ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের এ মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা শেষ হল আজ। তাও শিরোপা জয়ের আনন্দে নিজেদের উদ্ভাসিত করে। প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা তো নিশ্চিত হয়েছিল আগেই। এফএ কাপের পর এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মুকুটও ওঠলো আকাশী নীল জার্সিধারীদের মাথায়। পূরণ হল মহা আরাধ্য ট্রেবল জয়ের স্বপ্নও। আর এসব অর্জনের তালিকায় উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত বিরাজমান আর্লিং হলান্ড।
সিটির জার্সিতে পুরো মৌসুম জুড়েই পারফরম্যান্সের চূড়ায় অবস্থান করেছেন নরওয়েজিয়ান তারকা আর্লিং হল্যান্ড। এক গোল, দুই গোল, হ্যাটট্রিকে ভেঙেছেন অসংখ্য রেকর্ড। দলীয় আর ব্যক্তিগত অর্জনে যেন নিজের সাথেই প্রতিযোগিতায় ছিলেন তিনি। আর সিটির হয়ে নিজের প্রথম মৌসুমেই অর্জনের ষোলোকলা পূর্ণ হলো তার।
এ মৌসুমের শুরতে বুরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে সিটিতে যোগ দেন হলান্ড। সবচেয়ে তরুণ ফুটবলার হিসেবে দ্রুততম সময়ে চযাম্পিয়ন্স লিগে ৩০ গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। লাইপজিগের বিপক্ষে সিটির ম্যাচে একাই করেন পাঁচ গোল। এ মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্টে ১২ গোল করে আছেন শীর্ষে। আর কাল ইন্টার মিলানের বিপক্ষে সিটির ১-০ গোলের জয়ে ইউরোপ সেরার শিরোপার স্বাদও পেলেন তিনি।
প্রিমিয়ার লিগেও রীতিমতো গোল উৎসবে মেতেছিলেন সিটির এ স্ট্রাইকার, যেন পরিণত হয়েছেন এক গোল মেশিনে। অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে তিনি ভেঙেছেন অনেক রেকর্ড। সিটিজেনদের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে ৩৬ টি গোল করেছেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। এতেই ভেঙেছেন প্রায় তিন দশক ধরে টিকে থাকা রেকর্ড। ইংলিশ লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ (৩৪ টি) গোলের রেকর্ড ছিল এলান শিয়ারারের। এছাড়াও এ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতে মিলিয়ে ৫২ টি গোল করেছেন হলান্ড।
এ মৌসুমে লিগে সর্বোচ্চ গোল স্কোরারের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রিমিয়ার লিগ গোল্ডেন বুট জয়ী হন হলান্ড। সিটিজেনদের হয়ে তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে এ পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। আকাশী নীল জার্সিতে ২০১০-১১ মৌসুমে প্রথম গোল্ডেন বুট জয়ী হন কার্লোস তেভেজ, এরপর ২০১৪-১৫ মৌসুমে সার্জিও আগুয়েরো এমন কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।
প্রিমিয়ার লিগে এসেই অপ্রতিরোধ্য যাত্রায় হলান্ড সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মোট ৬ টি হ্যাটট্রিক করেছেন যার ৪ টিই প্রিমিয়ার লিগে। এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে কারণে গোল্ডেন বুট জয়ের পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগের 'বর্ষসেরা ফুটবলার ' এবং 'বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলার' এর পুরস্কারও ওঠেছে হলান্ডের হাতে। নিজেদের ইতিহাসে প্রথম চ্যাম্পিয়ন লিগ শিরোপা জয় করলো সিটি যা হলান্ডেরও প্রথম, এ জয়ে নিশ্চিত হয়েছে ইউরোপিয়ান ট্রেবল। ম্যানচেস্টারের দলটির হয়ে এবারের সব অর্জনেই আছে নরওয়েজিয়ান এ স্ট্রাইকারের অসামান্য কৃতিত্ব।
প্রিমিয়ার লিগে ম্যানসিটির হয়ে প্রথম মৌসুমেই ব্যক্তিগত ও দলীয় অর্জনে পুর্ণতা পেয়েছেন নরওয়ের এই ফুটবল তারকা। জয় করেছেন অসংখ্য মানুষের হৃদয়। মেসি-রোনালদো পরবর্তী যুগে ফুটবলের রাজত্বে যে তিনি খুব ভালো করে থাকবেন এ কথা তাই আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/টিএএস/আরএএম