সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিস্টরা পূজার উৎসবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। এ বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র-গণঅভ্যুথানের সাহসী বীর শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহদাৎ বাষির্কী উপলক্ষে আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিএনপি বিশ্বাস করে। বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের। এ দেশে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করবেন, এটাই প্রত্যাশা। তবে, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। ফ্যাসিষ্টরা যেন ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে বিভেদ, বিদ্বেষ ও সংঘাত সৃষ্টি করতে না পারে।
তিনি বলেন, নব্বইয়ের পরাজিত শক্তি এবং চব্বিশের পরাজিত শক্তি সবসময় একসঙ্গেই ছিলো। আর সবাই একসঙ্গে থেকে দেশের ব্যাংক লুট করেছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দুষ্কৃতিকারীদের কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ব্যাংক লুট করে যারা পালিয়েছে, তাদের কিছু দুষ্কৃতিকারী ঘাপটি মেরে আছে। তারা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে দৃষ্কৃতি করার চেষ্টা করছে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৯০-এর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সিরাজগঞ্জ থেকে এসে নিজের রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন তরুণ ছাত্রনেতা শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ। তার সেই আত্মদান এবং ৯ বছরের দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় তৎকালীন স্বৈরাচারের পতন ঘটেছিল। সেই রক্তক্ষয়ী পথ ধরেই পরবর্তীতে আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চেতনা প্রবাহিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান হুট করে একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে মিথ্যা মামলা, শারীরিক নির্যাতন, জেল-জুলুম সহ্য করেও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে আপসহীন মনোভাব দেখিয়ে গণতন্ত্রের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলেন এবং প্রবাসে থেকেও দেশনায়ক তারেক রহমান যে সাহসী নেতৃত্ব দিয়ে দূরদর্শী আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন-তারই চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে চব্বিশের জুলাই বিপ্লব।
প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করে শক্ত হাতে দমনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, যারা ক্রসফায়ার দিয়েছে, খুন করেছে এবং জনগণের টাকা লুটপাট করেছে, তাদের ব্যাপারে কোনো শিথিলতা দেখানো যাবে না। সরকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিলে জনগণ তাদের পাশে থাকবে।
শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং ডাকসুর সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন ও এজিএস নাজিম উদ্দিন আলমের যৌথ সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা, ঢাকা কলেজের সাবেক ভিপি ও বিএনপি স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম