বিদায়ের মঞ্চে এর চেয়ে সুন্দর গল্প আর কী-ই বা হতে পারত! জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ, গ্যালারিজুড়ে আবেগ আর চোখের সামনে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক অধ্যায়। সেই ম্যাচেই লিওনেল মেসি করলেন এক গোল, সঙ্গে দুটি অ্যাসিস্ট। তার জাদুকরী পারফরম্যান্সে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে জয় দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন মেসি।
প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ পেয়েও গোলের দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। বরং সময় যত গড়াচ্ছিল, ততই বাড়ছিল উৎকণ্ঠা—বিদায়ী ম্যাচে মেসি কি গোল না করেই মাঠ ছাড়বেন? সেই শঙ্কা অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দূর করে দেন মেসি নিজেই।
দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ৪৮ মিনিটে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ডান দিক থেকে মেসির নেওয়া কর্নার কিক দারুণভাবে কাজে লাগান নিকোলাস ওটামেন্দি। কাছ থেকে ভলি করে বল জালে পাঠান এই ডিফেন্ডার। আর সেই গোলের কারিগর মেসি। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল তার ৬৮তম অ্যাসিস্ট।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে নেয় আর্জেন্টিনা। ৬১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। এবারও গোলের পেছনে মেসি। বক্সের বাইরে থেকে নিকো পাজের দিকে বল বাড়িয়ে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির দেওয়া বল পেয়ে বক্সের প্রান্ত থেকে বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান পাজ। গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে দিয়ে বল জালে জড়াতেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
দুটি গোলে অবদান রাখার পর এবার নিজেই স্কোরশিটে নাম লেখানোর পালা মেসির। ৬৯ মিনিটে বেনিনের এক ডিফেন্ডারের ফাউলে আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পায়। স্পট কিকে বলের সামনে দাঁড়ান সেই মেসিই।
মেসি কোনো ভুল করেননি। ৭০ মিনিটে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল পাঠিয়ে দেন গোলের ওপরের কোণায়। বেনিনের গোলরক্ষক বলের গতিপথ বুঝে ওঠার আগেই জালে জড়িয়ে যায় সেটি। সতীর্থরা ছুটে যান মেসির দিকে। আর মনুমেন্টালের গ্যালারি তখন যেন আবেগের বিস্ফোরণে ফেটে পড়ে। এরপর আর গোল হয়নি। ম্যাচটি শেষ হয় ৩-০ ব্যবধানে।
এর আগে ম্যাচের দশম মিনিটেও থেমেছিল খেলা। মেসির ১০ নম্বর জার্সির প্রতি সম্মান জানিয়ে রেফারি ম্যাচ থামালে পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে করতালিতে অভিবাদন জানায় আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে। মেসিও হাত নেড়ে সেই ভালোবাসার জবাব দেন।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম