শস্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় উর্বর ফসলী জমি দিন দিন কমতে শুরু করেছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ভেকু মেশিন দিয়ে ৩ ফসলী জমি কেটে তৈরি করা হয়েছে বড়-বড় পুকুর। উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে প্রায় প্রতিদিন ২৫-৩০ টি ভেকু মেশিন পুকুর খননের কাজ ব্যবহৃত হচ্ছে। এ যেন পুকুর খননের মহোৎসব।
এ সকল ফসলি জমি খনন করে ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার পর পরিবহনের জন্য উপজেলার কাঁচা ও পাকা সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে। মাটি বোঝাই ট্রাক্টর চলাচল করার কারণে উপজেলার বিভিন্ন রাস্তায় মাটি পড়ে অন্যান্য যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ঠ হচ্ছে গ্রামীন সড়কগুলো সড়কে মাটি পরে অল্প বৃষ্টি হলে ঘটছে অনেক দূর্ঘটনা এমনকি অনেক সময় মৃত্যুর ঘটনা ও ঘটে। এই উপজেলায় মোট ২৮৩৭ টি বেসরকারি এবং ২২৪ টি সরকারি পুকুর রয়েছে। তবুও প্রতিনিয়ত যেভাবে পুকুর খনন বাড়ছে এভাবে পুকুর খনন বাড়লে মারাত্মক ঝুকিতে পড়বে কৃষি জমি।
ফসলি জমি খনন করলেও স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় খননকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। একের পর এক তিন ফসলী জমিতে পুকুর খননের কারণে ফসলি জমির পানি নামতে না পারায় দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন এসব আইনের কোনো প্রয়োগ করছে না অভিযোগ জনসাধারণের।
উপজেলার মনিয়ারি ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, আমাদের এই ইউনিয়নে অনেক তিন ফসলির মাঠে অবাদে পুকুর খননের কাজ চলছে। এ বিষয়ে অনেকবার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জানানো হলে তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। অামার মনে হয় এই ব্যবসায়ীরা তাদের ম্যানেজ করে পুকুর খনন করে থাকে। হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের আরো এক কৃষক বলেন, হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গিপাড়া গ্রামের উত্তর বিল কাজিরডাক মাঠে বিশ বিঘার এক তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন চলছে। তবে মাটি খনন করা মেশিন (ভেকু) মালিক ক্ষমতাবান হওয়ায় তার ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারে না। তারাও অনেক চালাক দিনে মেশিন বন্ধ করে রাখে, আর রাত হলেই চালু করে। এ সকল অবৈধ ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবিও জানান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা ছিল না, বিষয়টি আমি দেখছি।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/টিএএস/আরএএম