সৌদি আরবের খামিস মুশাইত শহরকে লক্ষ্য করে হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল মালকি জানিয়েছেন, সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের তাইজ অঞ্চলে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা আল ওয়াজিয়াহ জেলা পুনর্দখলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার সমর্থিত বাহিনী। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
সরকার সমর্থিত বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, আল ওয়াজিয়াহ পুনর্দখলের পরিকল্পনা শুধু ওই এলাকাকে কেন্দ্র করেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে রাজধানী সানাসহ হুথিদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব থাকা বিভিন্ন এলাকা পুনরুদ্ধারের বৃহত্তর সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ তৈরি করতে চায় ইয়েমেনের সরকার।
এর মধ্যেই মারিব অঞ্চলে হুথিদের ছোড়া একটি ‘ঘোস্ট ড্রোন’ ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। সামরিক সংঘাতের মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঘিরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধানমন্ত্রীও চলমান পরিস্থিতিতে সামরিক তৎপরতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, লোহিত সাগর ও বাব এল মান্দেব প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি ইয়েমেনের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
তিনি বলেন, হুথিদের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে সরকারের প্রতি আরও জোরালো সমর্থন প্রয়োজন। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অন্যদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, বাব এল মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর একটি দলকে তারা প্রতিহত করেছেন। হুথিদের পক্ষ থেকে সরকারি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকানোর দাবি করা হলেও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইয়াহিয়া সারির ভাষ্য, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে লক্ষ্য করে হুথিরা মোট ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এসব হামলায় সরকারি বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য হতাহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের মধ্যে একদিকে সরকারি বাহিনী হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো পুনর্দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে হুথিরাও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে পাল্টা সামরিক তৎপরতা চালানোর কথা জানিয়েছে। ফলে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম