শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : কুষ্টিয়া

ইবিতে দোকানীদের সিন্ডিকেটে জিম্মি শিক্ষার্থীরা


আহসান হাবীব রানা, ইবি
DhakaReport24.com || 2023-05-25 13:46:45
ইবিতে দোকানীদের সিন্ডিকেটে জিম্মি শিক্ষার্থীরা

এক সপ্তাহ আগে ফটোকপির দোকানে ছবি প্রিন্ট করে নিলাম ২০ টাকা দিয়ে। সেই ছবিগুলো শেষ আজকে তুলতে এসে ৩০ টাকা দিতে হয়েছে। মাত্র সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে ১০ টাকা বেশি গুনতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছে বাড়তি দাম রেখে সিন্ডিকেট করে ব্যবসা করছে ক্যাম্পাস গেটের কম্পিউটারের দোকানগুলো। এভাবে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কথাগুলো জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, ফটোকপি দোকানীদের শক্ত সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে ফটোকপি, কম্পিউটার কম্পোজে বেশি দাম নেওয়া হয়। এছাড়া  নিম্ন মানের কাগজ দিয়ে কাজ চালানো ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সিন্ডিকেট চলে আসছে বলে অভিযোগ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সময় বিভাগের প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ফটোকপি করার জন্য ক্যাম্পাস গেট ও সংশ্লিষ্ট অনুষদের নিচে ফটোকপি করতে যেতে হয়। তখন ফটোকপি, অ্যাসাইমেন্টের কভার পেজ, ছবি প্রিন্ট, স্পাইরালসহ বিভিন্ন কাজ করতে গেলে দোকানীরা বেশি দাম হাকে। ক্যাম্পাসের বাহিরে মেইন গেটে আবার একই ধরণের সিন্ডিকেট অনুযায়ী দোকানীরা প্রায় কয়েকগুণ বেশি দাম লুটে নেন। কিন্তু বেশি টাকা খরচ করে এসব নোট-শিট ফটোকপি, অ্যাসাইমেন্ট প্রিন্ট করে বেশি দামে কম মানের সেবা পেয়ে প্রতারিত হন শিক্ষার্থীরা। আবার কাগজ ও কালির প্রয়োজন যে পরিমাণে হওয়ার কথা তা থাকেনা। এসব মেশিনে ছাপার মান থাকে অত্যন্ত নিম্ন মানের যেন তা খসড়া, বলা যায় ‘সাদার ওপরে একটু ঝাপসা কালো।’ আবার অনেক সময় ফটোকপির যন্ত্রাংশে কাগজ বেঁধে গিয়ে অতিরিক্ত সময় নষ্ট হয় বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।

সরেজমিনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের কথা দোকানীদের কাছে বললে তারা কাগজ- কালির দাম বেড়েছে বলে তাৎক্ষনিকভাবে আত্মসমর্থনের বাহানা তুলে ধরে। পরবর্তীতে যখন এসব কথায় শিক্ষার্থীদের সাথে যথাযোগ্য যুক্তি দিতে পারেনা তখন ‘অন্য দোকান থেকে করে নিতে পারেন।’ বলে জানান। ক্যাম্পাসের ভেতরের দোকানীরা বলে - গেটের বাহিরে যান আরো বেশি লাগবে ফটোকপি করতে।’ এসব বলে শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার করা করেন তারা। প্রতিবাদ করতে গেলে মান হারায় শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাজা আহমেদ বলেন বলেন, ‘জরুরী ফটোকপি, অ্যাসাইনমেন্ট, বিভিন্ন শিক্ষকদের বইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডুকুমেন্টের কাজ করতে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ও বাহিরের ফটোকপির দোকানগুলোর ওপর নির্ভরশীল। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে তাদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত দাম নিয়ে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘আগে ফটোকপি করতে প্রতি পৃষ্ঠা এক টাকা করে ও দুইপাশ মিলে দাম রাখা হতো দেড় টাকা। এখন নেওয়া হচ্ছে কমপক্ষে আড়াই টাকা থেকে তিন টাকা। ডকুমেন্ট স্ক্যান, টাইপিং এগুলো কেও করতেই চাই না। আবার অল্প টাইপিং করে প্রিন্ট আউট করলে গুনতে হচ্ছে ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ টাকা পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে অনুষদগুলোর নিচে এসব সেবা নিতে এক রেট আবার মেইন গেটের সামনে আরো বৃদ্ধি হয়ে আরেক রেট।’

আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘আমাদের নিয়মিত ফটোকপিসহ অন্যান্য কাজ করতে হয়। ক্যাম্পাসের ভেতরের দোকানে ও মেইন গেটে সবকিছুর এত দাম চওড়া! যা শিক্ষার্থীদের জন্য চিন্তার বিষয়। অধিক লভ্যাংশ পাওয়ার জন্য তারা এমন বেশি দাম রাখছে। এটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কাল। আমরা বিষয়টির প্রতিকার চাই ও কম দামে পেপার প্রিন্ট ও ফটোকপি চাই।’

ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অনুষদের ফটোকপি দোকানের ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, ‘কাগজের দাম অনেক বেশি। আবার অন্যদিকে কালির দাম উচ্চহারে প্রতিনিয়িত বেড়েছে। তাই আমাদের কিছুটা দাম বেশি নিতে হচ্ছে। তবে আমাদের যে সিন্ডিকেট করে কাজ করি - এমনটা না। সব দোকান একই সাথে একই রেট রাখবে এমন না। দোকানগুলো তাদের ব্যক্তিগত আচরণ করতেই পারে। আর ক্যাম্পাস গেটের দোকানীদের জন্য আমাদের দোষারোপ করা হয়। সব দোষ আমাদের ওপর এসে পড়ে। তারপরেও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে দাম কম রাখছি।’

ক্যাম্পাস গেটের সামনে এক দোকানী বলেন, কাগজ কালির দাম বাড়ায় টাইপিংয়ের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে তুলনামূলক খুব বেশি নেওয়া হচ্ছে না। আমরা ভালো পেপার দিলে দাম বেশি রাখছি এবং নরমাল হলে দাম কিছুটা কম রাখা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল দোকানগুলো তদারকিতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস। দপ্তরটির প্রধান শামছুল ইসলাম জোহা বলেন, ‘ দোকানগুলো সব তদারকি তো আমাদের না। একটি দোকানে ফটোকপি করে কত টাকা নিবে সেটা তাদের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।’ এছাড়া ক্যাম্পাসের ভেতরে বাহিরে কোন দোকানে কত টাকা দাম নেওয়া হবে তা নিয়ে তদারকি এস্টেট অফিসের দায়িত্বের মধ্যেই পরে না বলে জানিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, ‘এইসব বিষয় নিয়ে আমার একটি জরিপ করতে হবে। এখন তো সবকিছুরই দাম বাড়ছে কিন্তু এক টাকার ফটোকপি তো কোনভাবেই আড়াইটাকা রাখতে পারে না। আমরা শনিবার ভর্তি পরীক্ষায় ব্যস্ত থাকবো, তারপর একাডেমিক ও ছাত্র শৃঙ্খলা মিটিং শেষে বিষয়টা নিয়ে জরিপ করবো। তারপর দোকানী ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বসবো।’ এছাড়া বিষয়টি নিয়ে সবার কথা বিবেচনা করে সমস্যাটি সমাধান করা হবে জানান তিনি।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/টিএএস/আরএএম