উপকূলের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ সুন্দরবনের উপরে নির্ভরশীল।এক সময় সুন্দরবনের আয়ের উপরে স্বপ্ন বুনতো তারা। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সরকারে বিভিন্ন পদক্ষেপে বছরে ৬-৭ মাস সুন্দরবনে প্রবেশ নিষেধ থাকায় অভাবে পড়তে হচ্ছে সুন্দরবন নির্ভরশীল জেলেসহ অন্যান্য পেশাজীবীদের।
নিজেদের সংসার চালাতে মাহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুধে টাকা নিয়ে চলতে হচ্ছে তাদের।এ টাকা সময় মত পরিশোধ করতে না পারলে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি হতে হয় জেলেদের।এদিকে তাদের ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ চলে সুন্দরবনের উপর নির্ভর করে।সুন্দরবন বন্ধ থাকায় ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ যোগাতে না পেরে অনেকেই ঝরে পড়ছে।ইট ভাটায় কাজে যাওয়ায় শিশু শ্রমের হারও দিন দিন বাড়ছে। এছাড়া নানা ধারণের অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে তারা।
তারা জানান, সুন্দরবন বন্ধ থাকুক আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু আমাদের বিকল্প কোন কর্মসংস্হানের ব্যবস্থা করা হলে আমরা খেয়ে বাঁচতে পারি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করা হলে সুন্দরবনের উপর থেকে চাপ কমবে।
গাবুরা গ্রামের মন্টু গাজী (৫০) বলেন, আমার সংসারে ৬ জন মানুষ।আমার আয়ের একমাত্র জায়গা হল সুন্দরবন। কিন্তু বিভিন্ন সময় বনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমাদের সংসার চালাতে কষ্ট হয়ে পডড়ে। ছেলেমেয়ের লেখাপড়া ঠিক মত শিখাতে পারি না।
মুন্সীগঞ্জ গ্রামের আলম মল্লিক (৪০) বলেন, সুন্দরবন বন্ধ থাকায় আমার সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। সমিতির কিস্তি দিতে পারছিনা। খুব কষ্ট করে দিন পার করছি। সরকার যদি বন বন্ধের সময় আমাদের একটু অন্য কাজের ব্যাবস্থ করে দিতো ।তাহলে খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে পারতাম।
হরিনগর গ্রামের আয়ুব আলী (৪৫) জানান, আমরা সরকারের নিয়ম মেনে সুন্দরবনে জীবিকা নির্বাহের জন্যে প্রবেশ করে থাকি। কিন্তু অধিকাংশ সময় সুন্দরবন বন্ধ থাকায় আমরা খুব সমস্যার মধ্যে দিন পার করছি।
ট্রলার মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক হালিম বলেন, এসময় ভ্রমণকারীদের সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ থাকায় কোন পর্যটক আসে না ।আমরা লাখ লাখ টাকার নৌকা তৈরি করে রেখেছি। যদি সুন্দরবন এভাবে বন্ধ থাকে তাহলে আমাদের সব শেষ হয়ে যাবে।
বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকার মানুষ সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে সুন্দরবন বন্ধ থাকায় তারা খুব সমস্যায় আছে।সুন্দরবন নির্ভরশীল পেশাজীবীদের সঠিক তালিকা করে নিষেধাজ্ঞার সময় অন্য কোন কর্মসংস্হানের ব্যবস্থা করা উচিত।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/সাখা/আরএএম