দেশের বাইরে থেকে জঙ্গিদের একটি দল গাজীপুরের টঙ্গীতে এসে হামলা বা নাশকতা চালানোর কথা ছিল। তারা বাংলাদেশে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের এক সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর এমন তথ্য পেয়েছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)।
তিনি টঙ্গীর ভারান এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। তিনি আরেক জঙ্গি ইয়াকুব হুজুর নামে একজনের সহযোগী হিসেবে কাজ করছিলেন। এছাড়া এই পরিকল্পনার সঙ্গে ওমর ফারুক ও জাহাদ খান নামে আরো দুই জঙ্গি জড়িত আছেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বারিধারায় এটিইউর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (অপারেশন) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন।
মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, বিদেশ থেকে কিছু জঙ্গি আসবে বলে আরিফ ১৫-২০ দিনে আগে একটি ফোন পায়। আরিফসহ বিদেশ থেকে এসে জঙ্গিরা একত্র হয়ে টঙ্গী এলাকায় একটি বৈঠকে বসার কথা ছিল। এরপর তারা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করবে বলে পরিকল্পনা করে আসছিল। এসব বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির ভাটারা থানাধীন এলাকা থেকে আরিফকে গ্রেপ্তার করে এটিইউর একটি দল।
এটিইউ কর্মকর্তা বলেন, ‘আরিফ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সক্রিয় সদস্য। জসীম উদ্দিন রাহমানি ও তামিম আল আদনানীদের ওয়াজ শুনে উদ্বুদ্ধ হয়ে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রথমে সমর্থক হন। পরে তিনি নিষিদ্ধ এই জঙ্গি সংগঠনটির সদস্য হন। ১৫-২০ দিন আগে ইয়াকুব হুজুর নামে এক জঙ্গি ফোন করে আরিফকে জানান, বিদেশ থেকে সংগঠনের আরো কিছু সদস্য আসবেন। পরে তারা সবাই টঙ্গী এলাকায় গোপন মিটিংয়ে একত্র হবেন।
গোপন তথ্য ছিল, তারা টঙ্গী এলাকায় একটি গোপন মিটিংয়ে মিলিত হবে এবং পরে একটি কার্যক্রমে অংশ নেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর আমরা নজরদারি বৃদ্ধি করি। নজরদারির এক পর্যায়ে মনে হয়েছে তারা কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে এই মিটিং করতে চাচ্ছে। পরে গতকাল অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের তথ্যও আমাদের কাছে আছে।
আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হবে।’ গ্রেপ্তারকৃতসহ পলাতক জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এসপি/আরএএম