মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জর শমশেরনগর ইউনিয়নের ভাদাইর দেউল এলাকার নূরজান বেগমের সন্তান হারানোর ১৩দিনের মাথায় আগুনেপুড়ে তার বসতঘর ছাই হয়েছে। বসতঘর পুড়ে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে দিন। মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরিবারের মালামাল ও বসতঘর পুড়ে প্রায় ৩ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, নূরজান বেগমের সন্তান নূর ইসলাম মোল্লাহ ১৩ দিন আগে অসুস্থ হয়ে মারা যান। সেই শোকের মধ্যে তাদের বসতঘরে বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিট থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আগুন লাগে। এলাকাবাসী ও কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নিয়ন্ত্রণে যতক্ষণে আসে এর আগেই ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
আগুন লাগার বিষয়ে নূরজান বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, কিভাবে আগুন লাগলো আমরা জানি না। আমার ছেলে ১৩ দিন আগে মারা গেছে। ছেলের বউ এখন অন্তঃসত্ত্বা। এক ছেলে প্রতিবন্ধী তাদেরকে নিয়ে আমি এখন কোথায় যাবো বুঝতে পারছি না। সন্তান, বসতঘর ও মালামাল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন বলে নূরজান বেগম জানান।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. জুয়েল আহমদ বলেন, আমি ব্যক্তিগত ভাবে নূরজান বেগমের ঘরের জন্য চালের টিনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কাজের লোকজন কাজ করছে। তাছাড়া পরিবারকে সরকারি ভাবে সহযোগিতা করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি আবেদন করেছি।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশেকুল হক বলেন, ‘স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহায্যের জন্য লিখিত আবেদন করলে বসতঘর হারানো পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে।’