শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : নেত্রকোনা

নেত্রকোনার মদনে মাটি ব্যবসায়ীরা সরব, প্রশাসন নিরব


মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
DhakaReport24.com || 2025-01-10
নেত্রকোনার মদনে মাটি ব্যবসায়ীরা সরব, প্রশাসন নিরব

নেত্রকোনার মদনে অবাধে ফসলি জমির মাটি কাটছে প্রভাবশালী চক্র। ভেকু দিয়ে গভীর গর্ত করে এসব মাটি কেটে বিক্রি করছে মাটি ব্যবসায়ীরা। এতে করে উবর্রতা হারাচ্ছে জমি। প্রশাসনের নাকের ডগায় ফসলি জমিতে মাটি কাটছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। এ কাজে কেউ কেউ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করছেন।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, ফতেপুর ধলাই নদীর পাড় কেটে নিয়ে যাচ্ছে মাটি ব্যবসায়িরা। বালই নদীর পাড় ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে তিয়শ্রী ইউনিয়নের আল-হেলালিয়া খালের পাড়ের মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। মদন-নেত্রকোনা সড়কের দু'পাশের হাওর থেকে অসংখ্য ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পৌর শহরে বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ প্রশাসনের লোকজন এই রাস্তা দিয়ে নিয়মিত জেলা শহরে আসা-যাওয়া করছে।

মদন উপজেলার মাটি উর্বর এঁটেল, দোঁআশ প্রকৃতির। এ মাটিতে পানি নিস্কাশন কম হয় বলে অল্প সেচেই ভালো ফসল হয়। ধান, পাট, সরিষা এই অঞ্চলের প্রধান ফসল। মাটি ব্যবসায়ী চক্রের সদস্যরা কৃষকের কাছ থেকে অল্প মূল্যে মাটি কিনে চড়া মূল্যে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছে। এতে তারা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলি জমি। মাটি টানার কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। ধুলাবালু ছড়িয়ে পড়ছে এলাকায়। ভারী যানবাহন গ্রামীণ রাস্তা গুলোতে চলাচল করায়, হুমকির মুখে পড়েছে রাস্তা গুলো। উপজেলার প্রায় সবগুলো ইউনিয়ন ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। 

রৌদ্রশ্রী গ্রামের কৃষক জব্বার জানান, মাটি কাটায় নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি। অনেকের জমি থেকে উর্বর মাটি কেটে নেওয়ায় চাষাবাদ হচ্ছে না। মাটি ব্যবসায়ীরা জমির মালিকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে ভেকু দিয়ে মাটি তুলছেন। অনেক জমি হতে ৩-৭ ফুট গভীর করে মাটি তোলা হচ্ছে। এতে করে ঐ জমি ডোবায় পরিনত হচ্ছে। দিন দিন কমছে ফসলি জমি। 

বাস্তা গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, আমাদের হাওরের ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইট বাটায়। এসব মাটি লরি ট্রাক্টর দিয়ে পরিবহনের সময় আশে পাশের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনের সঠিক প্রয়োগ ছাড়া ফসিল জমি রক্ষা করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। 

কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাবিবুর রহমান জানান, জমির উপরিভাগ কেটে নিলে অন্তত ৩/৪ বছরের ভিতরে ঐ জমিতে আর ভালো ফসল হয় না।

ইউএনও অহনা জিন্নাত জানান, অসুস্থতার কারণে আমি মুভ করতে পারছিনা। এছাড়াও এ্যাসিল্যান্ড না থাকায় একটু সমস্যা হচ্ছে, তারপরও বিষয়টি দেখছি।