শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : নেত্রকোনা

মিথ্যা অপবাদে স্ত্রীকে তালাক দিল পুলিশ সদস্য


আলী আজগর পনির (নেত্রকোনা প্রতিনিধি)
DhakaReport24.com || 2023-10-23 16:08:45
মিথ্যা অপবাদে স্ত্রীকে তালাক দিল পুলিশ সদস্য

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় পুলিশ সদস্য উমন মিয়া স্ত্রীকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তালাক দেওয়াযর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা দায়ের করেন স্ত্রী মনি আক্তার (২৫)।

মামলার বাদী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আটপাড়া উপজেলাধীন সুখারী ইউনিয়নের কুলশ্রী গ্রামের সুখচান মিয়ার ছেলে  পুলিশ কনস্টেবল উমন মিয়া (২৭)এর সাথে মদন উপজেলাধীন জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের মেয়ে মুনি আক্তারের সাথে গত ২৬ অক্টোবর ২০১৮ সালে পারিবারিকভাবে রেজিস্ট্রি কাবিন মূলে বিবাহ হয়। 

বিবাহের  কিছুদিন পর থেকে যৌতুক লোভী পুলিশ কনস্টেবল উমন মিয়া তার স্ত্রী মনি আক্তার কে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালায়, চার লক্ষ টাকা যৌতুক দেয়ার জন্য ।

এ ঘটনা স্ত্রী মনি আক্তার পুলিশ কনস্টেবল স্বামী উমন মিয়ার কর্মস্থলে  ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার বরাবর পুলিশ কনস্টেবল উমন মিয়ার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

স্ত্রীর লিখিত অভিযুগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার মহোদয় পারিবারিক বিষয়টি মীমাংসার করে দেন। এবং পুলিশ কনস্টেবল স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন ও যৌতুক দাবি না করার মর্মে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন পুলিশ কনস্টেবল উমন।

এরপর সিলেট কর্মস্থলে স্ত্রীকে নিয়ে সংসার জীবন চলমান থাকা অবস্থায় পারিবারিক কাজের জন্য ৪ লক্ষ আশি হাজার টাকা তার বড়  ভায়রা ভাইয়ের একাউন্ট নাম্বার পাঠায়।
৪লক্ষ আশি হাজার টাকা সুখারী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের  ইউপি সদস্য  নান্টু মিয়ার উপস্থিতিতে আটপাড়া উপজেলাধীন সেতুর বাজারে পুলিশ কনস্টেবল উমনের পিতা সুখ চান মিয়া ও তার ছেলে মামুন মিয়ার ( ৪০) এর  হাতে বুঝিয়ে দেন। 

৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বুঝিয়ে নেওয়ার পর পূর্ব পরিকল্পিত স্ত্রীর প্রতি  প্রতিশোধ নেওয়ার কৌশলে চার লক্ষ আশি হাজার টাকা আত্মসাধ দেখিয়ে  স্ত্রী ও বড় ভায়রা ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। 

এবং স্ত্রীকে উক্ত টাকা আত্মসাৎ এর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে  উকিলের মাধ্যমে তালাক নোটিশ বাড়িতে পাঠায়। প্রথম স্ত্রী মনি আক্তারকে মিথ্যা অভিযোগে তালাক নোটিশ  বাড়িতে পাঠিয়ে, সুখারী  ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের বুলবুল মিয়ার কন্যা জুলি আক্তার (২৪) কে আন অফিসিয়াল ভাবে অনুমোদন ছাড়াই দ্বিতীয় বিবাহ করেন।

উক্ত মিথ্যা অভিযোগে ও স্ত্রী মনি আক্তারকে তালাক দেওয়ার পর একই ইউনিয়নের বুলবুল মিয়ার কন্যা জুলি আক্তার কে বিবাহ করায় স্বামী পুলিশ কনস্টবল উমন মিয়ার বিরুদ্ধে  নেত্রকোনা নারী শিশু কোর্ডে মামলা দায়ের করেন স্ত্রী মনি আক্তার বাদী হয়ে। উক্ত মামলাটি চলমান অবস্থায় রয়েছে পুলিশ কনস্টেবল উমন মিয়ার বিরুদ্ধে।

উক্ত পুলিশ কনস্টেবল বর্তমানে জামালপুর পুলিশ লাইনে কর্মরত আছেন। এ বিষয়ে পুলিশ কনস্টেবল উমন মিয়ার সঙ্গে মোটো ফোনে কথা হলে সে জানায় প্রথম স্ত্রী মুনি আক্তারকে তালাক দিয়েছি এবং দ্বিতীয় বিবাহ ও করেছি।

এ বিষয়ে জামালপুর পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান বিপিএম তিনি জানান, এ বিষয়ে লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ওই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এসপি/আরএএম