওয়া যায়।
এই উক্তিটি শ্রীরামকৃষ্ণের সর্বধর্ম সমন্বয়ের দর্শনকে তুলে ধরে এবং এটি ভারতীয় আধ্যাত্মিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ ও উদার উক্তি হিসেবে বিবেচিত হবার পথ দেখিয়েছেন।
√√ এইবার বাবা লোকনাথ প্রসঙ্গে আসিঃ
আরব দেশ মক্কার মাওলানা আব্দুল গফুর ছিলেন, বাবা লোকনাথের গুরুদের মধ্যে একজন। যাঁর কাছ থেকে তিনি ইসলাম ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার তালিম নিয়েছিলেন। বাবা লোকনাথ এবং তাঁর দুই শিষ্য, ভগবান গাঙ্গুলী ও ত্রৈলঙ্গস্বামীকে নিয়ে মক্কায় আব্দুল গফুরের সাথে আধ্যাত্মিক আলোচনা করেছিলেন। বাবা লোকনাথ নিজেই এই তিনজন গুরুকে "তিনজন ব্রাহ্মণ" হিসেবে উল্লেখ করতেন, যা তাঁদের গভীর আধ্যাত্মিক ও আন্তঃধর্মীয় সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।
মানুষের এই মনোজগৎ ও হৃদয়ঘটিত প্রাণায়ামের দ্বান্দ্বিক প্রহসনের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বাস্ত হয়েছে হচ্ছে হবে "ধরণী কুল। " অনেক মানুষ আগে এখন পরে বাঁচতে চাইছে না। সোনা রূপা রত্ন পাথর সুরা মদ গরু ছাগল মোষ দুম্বা মৎস্য প্রজাতি সুন্দর কুৎসিত নারীরা ভোগ বিচারে ধর্মের বাইরে থেকেছে। তাতেও মানুষের ভোগ উপাচারে মুক্তি মেলেনি; হৃদয়ে থেকেছে, কোথাও না কোথাও জানি এক অপার শূণ্যতা অদৃশ্য মায়া খিদে ফোড়ন। মুক্তি পেতে মানুষ বার বার ছুটেছে তাঁদের ঐশীগ্রন্থের কাছে। ধর্মগ্রন্থের কাছে। গুরুবাদের কাছে। তবুও মানুষের মুক্তি মেলেনি। মানুষের হৃদয় — প্রচ্ছন্ন মুক্তি খিদের ভোগ যন্ত্রণা সয়ে ভোগ বেগানা আগুনে প্রজাপতির মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছে । ভোগের উন্নত সংস্করণ তৈরি করে মানুষ আরো বেহায়া উন্মত্ত উন্নততর সংকর প্রজাতি তৈরি করেছে। তাঁদের ভোগের সে রসুইঘরেও উপকরণ হিসেবে থেকেছে মোহ মায়া। কথিত মতে কতগুলো দামি কম দামের গ্রন্থ। যা পড়ে বের করে এনেছে কিছু অপসংস্কার অপকথা,কথিত দৈব অদৈব বাণী। যা পড়ে ভোগ উন্মত্ত মানুষ নিজেদের কতেক সময় ভেবেছেন,— একমাত্র তাঁরাই মহান। সে তাঁদের কথিত মহানত্বের সামনে যে বা যারাই মাথানত করেননি,প্রতিবাদ করেছেন,তাদের কচুকাটা করেছেন। মানুষ হত্যার সে ভয়াবহ ছক অদৃশ্য স্বর্গ পূণ্য মুক্তির বৈপরীত্যে থেকেছেন আরেক দল মানুষ। তারা কেবল নিজেদের আত্মার মুক্তি দাবী করে একাকি হেঁটেছেন।
ধর্মের নামে মানুষের নানা দুষ্কর্ম দেখে বীতশ্রদ্ধ হতাশ হয়ে নিজেদের ধর্মহীন করে নিয়েছেন। তাঁরা কোনো ধরনের মানব মনের দ্বিচারিতা বাদে ধর্মের নামে অপধর্মের কারাগার হতে মুক্তি চেয়ে মানুষের হতে চেয়ে নিজেদের নাস্তিক করে নিয়েছেন।
তবুও অপজ্ঞান ইতর মোহ সুখের সন্ধানে ছুটে চলেছে মানুষ। ধ্বংস বাদে মানুষের হাতে সৃষ্টির কোনো তুলি কার্বণ ডেটিং নাই। মানুষের চাহিদা সীমিত। অপ মানুষের ভুতুড়ে ছায়া হৃদয় নিয়ে হাঁটছে মানুষ। অপ হৃদয়ে মোহ মায়া মধ্যাকর্ষণ টানে দিনেরাতে ছুটে চলেছে মানুষ নামের পঙ্গপাল। অপ মানুষের মুক্তি নাই। মুক্তি নাই কথিত স্বর্গ বেহেশতে। অপ হৃদয়ে হয় না খোদা সাধনা চেতনার গড বুদ্ধ ঈশ্বর পালন। মানুষের তৃষিত হৃদয়। সে অশান্ত হৃদয় শান্ত করে দিতে পারেন — একমাত্র শ্রীজ্ঞান। সে শ্রীজ্ঞানে বাস করেন, " রহিম কামাল মার্ক ইলিয়ট জাকারবার্গ রাম কৃষ্ণ লক্ষণ। যত মত তত পথ হৃদয় মুক্তি দর্শন ।