গরম শুরু হওয়ার সাথে সাথে প্রতিনিয়তই শুরু হয়েছে লোডশেডিং। বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার জনজীবন। সকাল হতে না হতেই সূর্যের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রমজান মাসে সময় গড়িয়ে দুপুর আসতে না আসতেই সেই তাপদাহ রীতিমতো অসহনীয় হয়ে উঠছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বিদ্যুতের লোডশেডিং এর কারণে চরভদ্রাসনের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ভূক্তভোগীরা জানান, রমজান আসার পর থেকেই উপজেলায় ব্যাপকভাবে লোডশেডিং শুরু হয়েছে।
লোডশেডিং এর যন্ত্রনা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না দীর্ঘ সময় তারাবিহ্ নামাজ পড়তে আসা মুসুল্লিরাও। অসহ্য গরমের ঘনঘন লোডশেডিংয়ের মধ্যেই মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে হচ্ছে। এছাড়া সেহেরী ও ইফতারের সময়টুকুও কাটাতে হচ্ছে মোমবাতি অথবা হ্যারিকেনের আলোতে। এ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের সাথে সাথে মশার উপদ্রবে উপজেলাবাসীর জনজীবন অসহ্য হয়ে পড়ছে।
অপরদিকে ঈদকে সামনে রেখে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে ব্যস্ততম বাজারের কাপড়ের দোকান ও নিত্য প্রয়োজনীয় দোকানসহ উপজেলার স'মিল, রাইচমিলসহ বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অবস্থা আরো করুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে লোডশেডিং হওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। অব্যাহত লোডশেডিং এর কারণে তাদের পড়াশুনা চরমভাবে বিঘ্ন ঘটছে।
উপজেলা সদরের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ অভিযোগ করে বলেন, উপজেলায় দিনে ও রাতে ব্যাপকভাবে ঘনঘন লোডশেডিং শুরু হয়েছে। এতে আমরা সময় মতো কাস্টমারকে তার অর্ডারি মাল ডেলেভারি দিতে পারছি না। এমনভাবে লোডশেডিং চলতে থাকলে আমাদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
তারা আরও জানান, শুধু তাই নয় একটু জোরে বাতাস বইলেই সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে করে বাসা বাড়ির টিভি, ফ্রিজ, মটর, লাইটসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক ইলেকট্রনিক্স পণ্যগুলো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া শুনেছি বিদ্যুৎ বাড়ে বাড়ে আসা যাওয়া করলে স্বাভাবিক বিলের তুলনায় মিটারের রিডিংয়ের সাথে সাথে বিদ্যুৎ বিলও বাড়ে।
এ বিষয়ে চরভদ্রাসন পল্লী বিদ্যুতের কর্মরত এলএমওয়ান আব্দুর রহমান জানান, এটা লোডশেডিং না। মাঝে মাঝে মেইন লাইনের কাজ করতে হয়। আর সেসময় বিদ্যুৎ থাকে না।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরএ/আরএএম