অন্যান্য বড় দলের মতই প্রস্তুতি ম্যাচেই অঘটনের সম্মুখীন হলো বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে নাস্তানাবুদ হয়েছে সাকিবের দল। যদিও বল হাতে প্রস্তুতিটা ভালই সেরেছেন বাংলাদেশী বোলাররা। কিন্তু ম্যাচের দ্বিতীয় আফগানদের দেওয়া মাঝারি লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমেই যেন যত বিপত্তি। ব্যাটারদের দৈন্যতায় ১৬১ রানের টার্গেটটাও যেন মনে হচ্ছিলো পাহাড়সম। যার ফলস্বরূপ আফগানদের কাছে ৬২ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে টাইগাররা।
আফগানদের দেয়া ১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্কোরবোর্ডে ১০০ রানও তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে সাকিবরা করতে পারল মোটে ৯৮ রান।
ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা চার হারের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার শেষ সুযোগ ছিল এই প্রস্তুতি ম্যাচ। তবে সেখানেও নিজেদের ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা ধরে রাখলো বাংলাদেশ। কোনো রকম লড়াই করতে পারেনি টাইগাররা।
যদিও আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে বল হাতে বাংলাদেশের শুরুটা খারাপ ছিল না। শেষের কয়েকটা ওভার বাদে নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল ম্যাচ। আফগানরা ৭ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১৬০ রান। টার্গেট তাড়া করতে নেমে ইতিবাচক ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং। নাজমুল হাসান শান্ত আর মেহেদী মিরাজ মিলে প্রথম দুই ওভারে ১৮ রান তোলেন। কিন্তু এরপরই যেন মড়ক লাগে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে।
নাজমুল হাসান শান্তর বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কম কথা হয়নি। আবারো ব্যর্থ হয়েছেন এই ওপেনার। তৃৃতীয় ওভারেই ফজল হক ফারুকীর বলে কাটা পড়েন শান্ত। সরাসরি বোল্ড হয়ে ফেরার আগে করেন ৯ বলে ১২ রান তিনি।
শান্তর পর ব্যাট করতে নেমেছিলেন সৌম্য। যেন আসলেন আর ফায়ার গেলেন। মুজিবের করা বল এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে স্ট্যাম্পিং হয়ে ফিরেন। ফেরার আগে করেছেন ৪ বল খেলে ১ রান।
সৌম্যকে অনুসরণ করেন অধিনায়ক সাকিব এবং আফিফও। পঞ্চম ওভারের শেষ দুই বলে ফজল হক ফারুকীর দুই শিকার হয়ে ফিরে গেছেন তারা। দুজনই সমান চার বল মোকাবিলা করে করেছেন ১ রান।
৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন ঘোরতর বিপর্যয়ে, এ সময় হাল ধরার দরকার ছিল অন্যদের। উচিত ছিল একপ্রান্তে সতীর্থদের আসা-যাওয়া দেখা মিরাজকে সঙ্গ দেয়া। একাদশে না থাকা ইয়াসির আলি রাব্বিকে সুযোগ দেয়া হয়েছিল ব্যাটিংয়ের। কিন্তু তিনি পারলেন না। ফরিদ আহমেদের বলে সাজঘরে ফিরলেন।
ত্রিদেশীয় সিরিজে রান পাননি, আজ প্রস্তুতি ম্যাচেও হতাশ করলেন ভাইস ক্যাপ্টেন নুরুল হাসান সোহান। ফরিদ আহমেদের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন উইকেটকিপার এ ব্যাটার।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে হাসান মাহমুদ-সাকিবদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রথম থেকেই চাপে ছিল আফগানিস্তানের ব্যাটাররা। তবে শেষদিকে সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশি বোলাররা।
১৮ ওভার শেষে আফগানদের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেট হারিয়ে ১২৭ রান। ১৯ তম ওভারে সাকিব এক উইকেট তুলে নিলেও দুই ছক্কা ও এক চারে দেন ১৯ রান। এরপর ২০তম ওভারে তাসকিন ১৪ রান দিয়ে পান ১ উইকেট।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরআইটি/আরএএম