চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাহাড় ধ্বসে অন্তত ৩০টি বসতঘরের ক্ষয়ক্ষতি হলেও আগে থেকে পরিবারগুলো সরিয়ে নেওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি তবে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের একটি বসতঘরে পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় এক গর্ভবতী নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তার নাম সায়েমা সুলতানা (২২)। তিনি উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড এলাকার আবু নাছেরের স্ত্রী। রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে জানান, স্থানীয় আনোয়ার হোসেন ও আজিম সওদাগর নামে দুই ভাই খাস মালিকানাধীন পাহাড়টির দখলদার। তারা গত এক বছর ধরে পাহাড়টি কাটছেন। এতে গত বছরও পাহাড় ধ্বসে একটি বসতঘরের দেয়াল ভেঙেছিল। এরপরও পাহাড় কাটা অব্যাহত রাখে। এতে রোববার (১৯ জুন) রাত ৮টার দিকে পাহাড়টি তাদের বসতঘরের উপর ধসে পড়ে। এ সময় গৃহবধূ সায়েমা সুলতানা মাটিচাপা পড়েন। তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী আশংকামুক্ত হলেও পেটের বাচ্চার অবস্থা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানাতে পারবেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
এছাড়াও বেতাগী এলাকার ওই পাহাড়টি কেটে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ের দুই পাশে ধ্বসে পড়ার চিহ্ন রয়েছে। একটি বসতঘরে পাহাড়টির মাটি ধ্বসে পড়েছে। এখনও পাহাড়টির আশেপাশে ঝুঁকি নিয়ে থাকছেন অন্তত ১০টি পরিবার।
তবে পাহাড় কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আজিম সওদাগর। এটি কারা কেটেছে সেটি তিনি জানেন না বলে জানান।
এসময় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা বেতাগী ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল আলম জানান, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুকিপূর্ণ বসবাস ঠেকাতে বেতাগী জুড়ে গত কয়েকদিন ধরে মাইকিংসহ নানাভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে৷ এরপরও ঝুঁকিপূর্ণভাবে থাকার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে তিনি অপরিকল্পিত পাহাড় কাটাকেই দুষছেন। প্রশাসনের কাছে পাহাড় কাটায় দায়ীদের যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বানও জানান তিনি।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ইসলামপুরে ৩টি, পারুয়ায় ১০টি এবং চন্দ্রঘোনায় ১৬টি বসতঘরে পাহাড় ধ্বসে বিধ্বস্ত হয়েছে। এসব ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এসব ঘরের বাসিন্দাদের আগে থেকেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ায় প্রাণহানী থেকে রক্ষা পায় তারা। এছাড়া কাপ্তাই সড়কের সত্যপীর মাজার এলাকায় পাহাড় ধ্বসে পড়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।
অন্যদিকে রাঙ্গুনিয়ার ১৫ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত অন্তত ১০ হাজার পরিবার পাহাড়ের পাদদেশে ঝুকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে বলে জানা যায়। তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হলেও তারা সরছে না জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। এছাড়া কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে রাঙ্গুনিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউল গণি ওসমানী জানান, পাহাড়ে ঝুকিপূর্ণ বসবাস রোধে গত তিনদিন ধরে মাইকিং করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। নিকটস্থ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যারা এখনো পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে থাকছেন তাদের সরিয়ে নিতে প্রয়োজনে অভিযান চালানো হবে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এএন/আরএএম