শুক্রবার স্বর্ণের দাম সামান্য বাড়লেও চলতি সপ্তাহে বড় ধরনের দরপতনের পথে রয়েছে মূল্যবান এই ধাতু। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে—এমন প্রত্যাশায় স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৮৮ দশমিক ৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত এর দাম কমেছে প্রায় ২ শতাংশ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩২৩ দশমিক ১০ ডলারে উঠেছে।
এদিকে মার্কিন ডলারও চলতি সপ্তাহে দর বাড়ার পথে রয়েছে। এতে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফাও বাড়ছে।
ওএএনডিএর জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, সুদহার পরিস্থিতির দিকেই বাজারের নজর থাকবে। বাজারে ফেডের আরও কঠোর নীতি গ্রহণের প্রত্যাশা বাড়লে ডলার শক্তিশালী হয়, যা স্বর্ণের দামের জন্য নেতিবাচক।
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরও সুদহার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে—ফেডের দুই নীতিনির্ধারকের এমন বক্তব্যের পর উচ্চ সুদহার দীর্ঘ সময় বহাল থাকার প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে ফেড নীতিনির্ধারণী সুদহার এক-চতুর্থাংশ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়েছিল।
ফিলাডেলফিয়া ফেডের প্রেসিডেন্ট আনা পলসন বলেন, মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে ফিরিয়ে আনা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে যে নীতিপথ প্রয়োজন, তিনি তা সমর্থন করবেন। একই সঙ্গে শ্রমবাজারের ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখা হবে। নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামসও আরও কঠোর মুদ্রানীতির ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হলেও সুদহার বাড়লে সুদ বা মুনাফা পাওয়া সম্পদের আকর্ষণ বাড়ে। ফলে স্বর্ণের চাহিদায় চাপ তৈরি হতে পারে।
তবে জে. রোটবার্ট অ্যান্ড কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা জোশুয়া রোটবার্ট বলেন, বছরের বাকি সময় স্বর্ণের বিষয়ে তিনি ইতিবাচক। চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাড়তে থাকা সরকারি ঋণের কারণে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে স্পট রুপার দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ৮১ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৫৬ দশমিক ৯০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৫৭ দশমিক ৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তিনটি ধাতুর দামই চলতি সপ্তাহে কমার পথে রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম