বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরী হত্যা মামলায় তাঁর জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। মামলার অধিকতর তদন্ত, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের জন্য পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার আদালতে রিমান্ড শুনানি শেষে বিচারক মো. হাসান শাহাদাত এ আদেশ দেন।
শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মোতাসিম বিল্লাহ বলেন, তাঁর মক্কেল দীপ শারীরিকভাবে অসুস্থ। তিনি ঠিকমতো খাবার পাচ্ছেন না। তাঁর শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। দীপ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির একজন শিক্ষার্থী। তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে এভাবে রিমান্ডে নেওয়া ঠিক হচ্ছে না।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে, জোর করে তাঁর মক্কেলকে দিয়ে স্বীকার করানো হবে যে তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
এ সময় আদালতে সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারক।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, আসামি দীপ অত্যন্ত চতুর। তিনি অনেক কিছু জানেন, কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য স্বীকার করছেন না। মামলার অধিকতর তদন্ত ও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য তাঁকে আরও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দীপের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর আদালতের নির্দেশে চার দিনের পুলিশ রিমান্ডে ছিলেন দীপ। ওই সময় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলে দাবি করে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে তাহসিফকে তাঁর বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান দীপ। পরে তাহসিফ, দীপ ও মামলার আরেক সন্দেহভাজন জেরিকা তাসনিম দিশা বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন। একপর্যায়ে তাঁরা একটি রেস্টুরেন্টে খাবার খান। পরে দিশা বাসায় চলে যান।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে মাজার বস্তির ভেতর দিয়ে তুরাগ নদীর তীরবর্তী একটি মাঠে যাওয়ার পর কয়েকজন লোককে দেখে তাঁরা আলাদা হয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন দীপ।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, তাহসিফের মৃত্যুর আগে শেষবারের মতো দীপ ও দিশার সঙ্গে তাঁর দেখা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় সন্দেহভাজন দুজন কোনো না কোনোভাবে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দীপ মামলার ঘটনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। আসামি একাধিক প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং নীরবতা পালন করেছেন বলেও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ও ঘটনাস্থল নির্ধারণ, অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধারের জন্য দীপকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলে দাবি করে পুলিশ।
এর আগে গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে টঙ্গীর তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
পরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দীপকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
চার দিনের রিমান্ড শেষে মামলার অধিকতর তদন্ত, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন, জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধারের জন্য দীপকে ফের সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে পুলিশ। তবে শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম