শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : চট্টগ্রাম

মরিয়ম নগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
DhakaReport24.com || 2022-08-23 15:52:15
মরিয়ম নগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে  অভিযোগ উঠেছে

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়ম নগর ইউনিয়নের এই বিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে অনিয়ম ও দুর্নীতি'সহ নানা অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশিষ কান্তি চৌধুরী ও সাবেক সভাপতি শওকত হোসেন সেতুর বিরুদ্ধে।একাধিক জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণ করে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয় দেখভালে কর্তৃপক্ষ থাকলেও প্রধান শিক্ষকের সাথে আঁতাত করে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ, সম্পদের হিসেব ও লেনদেনে গড়মিল, শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়'সহ নানা অনিয়মের নেতৃত্ব দিয়ে দুর্নীতিতে সহযোগিতা করা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই ওই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ গঠনে প্রতিনিধি নির্বাচনে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তবুও সাবেক সভাপতি শওকত হোসেন সেতু পুনরায় সভাপতি হওয়ার লক্ষ্যে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে তার বাধ্যগত লোক দিয়ে নির্বাচনের পাঁয়তারা করছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, "মধ্যবিত্ত পরিবারের হলেও আমরা চাই আমাদের সন্তানরা পড়ালেখা করে মানুষ হোক। কিন্তু স্কুলের ভর্তি ফি ও বিভিন্ন উৎসবের নামে টাকা দিতে হয়। তাছাড়া আমাদের সন্তানরা লাইব্রেরি সুবিধা না পেলেও লাইব্রেরি, দালান, খেলাধুলা, স্কাউট/গার্লস গাইড, ম্যাগাজিন ও শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট সহ সবমিলিয়ে শিক্ষাবর্ষ ফি নামে দিতে হয় ৬০০ টাকা। এসব সুবিধা না থাকলেও আমাদের উপর কেন সব ছাপিয়ে দেওয়া হয়"।

এদিকে স্কুলের নোংরা পরিবেশ'সহ বিভিন্ন অন্যায় অনিয়মের জন্য মরিয়ম নগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি শওকত হোসেন সেতুকেই দুষছেন মরিয়ম ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক হিরো।জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক হিরো বলেন, "কয়েকদিন আগে স্থানীয় পুতুল, ইউনুস, পক্ষী ও ইউপি সদস্য বেলালসহ আমরা বিদ্যালয়ে ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমের জন্য গেলে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ টেনে একত্রিত করতে গিয়ে দেখি বেঞ্চের নিচে ময়লার স্তুপ জমে আছে। নোংরা পরিবেশে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের থেকে নানা অজুহাতে অতিরিক্ত ফি আদায়, অস্থায়ী দাতা সদস্য সংগ্রহে অনিয়ম, বিদ্যালয়ে সিন্ডিকেট ও বিদ্যালয়ের ফান্ডের অনিয়ম'সহ সবকিছুর জন্য দায়ী এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক'সহ পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি শওকত হোসেন সেতু।

এছাড়াও শুধুমাত্র শওকতের আধিপত্য ও সিন্ডিকেটের জন্য শিক্ষিতরা এখন বিদ্যালয়ের দায়িত্বে আসতে চাইছে না। চলতি মাসেই বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন। শওকত আবারও সভাপতি হতে পাঁয়তারা করছে। তবে আমরা চাই সংশ্লিষ্টরা সবাই যেনো শওকত হোসেন সেতুর দুর্নীতি ও অন্যায় অনিয়মের আমলনামা সম্পর্কে জানতে পারে এবং নির্বাচনে শিক্ষিত ও ভালো মানুষ এগিয়ে আসুক। এবার অন্তত বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসুক"।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি শওকত হোসেন সেতু তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে আমার ১টি প্যানেল আর ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক হিরোর ১টি প্যানেল। তাই হিংসাত্মকভাবে এসব মিথ্যা অভিযোগ করছে। এর আগেও মিথ্যা অভিযোগ করেছে তাঁরা, তখন আমি কমিটিতে ছিলাম না এটা সবাই জানে"।জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সাবেক সভাপতি জামাল হোসেন বলেন, "এডহক কমিটির ক্ষমতা ও সময় দুটোই খুব সীমিত। সমস্যাগুলো আগেও ছিল। এখানে প্রধান শিক্ষক আশিষ কান্তি চৌধুরী ইচ্ছেমতো আসে আর যায়। বিদ্যালয়ের ক্লাস রুটিন, আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসেবসহ নানা বিষয়ে হিসেব তলব করলে সে একেকবার একেকরকম কথা বলতো। আমি দায়িত্বে থাকাকালীন এসব অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের লিখিতভাবে অভিযোগ দিলেও ব্যবস্থা নেয়নি কেউই। মোটকথা এ বিদ্যালয়ের কোন কর্তৃপক্ষ নেই বললেই চলে, কর্তৃপক্ষের যে দায়িত্ব তা যদি ঠিকমতো পালন করে তাহলে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই অনিয়ম হতে পারেনা"।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার (মাধ্যমিক) নুরুল ইসলাম বলেন, "অনিয়মের বিষয় দেখবে কর্তৃপক্ষ। জামাল উদ্দিন প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের বিষয়ে কখনও কোনো অভিযোগ দেননি। তবে প্রধান শিক্ষক আশীষ আমাকে বলেছে জামাল উদ্দিন তাকে বিভিন্নসময় হুমকি দিতো ও টাকা পয়সা চেয়েও পাননি বলেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। অভিযোগ না পেলে, প্রধান শিক্ষক তার বক্তব্যে আপনাকে এসব কেন বলেছেন জানতে চাইলে এখন খুব ব্যস্ত বলে এড়িয়ে যান তিনি"।

তবে জামাল উদ্দিন প্রসঙ্গে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নুরুল ইসলামের এমন মন্তব্যের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান মরিয়ম নগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশিষ কান্তি চৌধুরী। তিনি বলেন, "জামাল উদ্দিন সাহেব আমার মুরব্বি। আমি উনাকে সম্মান করি। তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন এ বিষয়ে কিছু বলেননি। এখন এসব কেন বলছে জানিনা। তবে এ বিষয়গুলো নিয়ে আমি খুব হতাশ। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফান্ডের টাকা'সহ শিক্ষার্থীদের ফি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সব টাকা জেনারেল খাতে জমা হয়"।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এনএ /আরএএম