শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : গাজীপুর

চন্দ্রা টার্মিনালে জনস্রোত, ১২ কিলোমিটারজুড়ে যানজট


DhakaReport24.com || 2026-03-17
চন্দ্রা টার্মিনালে জনস্রোত, ১২ কিলোমিটারজুড়ে যানজট

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ঢলে গাজীপুরের চন্দ্রা বাস টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যার পর থেকে হঠাৎ করেই যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়, যা বাড়ি ফেরা মানুষের ঈদযাত্রাকে করে তুলেছে দুর্বিষহ।

সরেজমিনে দেখা যায়, চন্দ্রা বাস টার্মিনালে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। সফিপুর থেকে চন্দ্রা টার্মিনাল পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এবং কবিরপুর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত আরও ৫ কিলোমিটার এলাকায় গাড়ির দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে। থেমে থেমে চলা যানবাহনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। অনেক যাত্রী জানান, চন্দ্রা এলাকায় পৌঁছাতেই এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে, আবার টার্মিনালে এসে যাত্রী তোলার অজুহাতে দীর্ঘ সময় গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকছে।

জানা গেছে, শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের শত শত পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এতে একসঙ্গে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে গিয়ে পুরো চন্দ্রা এলাকায় তৈরি হয় অচলাবস্থা।

ঢাকা থেকে বগুড়াগামী যাত্রী রুবেল হোসেন বলেন, ‘চন্দ্রা পর্যন্ত আসতেই প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। রাস্তায় গাড়ি চলছে খুব ধীরে, আবার টার্মিনালে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’

পোশাককর্মী সালমা বেগম বলেন, ‘সারাদিন কাজ শেষে বাস ধরতে এসে দেখি প্রচণ্ড ভিড়। কোনো শৃঙ্খলা নেই, কখন গাড়ি ছাড়বে সেটাও নিশ্চিত না।’

আরেক যাত্রী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ঈদের সময় চন্দ্রা এলাকায় এলেই ভোগান্তি বাড়ে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।’

যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে তৎপরতা চালালেও সন্ধ্যার পর হঠাৎ চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ‘ঈদের সময় যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। চন্দ্রা এলাকায় সড়ক সংকুচিত থাকায় ধীরগতি তৈরি হয়। আমরা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।’

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, ‘চন্দ্রা ত্রিমোড় দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র। ঈদের সময় চাপ বাড়লে এখানে সমস্যা তৈরি হয়। যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের সদস্যরাও মাঠে কাজ করছেন।’

সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত এই যানজট অব্যাহত থাকায় যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা পরেও গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারছেন না। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে এবং দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম