দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনার ৫টি আসনে বিভিন্ন দলের ও স্বতন্ত্র মিলে মোট ২৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাদের মধ্যে ১৮ জন (প্রায় দুই তৃতীয়াংশ) প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
গতকাল রোববার (৭ জানুয়ারি) রাতে জেলা প্রশাসক ও রিটানিং কর্মকর্তা শাহেদ পারভেজের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলের শিট থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী জামানত রক্ষা করতে মোট বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ থেকে অন্তত একটি ভোট বেশি পেতে হবে। যা শতকরায় সাড়ে ১২ শতাংশ।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে,নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে তিন জন জামানত হারিয়েছেন। নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে পাঁচজন জামানত হারিয়েছেন। নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনে ৬জন প্রার্থীর মধ্যে চারজন জামানত হারিয়েছেন।
নেত্রকোনা-৪ (মদন,মোহনগঞ্জ,খালিয়াজুরী) আসনে চারজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারিয়েছেন। এছাড়া নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জন জামানত হারিয়েছেন।
চুড়ান্ত ফলাফল হিসেবে নেত্রকোনা-১ আসনে পাঁচ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই আসনে বৈধ ভোট পড়ে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৮২টি। এতে প্রার্থীর জামানত রক্ষায় ২৩ হাজার ৪৪৭ ভোট পেতে হতো। কিন্তু ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আফতাব উদ্দিন পয়েছেন ৩৬১ ভোট। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি প্রতীক) পেয়েছেন ৫৭৫ ভোট। জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ২৪০৮ ভোট। আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় ওই তিন জন জামানত হারিয়েছেন। অন্যদিকে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোশতাক আহমেদ রুহী এক লাখ ৫৯ হাজার ১৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
নেত্রকোনা-২ আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই আসনে বৈধ ভোট পড়ে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৬টি। এতে প্রার্থীর জামানত রক্ষায় ২৪ হাজার ৯৭৯ ভোট পেতে হতো। কিন্তু বিএনএম থেকে এবিএম রফিকুল হক তালুকদার (নোঙ্গর) পেয়েছেন ৩৮৫ ভোট। বাংলাদেশ কংগ্রেস থেকে আজহারুল ইসলাম খান (ডাব) পেয়েছেন ২৮৮ ভোট। ইসলামী ঐক্যজোট থেকে মো.ইলিয়াস (মিনার) পেয়েছেন ১৩৮৫ ভোট। জাতীয় পাটি থেকে মোছা. রহিমা আক্তার ওরফে আসমা সুলতানা (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৮৯৭ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী সুব্রত চন্দ্র সরকার (ট্রাক) পেয়েছেন ৪৪১ ভোট। ফলে আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় ওই পাঁচ জন জামানত হারিয়েছেন। অন্যদিকে এই আসনে নৌকা প্রতীকের মো. আশরাফ আলী খান খসরু ১ লাখ ৫ হাজার ৩৫৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
নেত্রকোনা-৩ আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই আসনে বৈধ ভোট পড়ে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭১৪টি। এতে প্রার্থীর জামানত রক্ষায় ১৯ হাজার ৭১৪ ভোট পেতে হতো। কিন্তু ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবে এমপি মঞ্জুর কাদের কোরাইশী পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৬০ ভোট। তৃণমূল বিএনপি’র (সোনালী আঁশ) মিজানুর রহমান খান পেয়েছেন ৩২৭ ভোট। ইসলামী ঐক্যজোটের (মিনার) মো. এহতেশাম সারওয়ার পেয়েছেন ২৮৪ ভোট। জাতীয় পর্টির (লাঙ্গল) মো. জসীম উদ্দিন ভূঁঞা পেয়েছেন ২৯০ ভোট। ফলে আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় ওই চার জন জামানত হারিয়েছেন। অন্যদিকে ট্র্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু ৭৬ হাজার ৮০৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এছাড়া নৌকার প্রার্থী বর্তমান এমপি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ফেল করেছেন।ভোট সংখ্যা-৭৪ হাজার ৫৫০টি।
নেত্রকোনা-৪ আসনে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই আসনে বৈধ ভোট পড়ে ১ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৬টি। এতে প্রার্থীর জামানত রক্ষায় ২৪ হাজার ৫২২ ভোট পেতে হতো। কিন্তু জাসদের (মশাল) মো. মুসফিকুর রহমান পেয়েছেন ৬৩৪ ভোট। তৃণমূল বিএনপির মো. আল মামুন পেয়েছেন ১৭১৫ ভোট। জাতীয় পাটির (লাঙ্গল) মো. লিয়াকত আলী খান অ্যাডভোকেট পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৫৯ ভোট। ফলে আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় ওই তিন জন জামানত হারিয়েছেন। অন্যদিকে নৌকার প্রার্থী সাজ্জাদুল হাসান ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
নেত্রকোনা-৫ আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই আসনে বৈধ ভোট পড়ে ১ লাখ ১৫ হাজার ৩০টি। এতে প্রার্থীর জামানত রক্ষায় ১৪ হাজার ৩০ ভোট পেতে হতো। কিন্তু তৃণমূল বিএনপির আব্দুল ওয়াহহাব হামিদী পেয়েছেন ৩৭২ ভোট। জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) ওয়াহিদুজ্জামান পেয়েছেন ১ হাজার ৬০৬ ভোট। ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৬ হাজার ১৯১ ভোট। ফলে আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় ওই তিন জন জামানত হারিয়েছেন। অন্যদিকে নৌকার প্রার্থী আহমদ হোসেন ৭৯ হাজার ৬৪৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমআই /আরএএম