মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬

২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬

২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : রাজশাহী

ফ্ল্যাটে নারীসহ আটক, ছাড়া পেলেন সেই ওসি


DhakaReport24.com || 2026-09-18
ফ্ল্যাটে নারীসহ আটক, ছাড়া পেলেন সেই ওসি

রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাট থেকে মাহবুব আলম নামের এক পুলিশ কর্মকর্তাকে (ওসি) নারীসহ হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে নগরীর নাদের হাজির মোড় এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।

দুই ঘণ্টাব্যাপী তার স্ত্রী আন্নি আক্তার ডাকাডাকির পর দরজা না খোলায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উপস্থিত হন। ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিয়ে ডাকা হয় পুলিশ। তারপরেও দরজা খোলেননি ওসি মাহবুব। অবশেষে দরজা ভেঙে ফেলেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। পরে পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব এবং ওই নারীকে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়। তবে স্ত্রীর অভিযোগ না থাকায় দুপুরের দিকে ওসি মাহবুবকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে মাহবুব আলম নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন।

সেখানে মাহবুবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়। তবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে কোনো ছুটি বা অনুমতি না নিয়েই তিনি রাজশাহীতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রটির কমান্ড্যান্ট।

নারীসহ ধরা পড়া মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেওয়া। সেখানে তার মেয়ে ও জামাই থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ওই ফ্ল্যাটে মাহবুব আলম এবং ওই নারী অবস্থান করছিলেন। ওই নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।

তবে মাহবুব দাবি করেন, ওই নারী তার স্ত্রী। এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি।

অন্যদিকে ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে অবস্থান নেওয়া আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুবের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন।

মাহবুবের দাবি, আন্নিকে চার দিন আগে তিনি তালাক দিয়েছেন।

নওগাঁর বাসিন্দা আন্নি আক্তার একজন নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা।

তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

আন্নি বলেন, রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগেও সেখানে মাহবুবের সঙ্গে দুই দিন ওই নারীকে পেয়েছিলেন তিনি। তখন সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রকাশ করেননি।

আন্নির ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন- মাহবুব তার কথিত পালিত মেয়ের ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে গেছেন। সেখানে ওই নারীও রয়েছেন। খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল ৭টায় তিনি ওই ফ্ল্যাটে যান। দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করেন।

পরে চন্দ্রিমা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে ভেতরে মাহবুব রয়েছেন জানতে পেরে পুলিশ দরজা ভাঙেনি বলে দাবি করেন আন্নি। পরে তিনি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে দেন।

আন্নির দাবি, এর মধ্যে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় মাহবুব এবং ওই নারী ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে ছিলেন। পুলিশ ফোন করে দরজা খুলতে বললেও মাহবুব দরজা খোলেননি। দরজা খোলার পর মাহবুব ওই নারীকে তার স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। পরে পুলিশ দুজনকে থানায় নিয়ে যায়।

থানায় নেওয়ার সময় মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন, আন্নিকে তিনি তালাক দিয়েছেন। পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজও জমা দিয়েছেন। তবে ওই নারীর সঙ্গে বিয়ের কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেননি।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চার দিন আগে আন্নিকে তালাক দেওয়ার একটি কাগজ মাহবুব আলম দিয়েছেন।

তবে আন্নি জানিয়েছেন, তিনি তালাকের কোনো কাগজ হাতে পাননি।

এ ঘটনায় সকালে থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথা জানিয়েছিলেন আন্নি। তবে পরে অভিযোগ করেননি। চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্ত্রী আন্নি আখতার অভিযোগ না করায় এবং কারো আপত্তি না থাকায় ওসি মাহবুব আলমকে আটক করা হয়নি।

সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ বলেন, তিনি ঘটনাটি জেনেছেন। মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং কাউকে জানিয়েও তিনি রাজশাহীতে যাননি। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করাও অপরাধ।

তিনি বলেন, মাহবুব আলম ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম