শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : চট্টগ্রাম

সাতকানিয়ায় ফেরিওয়ালাকে অপহরণ: জনতার হাতে আটক সাত


মামুনুল হক- সাতকানিয়া প্রতিনিধি
DhakaReport24.com || 2022-09-20 18:23:00
সাতকানিয়ায় ফেরিওয়ালাকে অপহরণ: জনতার হাতে আটক সাত

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এক ফেরিওয়ালাকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।এ ঘটনায় জনতার হাতে সাত অপহরণকারী আটক হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টায় উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের গহীণ পাহাড়ী এলাকায়। স্থানীয় চেয়ারম্যানের সুপারিশে একজন অপহরণকারী মুক্ত হয়েছেন।

জানা যায়, সাতকানিয়ার কেওচিয়া ইউনিয়নের রাস্তারমাথা মাদারবাড়ি থেকে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় ও অনাদায়ে হত্যার উদ্যশ্যে উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের পশ্চিমে পাহাড়ি অঞ্চলে নিয়ে গেলে অপহৃতের আর্ত চিৎকারে এলাকার লোকজন ভিকটিমসহ আটজন অপহরণকারীদের আটক করেছেন। আজ (২০ সেপ্টম্বর) মঙ্গলবার সকাল সাতটায় সাতকানিয়ার রাস্তার মাথা থেকে মোঃ মহিউদ্দীন (৫২) নামে এক ফেরিওয়ালাকে সিএনজি চালিত ট্যাক্সিযোগে অপহরণ করে নিয়ে যায় অপহরনকারীরা।

অপহৃত মহিউদ্দীন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের তেওয়ারীখীল এলাকার মৃত আবুল হোসেন চৌধুরীর ছেলে।তিনি পেশায় ফেরিওয়ালা। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ সাতকানিয়ার রাস্তার মাথা মাদারবাড়ি এলাকার কেফায়েত উল্লাহর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।তাহার স্ত্রী একজন কাপড় ব্যবসায়ী। 

এ ব্যাপারে অপহরণের শিকার মহিউদ্দীন বলেন, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক সাতটার দিকে অপহরণকারীরা আমার বাসার সামনে গিয়ে দরজা খুলতে বললে আমি দরজা খুলি।তখন তারা বলে, তুমি লোকজন থেকে যে সমস্ত টাকা পাওনা আছ তা আমরা উদ্ধার করে দেব। এরপর সাথে সাথে কিছু বুঝে উঠার আগে তারা আমাকে টেনে হিচড়ে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে হাত বেধে ফেলে ও মুখ চেপে ধরে ট্যাক্সি যোগে আমাকে অপহরণ করে অজানা একটি পাহাড়ের গহীণ জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পথে উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের কালামিয়া পাড়ার পশ্চিমে আমার আর্ত চিৎকারের শব্দ শুনে মহিলারা এলাকার লোকজনকে খবর দেয়।পরে সকাল আনুমানিক নয়টার দিকে এলাকাবাসী তাদের দক্ষিণ পশ্চিমের আম বাগান নামক গহীণ পাহাড়ের মধ্যে গিয়ে আহত অবস্থায় অপহৃত আমাকে (মহি উদ্দীন) ও অপহরণকারীদের আটক করেন।পরে বিষয়টি স্থানীয়রা মেম্বার, চেয়ারম্যান ও থানা পুলিশকে খবর দেন।

অপহরণকারীরা হল, উপজেলার কেওচিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মাদার বাড়ি এলাকার আমিনুল হকের ছেলে আবির আহমদ শাওন (১৮), মোঃ ইছমাইলের ছেলে মোঃ ইকবাল (২২), মোঃ হোসেনের ছেলে মিনহাজ (১৮) ও ঢেমশা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের হাঙ্গরখীল এলাকার আমীর হোসেনের ছেলে কোরবান আলী (২০), আলতাজ মিয়ার ছেলে মোমিন (১৯), আব্বাস উদ্দীনের ছেলে সিএনজি চালক রাকিব (১৬) ও সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের তাতী পাড়ার মঞ্জুর আলমের ছেলে ফয়সাল (১৮)। ফয়সাল এসএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় এলাকাবাসী স্থানীয় চেয়ারম্যানের কথায় তাকে ছেড়ে দেন।

অপহৃত মহিউদ্দীন আরো জানান, পাহাড়ে অপহরণকারীরা আমার শরীরের বিভিন্ন অংশে লাথি, কিল, ঘুষি ও লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি  মারতে থাকে। তাদের একটাই কথা ছিল ঐখান থেকে প্রাণে বাচতে চাইলে বিশ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে, না হলে তাকে হত্যা করা হবে। যে ছেলেটিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে সে হুংকার দিয়ে বলেছিল, তোকে মেরে ফেললে এখানে কে বাঁচাতে আসবে। আমি বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করি। আমার স্ত্রী ও কাপড়ের ব্যাবসা করে।সত্যিকার অর্থে কেন তারা আমাকে অপহরণ করল সঠিক কারণ জানি না। মুক্তিপণ আদায়ের জন্য এ ঘটনা করা হয়েছে।

সোনাকানিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দীন বলেন, এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে ওই এলাকায় গিয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করি। ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ফয়সাল নামের একটা ছেলে, ঘটনা দেখতে গেলে এলাকাবাসী তাকে আটকিয়ে রাখছে বললে তাকে ছেড়ে দিতে বলি। তাছাড়া সে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।এর বেশি আমি জানি না।

উপজেলার কেওচিয়া ইউনিয়নের ওছমান আলী বলেন, অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হউক।সাতকানিয়া থানার উপ-পরিদর্শক রাজু আহমেদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সবাইকে থানায় নিয়ে আসি। সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারেক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, উক্ত ঘটনার ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমজার/আরএএম