সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সহোদর পরপারে, স্বামীদের কথা ভেবে জ্ঞান হারাচ্ছে স্ত্রীরা, এখনও চলছে আহাজারি।
বাবা পরিবারের কর্তা। যার বাবা আছে তার মাথার ওপর বটবৃক্ষের ছায়া আছে, আর যার নেই সে জানে বাবার শূণ্য জায়গা যে অপূরণীয়। কিন্তু বাবা হারা শেখ রাহিন (২), তাসফিয়া (৪) এবং নিহত শেখ সুমনের নিশাত (৭), মারিয়া (৪) চার অবুঝ শিশু এখনও খুঁজছে তাদের বাবাকে। তারা এখনও বুঝতে পারছেনা যে, তাদের বাবা কোনদিন আর আসবে না।
গত বুধবার দিবাগত রাতে মিরসরাইয়ে ট্রাক চাপায় প্রাণ হারান শেখ ফরিদ ও শেখ সুমন নামের দুই সহোদর। স্বামীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কোনো অবস্থাতেই মানতে পারছেন না নিহতদের স্ত্রীরা। তাদের কথা মনে পড়লেই হারাচ্ছে জ্ঞান।
অপরদিকে থেমে নেই নিহতদের বাবা শামসুদ্দিন এবং মা অজিবা খাতুনের আহাজারি। নাতি-নাতিনীদের জড়িয়ে চোখের পানির আহাজারিতে ভারি হয়েছে নিহতদের বাড়ির চারপাশ। যেন মৃত্যুটা বিশ্বাস হচ্ছিল না কারোই। নিহত দুই সহোদর মিরসরাই উপজেলার মিরসরাই সদর ইউনিয়নের গড়িয়াইশ গ্রামের শামসুদ্দিন ড্রাইবার বাড়ির শামসুদ্দিনের পুত্র।
জানা গেছে, প্রতিদিনের মত বুধবার দিবাগত রাত নয়টার দিকে সিএনজি গ্যারেজে রেখে বাড়ি আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দুই সহোদর। এ সময় রাস্তায় জোনাকি বাসের সাথে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কা লাগে, এতে দুই ড্রাইবার গাড়ি থামিয়ে ঝগড়া করছিলো দেখে দৌঁড়ে দেখতে গিয়েছিলেন তারা। এমন সময় সেখানে দ্রুত গতির আরেকটি কাভার্ড ভ্যান এসে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যানকে ধাক্কা দিলে সামনে থাকা দুই ভাই মুহূর্তেই পিষ্ট হন।
এছাড়া একই দুর্ঘটনায় মেহেদী (২৩) এবং আবুল কাশেম (৬০) নামের আরও দুইজন মৃত্যু বরণ করেন। ঐ ঘটনায় এএসআই মোস্তফা, রফিক (২৫), আব্দুল আউয়াল (৫০), শাহ আলী (২৬) সহ ছয়জন গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমজার/আরএএম