নেত্রকোনার কলমাকান্দায় মাটি কাটা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের ওমরগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে ওইদিন রাতে সজব আলী বাদি হয়ে এগার জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। বুধবার মো. রুহুল আমিন (২৮) ও আশিকুল (৩২) নামের দুইজনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের ওমরগাঁও গ্রামের মো. রজব আলী প্রতিবেশিদের চলাচলের জন্য তার বাড়ির সামনে থেকে প্রায় একশ ফুট রাস্তা মৌখিক ভাবে দেন। মঙ্গলবার বিকেলে রজব আলীকে না জানিয়ে ওই রাস্তাটি আরও প্রসস্ত করাসহ মেরামতের কাজ শুরু করেন প্রতিবেশি আশিকুল ইসলাম (২৮), নুরুল আমিন (৩২)। খবর পেয়ে রজব আলী ওই রাস্তার কাজে বাঁধা দেন। এতে করে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে দুইপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের চৌদ্দ জন আহত হয়। তার মধ্যে রজব আলী (৭০), আব্দুস সালাম (৫৫), সোহেল মিয়া (৩০), এখলাছ মিয়া (৩২), সোহাগ মিয়া (২০) ও নায়েব আলী (৩৫) নামের ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আশিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আমরা দুই ভাই মিলে রাস্তাটি মেরামতের জন্য কাজ শুরু করি। এতে রজব আলী তার লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে তিনজনকে আহত করেন।
এ বিষয়ে রজব আলীর ভাই সজব আলী জানান, আমাদেরকে না জানিয়ে আশিকুল ও তার ভাই নুরুল আমীন আমাদের জমি থেকে মাটি কেটে নিচ্ছেন। খবর পেয়ে আমার ভাই রজব আলী মাটি কাটতে নিষেধ করলে আশিকুল ও নুরুল আমীনসহ তাদের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে করে আমাদের এগারো জন আহত হয়।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আহাদ খান জানান, এ ঘটনায় মো. সজব আলী বাদি হয়ে এগারো জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। বুধবার সকালে দুই জনকে আটক করে বিকেলে আদালতে প্রেরণ করা হয়। অন্যদের আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমজার/আরএএম